২৬ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

মহাকাশেও ট্রাফিক জ্যাম॥ বড় দুর্ঘটনার আশঙ্কা!

জনকণ্ঠ ডেস্ক ॥ লাল বাতি জ্বলে গেছে মহাকাশে! দুর্বিষহ ট্রাফিক জ্যামে হাঁসফাঁস করছে মহাকাশ। কোন যান পাঠানোর আগে এবার নাসা, ইসরো ও ইএসএকে জেনে নিতে হবে, লাল বাতি ‘সবুজ’ হলো কিনা মহাকাশে!

বিভিন্ন দেশের পাঠানো মহাকাশযান এতটাই জট পাকিয়েছে এই সৌরমণ্ডল আর তার বাইরের ব্রহ্মাণ্ডে যে, বড় দুর্ঘটনা ঘটে যেতে পারে যেকোন মুহূর্তে। ঘটতে পারে প্রতি পাঁচ বছরে অন্তত একটি করে বড় ধরনের দুর্ঘটনা। ভেঙ্গে চুরমার হয়ে যেতে পারে যে কোন মহাকাশযান। বর্তমানে মহাকাশযান, কৃত্রিম উপগ্রহ, টেলিস্কোপ মিলিয়ে ৩৫ হাজারেরও বেশি পার্থিব জিনিসপত্র রয়েছে মহাকাশে। সংখ্যাটা আগামী পাঁচ বছরে ৫০ হাজার ছাড়িয়ে যাবে। খবর আনন্দবাজার অনলাইনের।

কোন কল্প-কথা নয়। এ দুঃসংবাদটি দিয়েছে বিশ্বের সব দেশের মহাকাশ গবেষণা সংস্থার প্রতিনিধিদের নিয়ে গড়ে ওঠা ‘ইন্টার-এজেন্সি স্পেস-ডেব্রি কো-অর্ডিনেশন কমিটি (আইএডিসিসি)।’ মহাকাশের নিরাপত্তা নিয়ে আলোচনা করতে গত অক্টোবরে জরুরী বৈঠকে বসেছিল আইএডিসিসি। সেই বৈঠকে মূল আলোচ্য ছিল- ‘সুগভীর মহাকাশে মহাকাশচারী ও মহাকাশযানের নিরাপত্তা।’

আইএডিসিসির এক্সিকিউটিভ কাউন্সিলের অন্যতম সদস্য, মেরিল্যান্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পিউটার বিজ্ঞান বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক হিল্লোল গুপ্ত জানান, ‘আইএডিসিসির বৈঠকে গভীর আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে। সমস্যা মেটানোর লক্ষ্যে সর্বসম্মতিতে নেয়া হয়েছে একটি প্রস্তাব।’

লরেল থেকে ই-মেইলে হিল্লোল জানান, ‘ওই প্রস্তাবে বলা হয়েছে- আগামী দিনে বড়সড় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে মহাকাশে। চুরচুর করে ভেঙ্গে পড়তে পারে প্রচুর মহাকাশযান। প্রতি পাঁচ বছর অন্তর একটা করে বড় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে মহাকাশে।’

হিল্লোল আরও জানান, ‘আইএডিসিসির প্রস্তাবে বলা হয়েছে- মোটামুটি ছয় রকমভাবে ওই দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। এক- অন্য একটি মহাকাশযান থেকে ছিটকে আসা কোন অংশ ভেঙ্গে চুরমার করে দিতে পারে আরেকটি মহাকাশযানকে। যে নিয়মে পাখির ধাক্কায় বিমানের ক্ষতি বেশি হয়, সেই নিয়মেই কোন মহাকাশযান থেকে ছিটকে আসা টুকরোর আঘাতে অন্য মহাকাশযানের ক্ষতিই বেশি হবে। দুই- দীর্ঘদিনের মহাকাশ যাপনে খাবারের প্যাকেট, ডিজপোজেবল জামাকাপড় ও কাগজের তোয়ালে প্রচুর পরিমাণে জমে যায় মহাকাশযানে। তা থেকে ভয়াবহ আগুন লাগতে পারে। ব্যাটারি ও অন্যান্য ইলেক্ট্রনিক যন্ত্রপাতিও খুব গরম হয়ে গেলে আগুন লেগে যেতে পারে মহাকাশযানে। তিন- গাণিতিক হিসেবের সামান্য ভুলচুকে বিভিন্ন দেশের পাঠানো মহাকাশযানের কক্ষপথ খুব কাছাকাছি হয়ে গেলে বা তারা একই কক্ষপথে খুব কাছাকাছি চলে এলে হয়ে যেতে পারে মুখোমুখি সংঘর্ষ। চার- কোন উল্কাখণ্ড বা অন্য কোন মহাজাগতিক বস্তু থেকে ছিটকে আসা কোন অংশ ভেঙ্গে চুরমার করে দিতে পারে মহাকাশযান। পাঁচ- মহাকাশচারীর স্পেস স্যুটে বড়জোর সাত ঘণ্টার অক্সিজেন মজুদ করে রাখা যায়। কোন কারণে মহাকাশচারী ভয় পেয়ে গেলে সেই অক্সিজেনের ভাণ্ডার খুব তাড়াতাড়ি ফুরিয়ে যেতে থাকে। এতে মহাকাশচারীর জীবনের ঝুঁকি বেড়ে যাচ্ছে। ছয়- মহাকাশচারীদের স্পেস স্যুটের হেলমেটে ফাটল ধরছে। আর তা দিয়ে ভেতরে ঢুকে পড়ছে মহাকাশের জলীয় বাষ্প, যা মহাকাশচারীর স্পেস স্যুটের তাপে গলে জল হয়ে যাচ্ছে। কিন্তু মহাকাশের শূন্য অভিকর্ষে সেই জলবিন্দু নিচের দিকে নামতে না পেরে তা মহাকাশচারীদের চোখ বা নাকের ওপর জমা হচ্ছে। এতে মহাকাশচারীদের দৃশ্যমানতার সমস্যা হচ্ছে। বাড়ছে শ্বাসকষ্ট; যাতে মৃত্যু হতে পারে মহাকাশচারীর।’

সাহা ইনস্টিটিউট অব নিউক্লিয়ার ফিজিক্সের ভূতপূর্ব অধিকর্তা বিকাশ সিংহ বলেন, ‘ট্রাফিক জ্যাম কমাতে গোটা বিশ্বে বাড়ানো হচ্ছে উড়ালপুলের সংখ্যা। একইভাবে মহাকাশে যানজটের সমস্যা কমাতে আইএডিসিসি সেখানে যাওয়ার জন্য ‘বিকল্প রুট’ বা নতুন নতুন কক্ষপথ খুঁজে বের করতে বলেছে বিশ্বের মহাকাশ গবেষণা সংস্থাগুলোকে।’