১৪ ডিসেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

বিশ্বের ৬৯ দেশে বাংলাদেশ মিশনে এমআরপি ছাপানোর সিদ্ধান্ত হচ্ছে

  • ২৪ নবেম্বরের মধ্যে সব প্রবাসীর হাতে পাসপোর্ট পৌঁছানো নিয়ে সংশয়

স্টাফ রিপোর্টার ॥ বিশ্বের ৬৯টি দেশে অবস্থিত বাংলাদেশের দূতাবাস ও হাইকমিশনে মেশিন রিডেবল পাসপোর্ট (এমআরপি) ছাপানোর সিদ্ধান্ত নেয়া হচ্ছে। এজন্য বাংলাদেশ বহিরাগমন ও পাসপোর্ট অধিদফতরের একটি প্রতিনিধিদল সিঙ্গাপুর সফর করে এসেছেন। তারা সেখানে ভারত ও ইন্দোনেশিয়া কোন্্ প্রক্রিয়ায় দূতাবাস বা হাইকমিশন থেকে পাসপোর্ট ছাপিয়ে তাদের নাগরিকদের হাতে দিচ্ছেন, সেই কার্যক্রম পরিদর্শন করেছেন। সফর শেষে বিষয়টি স্বরাষ্ট্র ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে অবহিত করা হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে উভয় মন্ত্রণালয় এ সপ্তাহেই বৈঠকে বসার কথা রয়েছে। ওই বৈঠকে ঠিক হতে পারে দূতাবাস বা হাইকমিশন থেকে পাসপোর্ট ছাপিয়ে প্রবাসীদের দেয়ার। ২৪ নবেম্বর প্রবাসীদের হাতে এমআরপি দেয়ার শেষ দিন। এই সময়ের মধ্যে প্রায় সাড়ে ৮ লাখ প্রবাসীর হাতে এমআরপি পৌঁছাতে হবে। তা না হলে প্রায় সাড়ে ৩ লাখ প্রবাসীকে দেশে ফিরতে হতে পারে।

সূত্র জানিয়েছে, প্রবাসে থাকা প্রায় সাড়ে ৮ লাখ ব্যক্তির হাতে মেশিন রিডেবল পাসপোর্ট (এমআরপি) এখনও পৌঁছেনি। নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে সাড়ে ৮ লাখ প্রবাসীর হাতে এমআরপি তুলে দেয়া সম্ভব হবে না বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। যে গতিতে প্রবাসীদের হাতে এমআরপি দেয়া হচ্ছে তাতে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে সাড়ে চার থেকে ৫ লাখ প্রবাসীর হাতে এমআরপি দেয়া সম্ভব হতে পারে। এরপরও বাকি থেকে যাবে ৩ থেকে সাড়ে ৩ লাখ প্রবাসী। বাকিদের ২৪ নবেম্বরের পর দেশে ফিরতে হবে। এমন আশঙ্কার কথা জনিয়েছে, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়। তবে পররাষ্ট্র ও স্বরাষ্ট্র, বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয় বলছে, নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে প্রবাসীদের হাতে এমআরপি তুলে দেয়া সম্ভব হবে। এ জন্য বিদেশে অবস্থিত দূতাবাস বা হাইকমিশন থেকে পাসপোর্ট ছাপানো হবে। যাতে প্রবাসীরা দ্রুত সময়ের মধ্যে পাসপোর্ট হাতে পান।

সম্প্রতি স্বরাষ্ট্র ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বৈঠকের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী দূতাবাস ও হাইকমিশন থেকে কিভাবে পাসপোর্ট ছাপানো হচ্ছে এটি পরিদর্শনে বহিরাগমন ও পাসপোর্ট অধিদফতরের মহাপরিচালক এন এম জিয়াউল আলমের নেতৃত্বাধীন প্রতিনিধিদল ২ থেকে ৫ নবেম্বর সিঙ্গাপুর, ভারত ও ইন্দোনেশিয়ার পাসপোর্ট কার্যক্রম পরিদর্শন করেন। এই দলে অন্য সদস্যরা ছিলেন, এমআরপি এবং এমআরভি প্রকল্পের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোঃ মাসুদ রেজওয়ান, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মহাপরিচালক (কনস্যুলার ও কল্যাণ) মোঃ লুতফর রহমান, সিঙ্গাপুরে বাংলাদেশ হাই কমিশনের কাউন্সিলর নিজাম উদ দৌলা, মোঃ নুরুন নবী, আয়শা সিদ্দিক শেলী ও মোঃ ফারুক হোসেন।

প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদিশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, প্রবাসে ৮৮ লাখ বাংলাদেশী বসবাস করছেন। এর মধ্যে ৭৫ লাখের কিছু বেশি মানুষের এমআরপি দেয়া সম্ভব হয়েছে। বাকিদের এমআরপি এখনও হয়নি। আগামী ২৮ দিনের মধ্যে এই বিপুলসংখ্যক লোকের হাতে এমআরপি দিতে পারবে না পাসপোর্ট অধিফতর। বর্তমানে প্রতিদিন প্রবাসে সাড়ে ৪ থেকে ৫ হাজার পাসপোর্ট ইস্যু করতে পারছে। এই হিসাবে আগামী ২৪ নবেম্বর পর্যন্ত আরও চার থেকে পাঁচ লাখ প্রবাসী এমআরপি পেতে পারেন। বাকি ৩ থেকে সাড়ে ৩ লাখ প্রবাসী এমআরপি পাবেন না। তাদের দেশে ফিরে আসতে হবে। কোন কোন দেশের দূতাবাস বা হাইকমিশনের কর্মকর্তারা অনেককেই ‘আউট পাস’ নিয়ে রাখতে বলেছেন। যাতে দেশে ফিরতে অসুবিধায় পড়তে না হয়।

সূত্র জানিয়েছে, প্রবাসীদের এমআরপি দেয়ার কাজ যথা সময়ের আগে শেষ হচ্ছে না। এখন পর্যন্ত ৭৫ লাখ প্রবাসীর হাতে এমআরপি তুলে দেয়া হয়েছে। বাকি ৮ থেকে ৯ লাখ প্রবাসীর হাতে এমআরপি দেয়ার কাজ বাকি রয়েছে। এই পাসপোর্টগুলো ২৪ নবেম্বরের মধ্যে শেষ করতে না পারলে কয়েক লাখ প্রবাসীকে দেশে ফিরে আসতে হবে। এমনিতেই বর্তমানে কোন দেশে কর্মী নিয়োগ হচ্ছে না। তার ওপর যদি কয়েক লাখ কর্মীকে দেশে ফিরে আসতে হয়, সেটা দেশের শ্রমবাজারের জন্য চরম ক্ষতির বিষয় হবে।

জানা গেছে, আইকাওয়ের প্রেসিডেন্ট বাংলাদেশের অনুরোধ নাকচ করে দিয়ে সাফ জানিয়ে দিয়েছে এমআরপি দেয়ার সময়সীমা আর বাড়ানো হবে না। এখন আইকাওয়ের আর কিছু করার নেই। আইকাওয়ের এই জবাবের পর বাংলাদেশ বিষয়টির গুরুত্ব আরোপ করেছে। স্বরাষ্ট্র, পররাষ্ট্র, বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন এবং প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয় ওই ঘোষণার পর বেশ কয়েক দফা আন্তঃমন্ত্রণালয় বৈঠক হয়েছে। এখন আন্তঃমন্ত্রণালয়ের বৈঠকের পর বলা হচ্ছে, নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই প্রবাসীদের হাতে এমআরপি তুলে দেয়া সম্ভব হবে।