১৯ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

কবিরাজ মাকে হত্যা করল পাগলি মেয়ে

নিজস্ব সংবাদদাতা, টাঙ্গাইল, ৭ নবেম্বর ॥ গোপালপুর উপজেলার হেমনগর ইউনিয়নের উদ্যমবর্ণী গ্রামে মেয়ের কথিত জিন-ভূতের চিকিৎসা করতে গিয়ে রোগীর হাতে খুন হয়েছেন কথিত কবিরাজ মা ফিরোজা বেগম (৫০)। শুক্রবার রাতে মেয়ে শামছুন্নাহারকে (৩৫) কথিত জিন-ভূতের চিকিৎসা করতে গেলে এ ঘটনা ঘটে। পুলিশ রাতেই মেয়েকে (রোগী) আটক করেছে। ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক তোলপাড় সৃষ্টি করেছে।

পুলিশ ও এলাকাবাসী জানায়, গোপালপুর উপজেলার বেলুয়া গ্রামের আব্দুস সাত্তারের স্ত্রী ফিরোজা বেগম দীর্ঘদিন ধরে কথিত জিন-ভূত ছাড়ানোর চিকিৎসা করে ‘কবিরাজ’ নামে পরিচিতি পান। তিনি অর্থের বিনিময়ে নিয়মিত ‘জিন-ভূতের’ চিকিৎসা করছিলেন। কয়েকদিন আগে ফিরোজা বেগমের মেয়ে তিন সন্তানের জননী শামছুন্নাহার অসুস্থ হয়ে ‘পাগলামী’ করতে থাকে। মেয়ের ওপর জিন-ভূতের ‘আছর’ হয়েছে বলে খবর পান কবিরাজ মা ফিরোজা বেগম। কথিত জিন-ভূতের আছরের শিকার মেয়ে শামছুন্নাহারের চিকিৎসা করতে কবিরাজ মা ফিরোজা শুক্রবার বিকেলে উপজেলার হেমনগর ইউনিয়নের উদ্যমবর্ণি গ্রামে মেয়ের বাড়িতে যান। ওইদিন রাতে দু’জনে (রোগী-কবিরাজ) কাছাকাছি বসে নানা ধরনের মন্ত্র পড়তে থাকে কবিরাজ মা ফিরোজা বেগম। কিছুক্ষণ পর ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে মেয়ে শামছুন্নাহার। বেশ কিছু সময় মা-মেয়ের মধ্যে চুলাচুলি হয়। এ দৃশ্য দেখে উপস্থিত লোকজন ভয়ে ঘর থেকে বের হয়ে যায়। এ সময় মেয়ে শামছুন্নাহার আরও ক্ষিপ্ত হয়ে কবিরাজ মা ফিরোজা বেগমের মুখ, নাক, কান কামড়িয়ে ছিঁড়ে ফেলে। এক পর্যায়ে শামছুন্নাহার কবিরাজ মায়ের গলা টিপে ধরে। রোগী মেয়ে শামছুন্নাহার কবিরাজ মা ফিরোজা বেগমের গলা টিপে ধরায় কিছুক্ষণ পর তার মৃত্যু হয়। খবর পেয়ে রাতেই গোপালপুর থানা পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে মেয়ে শামছুন্নাহারকে আটক ও মায়ের লাশ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়। এ ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে।

উত্তরাঞ্চলে শীত ॥ লেপ বানানোর হিড়িক

সমুদ্র হক ॥ হিমালয় পাদদেশীয় উত্তরাঞ্চলে শীত বুঝি এবার বেশ আগেভাগেই পড়তে যাচ্ছে। কার্তিকের শেষ সময়টায় শহরে ও গ্রামে লেপ বানোনোর কারিগরদের (স্থানীয় ভাষায় বলা হয় ধুনকর) একদ- ফুরসত নেই। নববিবাহিত মেয়ে-জামাইকে শীতের সময়টায় লেপ কম্বল দেয়ারও একটা রেওয়াজ আছে। শীতের মৌসুমে লেপের দামও খানিকটা চড়ে ওঠে- এমন কথাই বললেন কারিগর পলাশ। বগুড়া শহরের রেল ক্রসিংয়ের ধারে সারি হয়ে বসে থাকে ধুনকররা। ডাবল বিছানার লেপ বানতে খরচ সাড়ে ৭শ’ টাকা থেকে ১২শ’ টাকা। বগুড়ার চকলোকমান এলাকার শাহীনূর বেগম লেপ বানিয়ে নিয়ে যাচ্ছিলেন। হেসে বললেন, নিজের জন্য নয়, মেয়ে-জামাইকে শীতে লেপ দিতে হবে। একটা সময় শিমুলের তুলা দিয়েই লেপ বানানো হতো। বর্তমানে তিন ধরনের তুলায় লেপ বানানো হয়। কার্পাস শিমুল ও গার্মেন্টস থেকে আনা ছাঁট ফোম। টুকরো এই ফোমকে বলা হয় সিনথেটিক তুলা। প্রতিকেজি সিনথেটিক ১শ’ ২০ টাকা থেকে দেড় শ’ টাকা। শিমুল তুলার দাম বেশি, প্রতিকেজি ৬শ’ থেকে সাড়ে ৬শ’ টাকা।