১৬ ডিসেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

সাম্প্রতিক হত্যাকাণ্ডের ক্লু খুঁজে পাচ্ছে না তদন্তকারীরা

  • ওপর মহলকে খুশি রাখতেই ‘আইওয়াশ’

শংকর কুমার দে ॥ প্রগতিশীল প্রকাশক, মুক্তমনা লেখক, ব্লগার, পুলিশ হতাহত ও তাজিয়া মিছিলের প্রস্তুতিকালে গ্রেনেড হামলার ঘটনা এখনও ক্লুলেস। নির্ভরযোগ্য কোন তথ্য নেই, সন্দেহের ওপর ভরসা করে তদন্ত চলছে। ওপর মহলকে খুশি করার জন্য ‘আইওয়াশ’ ছাড়া তদন্তে দৃশ্যমান অগ্রগতি নেই। পুলিশ, ডিবি, র‌্যাব ও গোয়েন্দারা সাম্প্রতিক হত্যাকা-ে মামলার তদন্তের ভারে দিশেহারা। তার ওপর পুলিশের ওপর হামলার ঘটনা এখন গোদের ওপর বিষফোঁড়ার মতো হয়ে আতঙ্ক তাড়া করে বেড়াচ্ছে।

তদন্তকারী সূত্র জানায়, জাগৃতির প্রকাশক দীপন হত্যার অভিযোগে ফেনীর ফুলগাজী থেকে মুফতি জাহিদ হাসান মারুফকে গ্রেফতার করে ঢাকায় আনার পর জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। দীপন হত্যাকা-ের বিষয়ে কোন ক্লু খুঁজে পাননি তদন্তকারীরা। কোন ক্লু খুঁজে পায়নি মোহাম্মদপুরে অপর প্রকাশক আহমেদুর রশীদ চৌধুরী টুটুল, ব্লগার তারেক রহিম ও লেখক রণদীপম বসুকে কুপিয়ে জখম করার ঘটনায়ও। আশুলিয়ায় পুলিশ হত্যা ও জখম করার ঘটনার তদন্তও ক্লু-বিহীন একই বৃত্তে আটকা। হোসেনী দালানে তাজিয়া মিছিলের প্রস্তুতিকালে গ্রেনেড হামলায় হতাহতের ঘটনার কোন সুরাহা হয়নি।

সূত্র জানায়, সিরিজ ঘটনার মতো একটির পর একটি করে দুই বিদেশী খুন, মিরপুরের গাবতলীতে কর্তব্যরত পুলিশ খুন, হোসেনী দালানে তাজিয়া মিছিলের প্রস্তুতিতে গ্রেনেড হামলা, শাহবাগ আজিজ সুপার মার্কেটে প্রকাশক দীপন হত্যা, একই দিনে মোহাম্মদপুরে তিন প্রকাশক, লেখক ও ব্লগারকে জবাই করে হত্যার চেষ্টা ও সর্বশেষ আশুলিয়ায় পুলিশ হত্যার মতো ঘটনা ঘটানো হয়েছে। একটির তদন্ত শুরু না করতেই আরেকটি ঘটনার তদন্ত সামনে চলে আসছে। এ অবস্থায় এমনিতেই তদন্তের ভারে পুলিশ দিশেহারা। যে পুলিশ তদন্ত করে অপরাধী গ্রেফতার করবে সেই পুলিশই খুন ও আক্রান্ত হওয়ার ঘটনা এখন গোদের ওপর বিষফোঁড়ার মতো। বিশেষ করে ১৩ দিনের মাথায় দুই দফা হামলা চালিয়ে পুলিশ খুনের ঘটনায় রীতিমতো আতঙ্কের সৃষ্টি করা হয়েছে।তদন্ত সূত্র জানায়, গত ৮ মাসে একই কায়দায় কুপিয়ে ৫ প্রগতিশীল প্রকাশক, লেখক ও ব্লগারকে কুপিয়ে হত্যা করা হয় এবং ৩ জনকে কুপিয়ে গুরুতর জখম করার মামলার তদন্তের অগ্রগতি হয়েছে অনেকটাই লোক দেখানো। সন্দেহভাজন কয়েকজনের নাম উদ্ধার ও গ্রেফতার ছাড়া তদন্তে তেমন কোনো অগ্রগতি দেখাতে পারেনি পুলিশ, ডিবি, র‌্যাব ও গোয়েন্দা সংস্থা।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল শনিবার জাতীয় প্রেসক্লাবে এক অনুষ্ঠানে বলেছেন, ব্লগার হত্যাকা-ে জড়িতদের কয়েকজনকে শনাক্ত করা গেছে, বাকিদের শনাক্তের কাজ চলছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী গণমাধ্যমকর্মীদের প্রশ্নের জবাবে বলেন, সব ব্লগার হত্যার বিচার হবে। এরই মধ্যে দুটি মামলার চার্জশীট দেয়া হয়েছে এবং আরও দুটি মামলার চার্জশীট প্রক্রিয়াধীন। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আবারও আইএসের তৎপরতা বাংলাদেশে নেই দাবি করে বলেন, যারা একাত্তরে পরাজিত শক্তি তারাই আইএস, তারাই জঙ্গী, তারাই জামায়াত-শিবির। এসব হত্যাকা-ের পেছনে বাংলাদেশকে অস্থিতিশীল করার পাঁয়তারা রয়েছে। এটি দেশী ও আন্তর্জাতিক চক্রান্তের অংশ। দেশে যুদ্ধাপরাধের বিচার চলছে। এ বিচার ব্যাহত করতে বর্তমানে হত্যাকা- ঘটানো হচ্ছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে বলেও জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।

ঢাকা মহানগর পুলিশের উপ-কমিশনার (মিডিয়া) মুনতাসিরুল ইসলাম বলেছেন, পুলিশ, ডিবি, র‌্যাব ও গোয়েন্দা সংস্থাগুলো কাজ করে যাচ্ছে। ইতালীয় নাগরিক তাভেলা সিজার হত্যা রহস্য উন্মোচন করা হয়েছে। এ হত্যাকা-ে জড়িত পাঁচ গ্রেফতারকৃতের চারজন আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দী দিয়েছে। খিজির হত্যাকা-ে জড়িতদের গ্রেফতার করা হয়েছে। গাবতলীতে পুলিশ হত্যাকা-ে জড়িত একজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। বাকিদের গ্রেফতারের জন্য অভিযান অব্যাহত রয়েছে। হোসেনী দালানে তাজিয়া মিছিলের প্রস্তুতির সময়ে গ্রেনেড হামলা এবং প্রকাশক দীপন হত্যা নিয়ে কাজ চলছে।

তদন্তের তদারকির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) এক উপ-কমিশনার (ডিসি) বলেন, একের পর এক অনেক ঘটনার তদন্ত এসে কাঁধে পড়েছে। তদন্ত ও অপরাধী গ্রেফতার চলছে। তবে জামায়াত-শিবিরের মদদে জেএমবি, হুজি, হিযবুত, আনসারুল্লাহ বাংলা টিমসহ বেশ কয়েকটি জঙ্গী সংগঠন সক্রিয় তৎপর হয়ে খুন-জখম করছে। জঙ্গী সংগঠনগুলোর সদস্যরা ‘কাট অফ’ বা ‘কাট আউট’ পদ্ধতিতে একের পর এক প্রগতিশীল প্রকাশক, লেখক, ব্লগার খুন করে যাচ্ছে। তারাই পুলিশ হত্যায় জড়িত বলে তদন্তে ধারণা পাওয়া যাচ্ছে। হত্যাকারীরা একে অপরকে চেনে না এবং না চেনার জন্য শনাক্ত করতেও বিলম্ব হচ্ছে। তারা ধরাছোঁয়ার বাইরে থাকতে মোবাইল ফোনের প্রযুক্তি এড়িয়ে চলছে। অনলাইনভিত্তিক সুরক্ষিত ব্যবস্থায় যোগাযোগ মাধ্যম গড়ে তুলেছে। এসব কারণে খুনীদের শনাক্ত, গ্রেফতার ও খুনের রহস্য উদ্ঘাটনে একটু সময় লাগছে। তবে খুনীদের ধরা পড়তেই হবে।

নির্বাচিত সংবাদ