২৫ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

১৬ ডিসেম্বরের আগেই মুজাহিদ-সাকার দণ্ড কার্যকর হতে পারে

  • আপীলে নিজামী ও ট্রাইব্যুনালে ননী তাহেরের মামলার রায় হবে

স্টাফ রিপোর্টার ॥ রাষ্ট্রপক্ষ আশা করছেন আগামী বিজয় দিবসের আগেই একাত্তরে মুক্তিযুদ্ধের সময় মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে আপীল বিভাগে মতিউর রহমান নিজামী ও ট্রাইব্যুনালে ননী-তাহেরের দুটি মামলার রায় হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। একই সঙ্গে রাষ্টপক্ষ আরও আশা করছেন আপীল বিভাগের মৃত্যুদ-প্রাপ্ত মুজাহিদ ও সাকা চৌধুরীর রিভিউ শুনানি নিষ্পতি হয়ে দ- কার্যকর হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। ১৭ নবেম্বর মুজাহিদ ও সাকার রিভিউ শুনানি অনুষ্ঠিত হবে। জামায়াতে ইসলামীর আমির মতিউর রহমানের আপীল শুনানি ৩ নবেম্বর হওয়ার কথা থাকলেও এক বিচারপতির অনুপস্থিতির কারণে হয়নি। আশা করা হচ্ছে শীঘ্রই এ মামলার শুনানি অনুষ্ঠিত হবে। অন্যদিকে নেত্রকোনার রাজাকার ওবায়দুল হক তাহের ও আতাউর রহমান ননীর বিরুদ্ধে প্রসিকিউশনের সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ হয়েছে। ৯ নবেম্বর থেকে তদন্ত কর্মকর্তার জবানবন্দী শেষ হবে। এ সব বিবেচনায় নিয়েই রাষ্ট্রপক্ষ মনে করছেন ডিসেম্বরের মধ্যেই দুই রায় ও দুটি দ- কার্যকর হওয়ার সম্ভাবনা বেশি।

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের সিনিয়র প্রসিকিউটর সৈয়দ হায়দার আলী জনকণ্ঠকে বলেছেন, আপীল বিভাগে মুজাহিদ ও সাকার মামলার রায় দ্রুত নিষ্পত্তি হবে। আমি আশা করতে পারি রিভিউয়ে আপীল বিভাগের দেয়া মৃত্যুদ-ই বহাল থাাকবে। সেক্ষেত্রে রায় কার্যকর ১৬ ডিসেম্বরের মধ্যেই হতে পারে। যদিও আসামিপক্ষের প্রধান আইনজীবী খন্দকার মাহবুব হোসেন মনে করছেন, তার মক্কেল রিভিউয়ে ন্যায়বিচার পাবেন। একই সঙ্গে আপীলে মতিউর রহমান নিজামীর মামলাটি দ্রুত নিষ্পত্তি হবে বলে আশা করছি। অন্যদিকে প্রসিকিউটর সাবিনা ইয়াসমিন খান মুন্নি জনকণ্ঠকে বলেছেন, ননী ও তাহেরের মামলাটি শেষ পর্যায়ে রয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে সাক্ষীদের সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ হয়েছে। ৯ নবেম্বর থেকে তদন্ত কর্মকর্তার জবানবন্দী শুরু হবে। এরপর ডিফেন্সের সাক্ষী গ্রহণ তারপর যুক্তিতর্ক। সেদিক দিয়ে আমি আশা করতেই পারি ১৬ ডিসেম্বরের আগেই আরও একটি রায় পেতে পারি।

২০১০ সালে মানবতাবিরোধী অপরাধীদের বিচারের জন্য ট্রাইব্যুনাল গঠনের পর এ পর্যন্ত ২১টি মামলার রায় হয়েছে। তার মধ্যে ২৪ জনকে বিভিন্ন দ- প্রদান করা হয়েছে। এর মধ্যে ১৭ জনকে মৃত্যুদ- দেয়া হয়েছে। আপীল নিষ্পত্তি শেষে দুইজনের দ- কার্যকর করা হয়েছে, যাবজ্জীবন একজনকে, ৯০ বছরের কারদ- একজন ও আমৃত্যু কারাদ- ৫ জন। এখন রিভিউ নিষ্পত্তির অপেক্ষায় রয়েছে মুজাহিদ ও সাকা চৌধুরীর। গত ২ নবেম্বর মুজাহিদ ও সাকার রিভিউ শুনানি অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু আসামিপক্ষের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে তা পিছিয়ে ১৭ নবেম্বর করা হয়েছে। একাত্তরে মানবতাবিরোধী অপরাধে ট্রাইব্যুনাল কর্তৃক মৃত্যুদন্ডাদেশ পাওয়া জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল আলবদর কমান্ডার বুদ্ধিজীবী হত্যার মাস্টার মাইন্ড আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদের আপীল খারিজ করে ১৬ জুন মৃত্যুদ- বহাল রাখে আপীল বিভাগ। প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহার নেতৃত্বে চার সদস্যের আপীল বেঞ্চ ঐকমত্যের ভিত্তিতে এ রায় ঘোষণা করেন। বুদ্ধিজীবী হত্যায় এটাই আপীল বিভাগের প্রথম রায়। উল্লেখ্য, একাত্তরে মুক্তিযুদ্ধের সময় মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে ২০১৩ সালের ১৭ জুলাই চেয়ারম্যান বিচারপতি ওবায়দুল হাসান শাহীনের নেতৃত্বে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদকে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে মৃত্যুদ- প্রদান করেন। এই প্রথম বাংলাদেশের মন্ত্রিসভায় দায়িত্ব পালন করা কোন ব্যক্তি বুদ্ধিজীবী হত্যার অভিযোগে উচ্চ আদালত তাকে মৃত্যুদ- বহাল রাখে।

অন্যদিকে একাত্তরে মানবতাবিরোধী অপরাধে ট্রাইব্যুনাল কর্র্তৃক হত্যা ও গণহত্যার দায়ে মৃত্যুদ-াদেশ পাওয়া বিএনপির শীর্ষ নেতা সাকা বাহিনীর (নিজস্ব বাহিনী) প্রধান স্বঘোষিত ব্রিগেডিয়ার সালাউদ্দিন কাদের (সাকা) চৌধুরীকে ২৯ জুলাই ট্রাইব্যুনালের দেয়া মৃত্যুদ- বহাল রাখে সুপ্রীমকোর্টের আপীল বিভাগ। উল্লেখ্য, ২০১৩ সালের ১ অক্টোবর সাকা চৌধুরীকে মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে মৃত্যুদ- দেন চেয়ারম্যান বিচারপতি এটিএম ফজলে কবীরের নেতৃত্বে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১। ২৩টি অভিযোগের মধ্যে ৯টি ঘটনায় সাকা চৌধুরীর সংশ্লিষ্টতা সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হয়েছে। এ রায়ের বিরুদ্ধে ২০১৪ সালের ২৯ অক্টোবর চেয়ারম্যান বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিমের নেতৃত্বে তিন সদস্য বিশিষ্ট আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ একাত্তরে মুক্তিযুদ্ধের সময় বুদ্ধিজীবী হত্যার নীলনক্সা বাস্তাবায়ন, হত্যা, ধর্ষণ, লুণ্ঠন, সম্পত্তি ধ্বংস, দেশত্যাগে বাধ্য করায় আলবদর বাহিনীর প্রধান বিএনপি জামায়াত জোট সরকারের সাবেক মন্ত্রী ১০ ট্রাক অস্ত্র মামলার রায়ে মৃত্যুদ-প্রাপ্ত আসামি জামায়াতে ইসলামীর বর্তমান আমির মতিউর রহমান নিজামীর বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় ১৬টি অভিযোগের মধ্যে ৮টি অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হওয়ায় নিজামীকে মৃত্যুদ- প্রদান করেন।

ননী-তাহের ॥ একাত্তরে মুক্তিযুদ্ধের সময় মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে গ্রেফতারকৃত নেত্রকোনার মুসলীম লীগ নেতা আতাউর রহমান ননী (৬২) ও নেজামে ইসলামের ওবায়দুল হক তাহেরের (৬৪) মামলাটিও শেষ পর্যায়ে রয়েছে। প্রসিকিউশন আশা করছেন বিজয়ের মাস ডিসেম্বরে এ মামলার রায় হতে পারে। এখন পর্যন্ত মোট ২২ জন সাক্ষী এ দুই রাজাকারের বিরুদ্ধে জবানবন্দী প্রদান করেছেন। ৯ নবেম্বর থেকে মামলার তদন্ত কর্মকর্তার জবানবন্দী শুরু হবে।