১১ ডিসেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

কলাপাড়ায় নামেই মহিলা মার্কেট

নিজস্ব সংবাদদাতা, কলাপাড়া, ৭ নবেম্বর ॥ নারী উন্নয়নের জন্য অর্থনৈতিক কর্মকা-ের সঙ্গে সম্পৃক্ত করতে তিনটি হাট-বাজারে নির্মিত মহিলা মার্কেটগুলো এখন পুরুষদের দখলে। শুরু থেকেই নিয়মনীতি উপেক্ষা করে বরাদ্দ দেয়া হয়। এলজিইডি বিভাগের তদারকি না থাকায় তিনটি মার্কেটের ২২টি দোকানের ১৮টি বেদখল হয়ে গেছে। কলাপাড়া শহরের মহিলা মার্কেটের দু’টি দোকান শুধু মহিলারা পরিচালনা করে আসছে। দোকানগুলো অপেশাদার প্রভাবশালীরা তাদের নামে বরাদ্দ নিয়ে সাবলেট দিয়েছে। ওইসব ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের সাইনবোর্ডে মহিলা মার্কেট কথাটি পর্যন্ত লেখা নেই।

শহরের নতুন বাজারে ১০ কক্ষের, লালুয়ার বানাতি বাজারে ৬ কক্ষের ও মিঠাগঞ্জ ইউনিয়নের তেগাছিয়া বাজারে ৬ কক্ষের মোট তিনটি মহিলা মার্কেট নির্মাণ করা হয়। ১৯৯৮ সাল থেকে ২০০২ অর্থবছর পর্যন্ত স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদফতর মার্কেট তিনটি নির্মাণ করে। ২০০৩ সালের মাঝামাঝি সময় মার্কেটগুলো চালু করা হয়। নীতিমালায় বলা হয়েছে বাজারে দোকান রয়েছে, কিন্তু মানসম্মত নয়- নিজেই দোকান চালান এমন মহিলা। মহিলা মুক্তিযোদ্ধা শহীদ পরিবারের সদস্য। মহিলা নিজের বাড়িতে দোকান করেন। উৎপাদনশীল ক্ষুদ্র ব্যবসার সঙ্গে জড়িত। বিধবা কিংবা স্বামী পরিত্যক্তা। পরিবার প্রধান মহিলা যিনি ব্যবসা করতে আগ্রহী। অর্থনৈতিকভাবে অসুবিধাগ্রস্ত। এমন মহিলাদের মধ্যে দোকান বরাদ্দ দেয়ার কথা থাকলেও তা শুরুতেই মানা হয়নি। প্রতিটি দোকানঘর বরাদ্দপ্রাপ্ত মহিলা ছাড়া কোন পুরুষ পরিচালনা করতে পারবে না। উপজেলা হাট-বাজার ব্যবস্থাপনা কমিটি দোকানের প্রতি বর্গফুট হিসাবে ভাড়া নির্ধারণ করে দেয়। প্রাপ্ত ভাড়ার শতকরা পাঁচ ভাগ সরকারকে ভূমি রাজস্বখাতে ট্রেজারি চালানের মাধ্যমে প্রদান করতে হবে। ১৫ ভাগ মহিলা মার্কেটের রক্ষণাবেক্ষণে ব্যয় হবে। বাকি ৮০ ভাগ সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন পরিষদের তহবিলে জমা হবে। কোনভাবেই বরাদ্দ পাওয়া মহিলা এ দোকান অন্য কারও কাছে হস্তান্তর করতে পারবে না। মার্কেটগুলো রক্ষণাবেক্ষণের জন্য নীতিমালায় সবকিছু উল্লেখ করা হয়েছে। কিন্তু এসবের কিছুই নেই। নারীদের স্বাবলম্বী করার সরকারের এ উদ্যোগ এলজিইডি কর্তৃপক্ষ এবং সংশ্লিষ্ট পৌরসভা ও ইউনিয়ন পরিষদের প্রতিনিধিদের চরম উদাসীনতায় ভেস্তে গেছে। নতুন বাজারে দুই দিকে মুখ ১০ কক্ষের মার্কেটটিতে ১০ মহিলার নামে কাগজ-কলমে বরাদ্দ দেয়া রয়েছে। সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, শুধুমাত্র দুইটি দোকান বরাদ্দকৃতরা পরিচালনা করছে। বাকিসব পুরুষ চালাচ্ছে। অধিকাংশ সাবলেট দেয়া রয়েছে। এমনকি লোহা-লক্কড়ের দোকান পর্যন্ত বসানো হয়েছে। একজন দোকানী জানালেন, শুরুতে দোকান ভাড়া দুই শ’ টাকা নির্ধারণ করা ছিল। যা বর্তমানে পাঁচ শ’ টাকা করা হয়েছে।