২৩ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

আশুলিয়ায় তিন পুলিশ সাসপেন্ড, কোন গ্রেফতার নেই

স্টাফ রিপোর্টার ও নিজস্ব সংবাদদাতা, সাভার ॥ সাভারের আশুলিয়ায় চেকপোস্টে ফিল্মিস্টাইলে হামলা চালিয়ে এক পুলিশকে হত্যা এবং অপর পুলিশকে ছুরিকাঘাতে হত্যা চেষ্টার ঘটনায় তিন পুলিশকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। কোন প্রকার প্রতিরোধ না করে অস্ত্র ফেলে আত্মরক্ষার জন্য পালানোর দায়ে তাদের বিরুদ্ধে এ ব্যবস্থা নেয়া হয়। তাদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা দায়েরসহ তদন্ত চলছে। ইতোপূর্বে এ ঘটনায় অবহেলার দায়ে আশুলিয়া থানার উপ-পরিদর্শক হাবিবকে রাজারবাগ পুলিশ লাইনে ক্লোজ করা হয়েছে। শনিবার রাত আটটায় এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত হামলাকারীদের কেউ গ্রেফতার হয়নি। শনিবার শিল্প পুলিশ-১-এর সহকারী পুলিশ সুপার আশরাফুল্লাহ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, ঘটনার সময় উপস্থিত থাকা ৫ শিল্প পুলিশের মধ্যে দু’জন সন্ত্রাসীদের হামলার শিকার হন। এ সময় দায়িত্বে থাকা অপর ৩ কনস্টেবল ইমরান আজিজ, আপেল মাহামুদ ও পিনারুজ্জামান কোন প্রতিরোধের চেষ্টা না করেই পেছনের শালবনের দিকে পালিয়ে যায়। এজন্য তাদের সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। পাশাপাশি তাদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা দায়ের করা হয়েছে। পুলিশ সদর দফতরসহ তদন্তকারী সংস্থা বিষয়টির তদন্ত করছে।

এদিকে ঘটনার ৪ দিন পরেও হামলার কোন ক্লু মেলেনি। ক্লু উদ্ধারে পুলিশসহ সরকারের বিভিন্ন সংস্থা অনুসন্ধান করছে। এমন ঘটনার পর থেকেই এলাকায় থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে। স্থানীয়দের মাঝে আতঙ্ক ও ভীতির সৃষ্টি হয়েছে।

চলতি বছরের ৪ নবেম্বর সকালে সাভারের আশুলিয়ার নন্দনপার্কের সামনে পুলিশ চেকপোস্টে ফিল্মিস্টাইলে হামলার ঘটনাটি ঘটে। ৬ হামলাকারী ২টি মোটরসাইকেলযোগে আচমকা কর্তব্যরত পুলিশের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে। হামলাকারীদের এলোপাতাড়ি ছুরিকাঘাতে কর্তব্যরত শিল্প পুলিশের ৫ সদস্য আহত হন। আচমকা হামলায় হতভম্ব পুলিশ সদস্যরা আহত অবস্থায়ই অস্ত্র ফেলে পাশের শালবনে ও হোটেলে আশ্রয় নেয়। হামলাকারীরা মোটর-সাইকেলযোগে ফাঁকা গুলি ছুঁড়তে ছুঁড়তে দ্রুত পালিয়ে যায়।

আহতদের প্রথমে স্থানীয় ক্লিনিকে চিকিৎসা দেয়া হয়। এরপর তাদের স্থানান্তর করা হয় সাভার এনাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে। চিকিৎসাধীন অবস্থায় কনস্টেবল মুকুল হোসেনের মৃত্যু হয়। গুরুতর আহত নুরে আলম সিদ্দিকীর অবস্থার ধীরে ধীরে উন্নতি হচ্ছে। ৫ নবেম্বর এ ঘটনায় আশুলিয়া থানার উপ-পরিদর্শক আজহারুল ইসলাম বাদী হয়ে আশুলিয়া থানায় অজ্ঞাত আসামিদের বিরুদ্ধে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলাটির তদন্ত করছেন আশুলিয়া থানার পরিদর্শক (তদন্ত) দীপক কুমার সাহা। এ ঘটনায় অনেককেই জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। ঘটনার দিনই আশুলিয়া থানার এসআই হাবিবকে ঢাকার রাজারবাগ পুলিশ লাইনে ক্লোজ করা হয়। তার সকাল ৮টা পর্যন্ত সেখানে দায়িত্ব পালনের কথা ছিল। কিন্তু নির্ধারিত সময়ের আগেই তিনি সঙ্গীয় ফোর্সসহ ঘটনাস্থল থেকে চলে যান।

এ ঘটনায় সাত সদস্য বিশিষ্ট একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটি প্রধান ঢাকা রেঞ্জের অতিরিক্ত ডিআইজি শফিকুর রহমান। আর সদস্যরা হচ্ছেন, নারায়ণগঞ্জ জেলা ডিবি ইন্সপেক্টর আবুল খায়ের, গাজীপুর জেলা ডিবি ইন্সপেক্টর আছাদুর রহমান, নারায়ণগঞ্জ জেলা ডিবি এসআই সাইফুল ইসলাম, আড়াইহাজার থানা ডিবি এসআই আব্দুস সালাম, গাজীপুর জেলা ডিবি এসআই হোসেন, শ্রীপুর থানার এসআই মজিবর রহমান ও এসআই মলয় চক্রবর্তী।

তদন্ত কমিটি নন্দনপার্ক, ওয়ালটন, ট্রাস্ট ব্যাংকসহ ঘটনাস্থলের আশপাশে অবস্থিত বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সিসি ক্যামেরার ভিডিও ফুটেজ পরীক্ষা করে দেখছে। প্রসঙ্গত, চলতি বছরের ২২ অক্টোবর রাজধানীর গাবতলীর আমিনবাজারে চেকপোস্টে সন্ত্রাসীদের ছুরিকাঘাতে নিহত হন দারুস সালাম থানার সহকারী উপ-পরিদর্শক ইব্রাহিম মোল্লা।

ঘটনাস্থল পরিদর্শন শেষে অতিরিক্ত পুলিশ মহাপরিদর্শক জাভেদ পাটোয়ারী বলেছেন, ঢাকার গাবলীতে পুলিশকে ছুরিকাঘাতে হত্যা এবং আশুলিয়ার বাড়ইপাড়া এলাকায় হামলায় এক পুলিশকে হত্যা ও ৪ পুলিশ আহত করার ঘটনা একসূত্রে গাঁথা। জঙ্গীরাই ঘটনাটি ঘটিয়েছে। হামলাকারীরা প্রশিক্ষিত।

র‌্যাব মহাপরিচালক বেনজীর আহমেদ বলেছেন, অপরাধীদের শক্তি রাষ্ট্রের শক্তির চেয়ে বেশি নয়। অবশ্যই অপরাধীরা গ্রেফতার হবে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল বলেছেন, যুদ্ধাপরাধীদের বিচার বাধাগ্রস্ত করার পাশাপাশি দেশে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টি করতেই স্বাধীনতা বিরোধীরা এসব ঘটনা ঘটাচ্ছে। পরিকল্পিত নাশকতা। সারাদেশে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। হত্যাকারীদের গ্রেফতারে সাঁড়াশি অভিযান চলছে।