১৩ ডিসেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

অনন্য দৃষ্টান্ত

  • রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়

সপ্তাহে ছয়দিন ক্লাস-পরীক্ষার চাপ শেষে শুক্রবার মহা আনন্দের সেই দিনটি দিনটি আসে। ওই দিনটিতে আর সকালের ঘুম ভেঙ্গে ক্লাসে যেতে হয় না। ইচ্ছেমতো ঘুম হয় সেদিন। ঘুমের কারণে সকালের নাস্তাও অনেক সময় দেরি হয়ে যায়।

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের কাছে শুক্রবারের দিনটি ঠিক এমনিভাবে আবির্ভূত হয়। তবে ৩০ অক্টোবরের শুক্রবার বিশ্ববিদ্যালয়ের ১২ জন শিক্ষার্থীর কাছে ছিল কিছুটা ভিন্ন। ক্লাস না থাকলেও সকাল সাড়ে ৬টার দিকে ঘুম থেকে উঠেছিলেন তাঁরা। এরপর বিভিন্ন মেস থেকে একস্থানে জমায়েত হয়ে চলে এসেছিলেন মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিবিজড়িত ভাস্কর্য ‘শাবাশ বাংলাদেশ’-এ।

১২ জন প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী মিলে পরিষ্কার করেছেন ‘শাবাশ বাংলাদেশ’। সকাল সাড়ে ৭টা থেকে সাড়ে ৯টা পর্যন্ত ধুয়ে-মুছে সাফ করেছেন ওই ভাস্কর্যটির মূল বেদি। শিক্ষার্থীদের এমন মহতী কার্যক্রমকে অনন্য দৃষ্টান্ত হিসেবে দেখছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র উপদেষ্টা সাদেকুল আরেফিন। ওই শিক্ষার্থীদের ১১ জন বিশ্ববিদ্যালয়ের হিসাববিজ্ঞান ও তথ্য ব্যবস্থা বিভাগের ১৯তম ব্যাচের ও অপর একজন ছিলেন মার্কেটিং বিভাগের শিক্ষার্থী। তারা সবাই বন্ধু। যাদের একান্ত ইচ্ছে বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য কিছু করার।

শাবাশ বাংলাদেশ পরিষ্কারের উদ্যোগের পেছনে কারণ বলতে গিয়ে তাদের কয়েকজন বলেন, ২৯ অক্টোবর বিকেলে আমরা কয়েকজন বন্ধু মিলে শাবাশ বাংলাদেশে ঘুরতে এসেছিলাম। এসে কয়েকজন শিক্ষার্থীকে জুতা পায়ে শাবাশ বাংলাদেশের মূল বেদিতে উঠতে দেখি। জুতা পায়ে সেখানে তাদের উঠতে বাড়ন করলে তারা বলেন, শাবাশ বাংলাদেশ যে নোংরা হয়ে আছে, তাতে জুতা পায়ে না ওঠে উপায় নেই।

ওই শিক্ষার্থীরা আরও বলেন, শাবাশ বাংলাদেশের মূল বেদিটি অনেক নোংরা দেখে আমরা বন্ধুরা ওই দিনই মনস্থ করি সেটি পরিষ্কার করার। তাই শুক্রবার ক্যাম্পাস বন্ধের দিন তা পরিষ্কারের উদ্যোগ নেই। এ কাজে আমাদের ব্যাচের মোট ১১ শিক্ষার্থী অংশ নেয়। এছাড়াও আমাদের সঙ্গে মার্কেটিং বিভাগের রাহাত নামেরও এক শিক্ষার্থী অংশ নিয়েছিল। আমরা সকাল সাড়ে ৭টা থেকে সাড়ে ৯টা পর্যন্ত শাবাশ বাংলাদেশ পরিষ্কার করি।

বিশ্ববিদ্যালয়ের হিসাববিজ্ঞান ও তথ্য ব্যবস্থা বিভাগের ১৯তম ব্যাচের শিক্ষার্থী তাহিদুল ইসলাম সুমন বলেন, এ কাজ করতে গিয়ে মেস থেকে বালতি, মগ ও ঝাড়ু নিয়ে আসতে হয়েছিল। ক্যাম্পাসে এসে কয়েকটি গাছের ডালও ভেঙ্গে নিয়েছিলাম। এরপর সিনেট ভবনের পাশ থেকে পানি বহন করে আমরা খুব মজা করেই পরিষ্কারের কাজটি করেছি। এ কাজ করতে আমাদের খুব আনন্দ লেগেছে। ক্যাম্পাসের জন্য কিছু করতে পেরে খুব ভাল লাগছে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র উপদেষ্টা সাদেকুল আরেফিন বলেন, শিক্ষার্থীদের প্রশংসনীয় এ উদ্যোগ অন্য শিক্ষার্থীদের খুবই উৎসাহ দেবে। বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল শিক্ষার্থীরা যদি এভাবে এগিয়ে আসে তাহলে আমাদের ক্যাম্পাস দ্রুতই দেশের সেরা ক্যাম্পাসে পরিণত হবে।

: ক্যাম্পাস প্রতিবেদক