২৫ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

রাজনীতির নামে সন্ত্রাস ॥ চবি ছাত্রলীগ নিয়ে কঠোর অবস্থানে প্রধানমন্ত্রী

রাজনীতির নামে সন্ত্রাস ॥ চবি ছাত্রলীগ নিয়ে কঠোর অবস্থানে প্রধানমন্ত্রী
  • অর্ধ শতাধিক চিহ্নিত ॥ আইনগত ব্যবস্থা ও বহিষ্কারের বার্তা

মোয়াজ্জেমুল হক/ রহমান শোয়েব ॥ চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রলীগের দু’গ্রুপের সর্বশেষ সংঘর্ষের ঘটনায় প্রধানমন্ত্রী ভীষণ ক্ষুব্ধ হয়েছেন এবং বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে ছাত্রলীগের নাম ব্যবহার করে যারা ক্যাম্পাসকে অস্থিতিশীল করার অপতৎপরতায় লিপ্ত তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা ছাড়াও প্রয়োজনে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বহিষ্কারের বার্তা দিয়েছেন। চবির দায়িত্বশীল একটি সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে। ইতোমধ্যে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ছাত্রলীগের দু’গ্রুপের অর্ধশত নেতাকর্মীর তালিকা প্রণয়ন করেছেন। এদের মধ্যে প্ররোচনা দানকারীদের নামও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, শিক্ষকদের মধ্যে ক্ষুদ্র একটি অংশও ছাত্রলীগের সন্ত্রাসী নেতাকর্মীদের নানাভাবে প্রতিনিয়ত প্ররোচনা দিয়ে থাকেন। এসব বিষয় নিয়ে উচ্চপর্যায় থেকে চূড়ান্ত সিগন্যাল পাওয়া গেলে এদের ভাগ্য বিপর্যয় ঘটতে পারে। সর্বশেষ গত ২ নবেম্বর চবি ক্যাম্পাসে ছাত্রলীগের দু’গ্রুপের সংঘর্ষের ঘটনার পর দুটি আবাসিক হলে পুলিশী অভিযানে অস্ত্রশস্ত্র উদ্ধার হয়। মামলা হয় ৩টি। গ্রেফতার করা হয়েছে ৩৭ জনকে। বহিষ্কার করা হয়েছে ২ জনকে। তারা হচ্ছে ম্যানেজমেন্ট স্টাডিজের মিজানুর রহমান খান ও চারুকলা বিভাগের মোফাজ্জল হায়দার হোসেন। ঘটনার দিন এরা ধারালো অস্ত্রে যে শান দিচ্ছিল তার সচিত্র ছবি রেকর্ডে আনা হয়েছে। গ্রেফতারকৃতরা সকলেই চবি ছাত্রলীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের অনুসারী। গত ২ নবেম্বর ছাত্রলীগের এ সংঘর্ষ যখন ঘটে সেদিন ছিল বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষার প্রথম দিন। সংঘর্ষের এ ঘটনায় ভর্তিচ্ছু ও তাদের সঙ্গে আসা অভিভাবকরা ছিলেন চরম শঙ্কিত। তারপরও প্রশাসনের কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থায় মোটামুটি শান্তিপূর্ণভাবে পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়েছে। তবে এমন অভিযোগও রয়েছে, তৃতীয় দিন বেশকিছু পরীক্ষার্থী পরীক্ষা দিতে যায়নি। পরিসংখ্যান অনুযায়ী ওই দিন ভর্তিচ্ছুদের উপস্থিতির হার ১০ শতাংশ কম ছিল।

উল্লেখ্য, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে গত দুই যুগে ছাত্র সংগঠনগুলো অন্তর্কোন্দলের জের হিসেবে বিশ্ববিদ্যালয়কে উপহার দিয়েছে ১৯ শিক্ষার্থীর লাশ। এর মধ্যে গত পাঁচ বছরেই ছাত্র সংগঠনগুলোর সহিংসতায় নিহত হয়েছেন ৭ শিক্ষার্থী। পঙ্গুত্ব বরণ করেছেন আরও অনেকে। এছাড়া ছাত্র সংগঠনগুলোর মধ্যে সংঘর্ষ বেধেছে শতাধিক। রক্ত ঝড়েছে বহু শিক্ষার্থীর। কিন্তু অবাক ঠেকলেও সত্য এসব ঘটনার একটিরও বিচারের নজির বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাসে নেই। এসব হত্যাকা- ও সহিংসতা যেমন বিশ্ববিদ্যালয়ে রুটিন কর্মসূচীর মতো, তেমনি বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষেরও কিছু রুটিন কাজ রয়েছে। আর তা হলো প্রতিটি সংঘাতের পরই তদন্ত কমিটি গঠন করা এবং মামলা দায়ের করা। এসব মামলা কখনও পুলিশ কখনও বা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন দায়ের করে। তবে এর বেশি আর দায়িত্ব নিতে চায় না কেউ। অর্থাৎ তদন্ত কমিটির তদন্ত প্রতিবেদন যেমন কখনও আলোর মুখ দেখে না, তেমনি মামলাগুলোও অজ্ঞাত কারণে পড়ে থাকে ফাইলবন্দী। ফলে নিশ্চিত হয় না অপরাধীর শাস্তি। অপরাধীরা পায় আশকারা। চবির গত দুই যুগের ইতিহাস ঘাটলে এমন চিত্রই উঠে আসে।

পরিসংখ্যান অনুযায়ী, বিশ্ববিদ্যালয়ে গত আট বছরে হত্যা, হামলা ও সংঘাতের ঘটনায় প্রায় অর্ধশত তদন্ত কমিটি গঠিত হয়েছে। মামলাও দায়ের হয়েছে প্রায় সমসংখ্যক। কিন্তু এসব তদন্ত কমিটির অনেকগুলোই জমা দেয়নি তদন্ত প্রতিবেদন। আবার কেউ কেউ তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিলেও অজ্ঞাত কারণে সেসব প্রতিবেদন তোলা হয় না সিন্ডিকেটে। দোষীদের বিরুদ্ধে নেয়া হয় না ব্যবস্থা। আবার মামলাগুলোর ক্ষেত্রেও একই অবস্থা। রাজনৈতিক প্রভাবের কারণে পুলিশ চাইলেও দোষীদের গ্রেফতার করতে পারে না। কদাচিৎ সংঘর্ষের পর কাউকে গ্রেফতার করলেও অল্প কিছুদিনের মধ্যেই আবার আসামিরা জামিনে বেরিয়ে যায়। নতুন করে লিপ্ত হয় সংঘর্ষে।

তবে বিশ্ববিদ্যালয়ে সাধারণ শিক্ষার্থী, সাংবাদিকদের ওপর হামলা, ছাত্রী লাঞ্ছিত, চাঁদাবাজিসহ বেশকিছু ঘটনায় বিচ্ছিন্নভাবে জড়িতদের বহিষ্কার করতেও দেখা গেছে। তবে এসব বহিষ্কারাদেশের কার্যকারিতা নিয়েও রয়েছে প্রশ্ন। বহিষ্কার হয়েও পরীক্ষায় অংশ নেয়ার নজির এ বিশ্ববিদ্যালয়ে আছে। গত বছরের ৫ এপ্রিল আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় এক নেতার গলায় জুতোর মালা দেয়ার অভিযোগে তিন মাসের জন্য বহিষ্কার করা হয় ছাত্রলীগ কর্মী মেহেরাজ হোসেনকে। কিন্তু বহিষ্কার হওয়ার পরও তিনি পরীক্ষায় অংশ নিয়েছেন। তাই প্রশ্ন উঠেছে বিশ্ববিদ্যালয়ে যাদের বিভিন্ন মেয়াদে বহিষ্কার করা হচ্ছে সেসব বহিষ্কারাদেশ কতটা কার্যকর থাকে। তাছাড়া একটি সহিংসতার ঘটনায় বহিষ্কৃত নেতা বা কর্মী তার বহিষ্কারের মেয়াদ না ফুরাতেই ফের জড়িয়ে পড়েন আরেকটি সহিংসতায়। কিন্তু এসব বিষয় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের নজর এড়িয়ে যায় প্রায়ই।

অন্যদিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন ঘটনায় দায়েরকৃত মামলাগুলোরও একই হাল। মামলার তদন্ত কাজের যেন ইতি ঘটতেই চায় না। এছাড়া মামলার প্রকৃত আসামিরা ক্যাম্পাসে দিব্যি ঘুরে বেড়ালেও রাজনৈতিক প্রভাবের অজুহাতে পুলিশ তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয় না। গত ১৪ ডিসেম্বর শহীদ বেদিতে ফুল দেয়া নিয়ে সংঘর্ষে জড়ায় ছাত্রলীগের দুগ্রুপ। দুগ্রুপের রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে নিহত হয় তাপস সরকার নামের এক ছাত্রলীগ কর্মী। পরবর্তীতে নানা নাটকীয়তার পর হাটহাজারী থানা পুলিশ মামলা নেয়। গ্রেফতার করা হয় এজাহারভুক্ত আসামিদের অনেককেই। কিন্তু কয়েক মাসের মধ্যেই আসামিরা সবাই জামিনে বের হয়ে আসে। অন্যদিকে মামলার প্রধান আসামি আশরাফুজ্জামান আশা রয়েছেন এখনও ধরাছোঁয়ার বাইরে। এর আগে মৌলবাদী প্রতিক্রিয়াশীল গোষ্ঠী শিবিরের আক্রোশের ভয়াবহতা দেখে চবি। গত বছর ১০ সেপ্টেম্বর শিবির চক্র বোমা হামলা চালায় দুটি শিক্ষক বাসে। জঙ্গী কায়দায় চালানো সেই হামলায় আহত হন বিশ্ববিদ্যালয়ের ১১ শিক্ষাকসহ মোট ১৫ জন। এ ঘটনার পরও পুলিশ আটক করে শিবিরের বেশকিছু দুর্ধর্ষ ক্যাডারকে। ঘটনায় জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে চার শিবির ক্যাডার আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দীও দেন। এ মামলারও অগ্রগতি এটুকুই। পরবর্তীতে সবাই জামিনে মুক্ত হয়ে এখন দিব্যি ঘুরে বেড়াচ্ছে। এছাড়া গত বছর ১২ জানুয়ারি চবির শাহ আমানত হলে ছাত্রলীগ-শিবির সংঘর্ষে নিহত হন শিবির নেতা মামুন হোসেন। এর আগে ২০১২ সালে এ দুটি ছাত্র সংগঠনের রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে নিহত হয় শিবিরের দুই নেতা মুজাহিদ ও মাসুদ বিন হাবিব। তারও আগে ২০১০ সালে খুন হন বিশ্ববিদ্যালয়ে দুই শিক্ষার্থী মহিউদ্দিন মাসুম ও হারুন-অর রশীদ কায়সার। এসব হত্যাকা-ের ঘটনায়ও যথারীতি হয়েছে মামলা, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন গঠন করেছে তদন্ত কমিটি। কিন্তু এসবের কোনটিই এখন পর্যন্ত আলোর মুখ দেখেনি। হত্যাকারীরা রয়েছেন ধরাছোঁয়ার বাইরে।

অনেক সময়ই বিশ্ববিদ্যালয় গঠিত তদন্ত কমিটিগুলো দায়সারাভাবে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেয়। ২০১২ সালের দুই শিবির কর্মী নিহত হওয়ার পর তদন্ত কমিটি ঘটনার জন্য শিবিরকে দায়ী করে তদন্ত প্রতিবেদন দেয়। কিন্তু সেখানে দোষীদের নাম ঠিকানা সঠিকভাবে উল্লেখ হয়নি বলে তা পুনরায় সঠিকভাবে লিপিবদ্ধ করার নির্দেশ দেয়া হয়। এখন পর্যন্ত তা সে অবস্থাতেই রয়ে গেছে। এছাড়া ২০১৪ সালের আমানত হলে শিবির নেতা নিহতের ঘটনায় গঠিত তদন্ত কমিটি তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেয় শুধু ঘটনার বর্ণনা দিয়েই। সেখানে ছাত্র খুন বা সংঘর্ষের ঘটনার সঙ্গে জড়িত কারও নাম উঠে আসেনি। এছাড়া ছাত্রলীগ কর্মী তাপস সরকার হত্যাকা-ের ঘটনায়ও তদন্ত কমিটি কয়েক দফা সময় বাড়িয়ে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিলেও তদন্ত প্রতিবেদনের বিষয়ে প্রশাসনের কেউ মুখ খুলতে রাজি হয়নি। এমনকি এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত জড়িতদের বিরুদ্ধে কোন শাস্তিমূলক ব্যবস্থাও নেয়া হয়নি। এছাড়া বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের বিভিন্ন উপগ্রুপের মধ্যে প্রায়ই সংঘর্ষের ঘটনায় গঠিত তদন্ত কমিটির অনেকগুলোই এখনও তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে পারেননি। দু’একটি ঘটনার প্রতিবেদন জমা দেয়া হলেও তা রয়েছে ফাইলবন্দী। সঙ্গত কারণেই প্রশ্ন উঠেছে চবিতে তদন্ত কমিটি গঠনের প্রয়োজনীয়তাই বা কি। এমতাবস্থায় গত ২ নবেম্বর ফের চবিতে ছাত্রলীগের দু’গ্রুপে সংঘর্ষের ঘটনায় গঠন করা হয়েছে তদন্ত কমিটি। কমিটিকে ১৫ কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে।

এ বিষয়ে চবি প্রক্টর আলী আজগর চৌধুরী জনকণ্ঠকে বলেন, ‘বিগত সময়ে বিভিন্ন ঘটনার আলোকে গঠিত তদন্ত কমিটির অনেকগুলোই তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেয়নি, আবার অনেকে দিয়েছে। এমতাবস্থায় বর্তমানে যেসব ঘটনার তদন্ত চলছে সেগুলোর প্রতিবেদন হাতে পেলে বর্তমান প্রশাসন সেসবের আলোকে কার্যকর ব্যবস্থা নেবে।’

এদিকে নবনিযুক্ত ভিসি ড. ইফতেখার উদ্দিন ছাত্রলীগ বা কোন সংগঠন নেতাকর্মীদের কোন ধরনের অবৈধ সুযোগ সুবিধা না দিতে দৃঢ় প্রতিজ্ঞ অবস্থান নিয়েছেন। জনকণ্ঠকে তিনি শনিবার জানান, উচ্চপর্যায় থেকে যে বার্তা পাওয়া গেছে তা কার্যকর করার লক্ষ্যে প্রক্রিয়া চলছে। প্রায় অর্ধশত ছাত্র ক্যাম্পাসকে বিভিন্ন অপকর্মের মাধ্যমে উত্তপ্ত করার কাজে লিপ্ত রয়েছে। শুধু তাই নয়, উচ্চপর্যায়ের কঠোর বার্তা ছাড়াও ছাত্রলীগের অভিভাবক সংগঠন চট্টগ্রাম মহানগরী আওয়ামী লীগের সভাপতি এবিএম মহিউদ্দিন চৌধুরী ও সাধারণ সম্পাদক এবং সিটি মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দিনও চবি প্রশাসনকে একই বার্তা দিয়েছেন। এ অবস্থায় দ্বিধাবিভক্ত ছাত্রলীগ নেতাকর্মীরা শঙ্কিত অবস্থায় রয়েছে। আর এ কারণে দু’গ্রুপের দুই নেতাকে তড়িঘড়ি করে বিশ্ববিদ্যালয়ের ঘটনা নিয়ে সংবাদ সম্মেলন করতে দেখা গেছে।

ক্যাম্পাস সূত্রে জানা গেছে, মূলত রাজনীতির চেয়ে টেন্ডারবাজির মাধ্যমে অবৈধ পথে অর্থ উপার্জনের লক্ষ্য এবং ছাত্র ভর্তিতে অবৈধ সুযোগ নিয়ে অর্থ হাতিয়ে নেয়ার ঘটনা নিয়ে দীর্ঘদিন দিন ধরে চবিতে ছাত্র সংগঠনগুলোর নেতাদের রাজনীতির নামে অপরাজনীতি পরিচালিত হয়ে আসছে। আগে ছিল শিবিরের আধিপত্য। এখন সে স্থান দখলে নিয়েছে ছাত্রলীগ। এসব সন্ত্রাসী নেতাকর্মীরা অভিভাবক সংগঠন নেতাদের নাম ব্যবহার করে ফায়দা লোটার তৎপরতায় থাকে। প্রশাসন তাদের অবৈধ কাজে সায় না দিলে নানা অঘটনের জন্ম দিয়ে ক্যাম্পাসকে অস্থিতিশীল করার তৎপরতায় লিপ্ত হয়। গত ২ নবেম্বর ছাত্রলীগের দু’গ্রুপের সর্বশেষ ঘটনার আগে যে বড় ধরনের সংঘর্ষ হয় সে ঘটনার পর প্রধানমন্ত্রী সরকারী সফরে চট্টগ্রাম এসে চবি ছাত্রলীগের কর্মকা- নিয়ে উষ্মা প্রকাশ করা এবং চবি প্রশাসন ও আওয়ামী নেতাদের ডেকে যে ছাত্রলীগ সন্ত্রাসী তৎপরতায় লিপ্ত তাদের ছাত্রলীগে রাখার প্রয়োজন নেই বলে নির্দেশ দিয়ে যান। শুধু তাই নয়, তাদের বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বহিষ্কারের পাশাপাশি আইনের হাতে তুলে দেয়ারও নির্দেশ দিয়ে যান। এরপর বেশকিছু দিন চবিতে ছাত্রলীগ ভীতসন্ত্রস্ত অবস্থায় অবস্থান করে। কিন্তু এখন আবার নতুন করে সন্ত্রাসী তৎপরতা গজিয়ে উঠার লক্ষণ দেখা যাচ্ছে। যার ফলে গত ২ নবেম্বর নতুন করে ভর্তি পরীক্ষার দিনে তারা সংঘর্ষে লিপ্ত হয়ে হাজার হাজার অভিভাবকের সম্মুখে ন্যক্কারজনক ঘটনার জন্ম দিতে দ্বিধা করেনি। যা শুধু ছাত্রলীগের নয়, আওয়ামী লীগ তথা সরকারের ভাবমূর্তিকেও চরমভাবে ক্ষুণœ করেছে। ক্যাম্পাসের একাধিক সূত্র জানায়, ইতোমধ্যে যেসব সন্ত্রাসী ছাত্রলীগ নেতাকর্মী চিহ্নিত হয়েছে এদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা কার্যকর করা গেলে এ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি দূরীভূত হবে নিঃসন্দেহে।