১৯ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

বাংলাদেশ থেকে হাল্কা যন্ত্রপাতি কিনবে সৌদি আরব

  • বাংলাদেশী পণ্যের নতুন বাজার

এম শাহজাহান ॥ সৌদি আরবে বাংলাদেশী পণ্যের বাজার সৃষ্টির নতুন উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে। দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যের আওতায় করা হবে যৌথ বিনিয়োগ। রেমিট্যান্সের পাশাপাশি পণ্য রফতানির মাধ্যমেও সৌদি আরব থেকে অর্জিত হবে বৈদেশিক মুদ্রা। তাতে জোরদার হবে দু’দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্ক। এ লক্ষ্যে আগামী ডিসেম্বর মাসে সৌদি আরবের ১০টি চেম্বারে বাংলাদেশী বড় কোম্পানিগুলোর ক্যাটালগ শোর আয়োজন করা হচ্ছে। শোতে বাংলাদেশে তৈরি পণ্যের প্রদর্শনী করা হবে। ইতোমধ্যে ক্যাটালগ শো আয়োজনের জন্য সৌদি আরবে বাংলাদেশ দূতাবাসে আনুষ্ঠানিক প্রস্তাব দিয়েছে দেশটির বিনিয়োগকারীররা। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে এ তথ্য।

জানা গেছে, বিনিয়োগ ও উৎপাদনে সৌদি আরব ইতোমধ্যে মূল স্থাপনাগুলোর নির্মাণ কাজ শেষ করতে সক্ষম হয়েছে। ফলে কনস্ট্রাকশন কোম্পানিগুলোতে অপারেশন ও মেইনটেন্যান্স স্টাফের প্রয়োজনীয়তা বেড়ে গেছে। এ অবস্থায় বিভিন্ন বিল্ডিং ও স্থাপনায় ব্যবহৃত ভারি ও হালকা মেশিনগুলো মেরামত কাজের জন্য ছোট ছোট ইঞ্জিনিয়ারিং ওয়ার্কশপে কাজের অর্ডারের পরিমাণ দিন দিন বাড়ছে। ফলে স্থানীয়ভাবে ক্ষুদ্র ও ইঞ্জিনিয়ারিং ওয়ার্কশপে চাহিদা বেড়ে গেছে। এক্ষেত্রে বাংলাদেশী ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প কারখানার সঙ্গে সৌদি শিল্প কারখানার যৌথ মালিকানা কারবার সৃষ্টির সম্ভাবনা ও সুযোগ তৈরি হয়েছে। ইতোমধ্যে সৌদি আরবের বিনিয়োগকারীরা এ বিষয়ে পরবর্তী পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য বাংলাদেশকে প্রস্তাব দিয়েছে। সম্প্রতি দেশটির বিনিয়োগকারীদের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, সৌদি আরবের গুরুত্বপূর্ণ চেম্বার অব কমার্স এ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিতে বাংলাদেশের প্রতিথযশা কোম্পানিসমূহ ক্যাটালগ শোর আয়োজন করতে পারে। এতে বাংলাদেশী পণ্যের চাহিদা বাড়ার পাশাপাশি যৌথ বিনিয়োগেরও সুযোগ তৈরি হতে পারে।

এদিকে, বিনিয়োগকারীদের প্রস্তাবটি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনায় নিয়ে বাণিজ্য সচিব হেদায়েতুল্লাহ আল মামুনকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে অনুরাধ জানিয়েছেন সৌদির বাংলাদেশ দূতাবাসের রাষ্ট্রদূত গোলাম মসীহ্। সচিবকে লেখা চিঠিতে তিনি জানান, সৌদি আরবের গুরুত্বপূর্ণ চেম্বার অব কমার্স এ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিতে বাংলাদেশের প্রতিথযশা কোম্পানিসমূহের ক্যাটালগ শো আয়োজন করা প্রয়োজন। সৌদি আরবে ইস্টার্ন প্রভিন্স একটি ইন্ডাস্ট্রিয়াল এলাকা। এখানে গুরুত্বপূর্ণ তেল স্থাপনা ও গ্যাস, তেলভিত্তিক শিল্প, জাহাজ নির্মাণ শিল্প, পেট্রো-কেমিক্যালজাত শিল্প ছাড়াও নানামুখী শিল্পকারখানা রয়েছে। সম্প্রতি দাম্মাম আশারকিয়া চেম্বারের সঙ্গে আলোচনাকালে প্রতিষ্ঠানটির চেয়ারম্যান দাম্মান চেম্বার অব কমার্স এ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির কার্যালয়ে বাংলাদেশের গুরুত্বপূর্ণ কোম্পানির ক্যাটালগ শো আয়োজনের জন্য অনুরোধ করে।

তিনি জানান, অন্যান্য দেশ ইতোমধ্যে ক্যাটালগ শোর আয়োজন করেছে এবং তাতে ঐ সকল দেশের ভাবমূূর্তি উজ্জ্বল হয়েছে। এতে করে চেম্বার সদস্যগণ ও সাধারণ সৌদি ক্রেতা- বিক্রেতাগণ ঐ সকল দেশের পণ্য সম্পর্কে সম্যক অবহিত হয়েছেন। শুধু তাই নয়, ক্যাটালগ শোর জন্য চেম্বার থেকে ভেন্যু ও আনুষঙ্গিক সুবিধা প্রদান করা হয়ে থাকে। আশা করা যায়, এ সকল প্রদর্শনী আয়োজনের দ্বারা বাংলাদেশী পণ্যের ক্রেতা বৃদ্ধি পাবে এবং সৌদি আরবে বাংলাদেশী কোম্পানির পণ্য ও সেবার বাজার সম্প্রসারিত হবে। রফতানি ও বিনিয়োগ বৃদ্ধির সম্ভাবনাও বহুলাংশে বৃদ্ধি পাবে। এমনকি যৌথ বিনিয়োগ কোম্পানি গঠনের সুযোগ সৃষ্টি হবে। দাম্মাম আশারকিয়া চেম্বার অব কমার্স এ্যান্ড ইন্ডাষ্ট্রির চেয়ারম্যান এ বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে উপস্থাপনর করেন।

জানা গেছে, সৌদি আরবের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য বৃদ্ধিতে সরকার আন্তরিক। ইতোমধ্যে কিছু পদক্ষেপও গ্রহণ করা হয়েছে। এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে বাণিজ্য সচিব হেদায়েতুল্লাহ আল মামুন জনকণ্ঠকে বলেন, দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য বৃদ্ধিতে সৌদি আরবের আগ্রহের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখছে সরকার। জনশক্তি রফতানির পাশাপাশি দেশটিতে বাংলাদেশী পণ্যের চাহিদা বাড়ছে। এমনকি যৌথ বিনিয়োগেও সৌদির উদ্যোক্তাদের আগ্রহ রয়েছে। এটি একটি ভাল দিক। এ ব্যাপারে সরকারের পক্ষ থেকে সৌদির বিনিয়োগকারীদের সব ধরনের সহযোগিতা প্রদান করা হবে।

চলতি মাসে যৌথ অর্থনৈতিক কমিশনের বৈঠক ॥ অবশেষে ঢাকায় বসতে যাচ্ছে সৌদি আরব-বাংলাদেশের দীর্ঘদিন আটকে থাকা যৌথ অর্থনৈতিক কমিশনের (জেইসি) বৈঠক। আগামী ১৮ ও ১৯ নবেম্বর অনুষ্ঠেয় গুরুত্বপূর্ণ এ বৈঠকের এজেন্ডা প্রস্তুত করেছে অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ (ইআরডি)। ১১তম বৈঠকটি এতদিন আটকে থাকায় দু’দেশের মধ্যে স্বার্থসংশ্লিষ্ট অনেক বিষয়েই আলোচনা থেমে ছিল। এ বৈঠকে সেসব ইস্যু নিয়ে উভয় দেশ সমঝোতায় পৌঁছতে পারবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা। বসতে যাওয়া জেইসি বৈঠকে প্রধানত তিনটি ইস্যু নিয়ে আলোচনা হওয়ার কথা। এগুলো - জনশক্তি রফতানি, ওষুধ রফতানি, বিনিয়োগ ও অর্থনৈতিক সহযোগিতা এবং হাসপাতাল ও ক্লিনিক স্থাপনে সহায়তা। গত দশম জেইসি বৈঠকের সিদ্ধান্তগুলো বাস্তবায়নের পরিস্থিতি নিয়েও আগামী বৈঠকে আলোচনা হবে।