১৯ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

দামুড়হুদায় ১১ রেলক্রসিং অরক্ষিত ॥ ঘটছে দুর্ঘটনা

সংবাদদাতা,দামুড়হুদা,চুয়াডাঙ্গা, ৭ নেবেম্বর ॥ চুয়াডাঙ্গা জেলার দামুড়হুদায় অসংখ্য অরক্ষিত রেলক্রসিং যেন মৃত্যর ফাঁদ। এগুলোতে প্রায়ই ঘটছে ছোটবড় দুর্ঘটনা। এসব দুর্ঘটনায় প্রাণ ঝরছে অনেকের। রেলওয়ে কর্তৃপক্ষের উদাসীনতায় রেলক্রসিংগুলোতে কোন লোকবল না থাকায় অরক্ষিত অবস্থায় রয়েছে দিনের পর দিন। একদিকে ক্রসিংগুলোতে লোকবলের অভাব, অন্যদিকে পথচারীদের অসাবধানতা- এ দুটি কারণে প্রায়ই দুর্ঘটনার কবলে পড়ে নিহত ও আহত হচ্ছেন অনেকে।

১৮৬২ সালের ১৫ নবেম্বর বাংলাদেশে প্রথম রেলপথ তৈরি হয় চুয়াডাঙ্গার দর্শনা থেকে কুষ্টিয়ার জগতি পর্যন্ত ৫২ কিলোমিটার। সে সময় ইংরেজরা চুয়াডাঙ্গা জেলার দামুড়হুদার দর্শনা থেকে রেলে চড়ে চলে যেতেন ভারতের কলকাতায়। কালের সাক্ষী রেলওয়ের গুরুত্বপূর্ণ চুয়াডাঙ্গা রুটে মোট ৫২ কিলোমিটার রেলপথ রয়েছে। বর্তমানে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে চলাচলকারী একমাত্র যাত্রীবাহী ট্রেন মৈত্রী এক্সপ্রেসও চুয়াডাঙ্গা জেলার দামুড়হুদার দর্শনা হয়ে কলকাতায় আসা-যাওয়া করছে সপ্তাহে চার দিন।

এছাড়াও দেশের দক্ষিণবঙ্গের সঙ্গে উত্তরবঙ্গসহ রাজধানী ঢাকা ও চট্টগ্রামের ছয়টি আন্তঃনগর এক্সপ্রেস ও তিনটি লোকাল মেল ট্রেন চলাচল করছে। এ রুটে খুলনা থেকে রাজধানী ঢাকায় প্রতিদিন আসা-যাওয়া করছে আন্তঃনগর ট্রেন সুন্দরবন ও চিত্রা এক্সপ্রেস।

রাজশাহীর উদ্দেশ্যে কপোতাক্ষ ও সাগরদাঁড়ি এক্সপ্রেস এবং পার্বতীপুরের উদ্দেশ্যে আসা-যাওয়া করছে রূপসা ও সীমান্ত এক্সপ্রেস। এছাড়াও লোকাল মেল ট্রেনের মধ্যে চুয়াডাঙ্গার ওপর দিয়ে চলছে খুলনা টু গোয়ালন্দ নকশীকাঁথা, খুলনা টু সৈয়দপুর রকেট এবং খুলনা টু চাঁপাইনবাবগঞ্জ মহানন্দা নামের তিনটি মেল ট্রেন।

তাছাড়া দর্শনা রেলবন্দর থেকে দেশের বিভিন্ন জায়গায় মালবাহী ও তেলবাহী ট্রেন চলাচল করছে প্রতিনিয়ত।

চুয়াডাঙ্গার ৫২ কিলোমিটার গুরুত্বপূর্ণ রেলপথে ৪৪টি অনুমোদিত এবং সাতটি অননুমোদিত রেলক্রসিং রয়েছে। অনুমোদিত ৪৪টি রেলক্রসিংয়ের মধ্যে মাত্র ৯টিতে গেটম্যান রয়েছে। বাকি ৩৫টিতে কোন গেটম্যান নেই। ফলে প্রায়ই ঘটছে দুর্ঘটনা। এছাড়া দামুড়হুদার ৩ টি রেলরুটের ১৩ টি রেলক্রসিংয়ের ১১টিই অরক্ষিত । গত ৫ বছরে ৮ জনের মৃত্যু ঘটেছে।

বাংলাদেশ রেলওয়ের চুয়াডাঙ্গা সহকারী নির্বাহী প্রকৌশলী জানান, চুয়াডাঙ্গায় রেলক্রসিংগুলো জনবলের অভাবে অরক্ষিত থাকায় দুর্ঘটনা ঘটছে। তবে শিগগিরই এগুলো আপগ্রেড করার একটি পরিকল্পনা রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ নিয়েছে; যা মন্ত্রণালয়ে বিবেচনাধীন।

যখনই এসব রেলক্রসিংয়ে কোন দুর্ঘটনা ঘটে তখনই রেল কর্তৃপক্ষের টনক নড়ে। তারই ফলশ্রুতিতে এসব অবৈধ রেলক্রসিংয়ের উভয় পাশে ‘সাবধান এই গেটে কোন গেটম্যান নাই, নিজ দায়িত্বে রেললাইন পার হউন’ লেখা সম্বলিত সাইনবোর্ড স্থাপন করেই দায়িত্ব শেষ করেছে রেল কর্তৃপক্ষ। বর্তমানে কয়েকটি ক্রসিংয়ে সে সাইনবোর্ডেরও অস্তিত্ব নেই।