১৯ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

খান-এ-সবুর সরিয়ে এখন যশোর রোড

  • হাইকোর্টের আদেশ

স্টাফ রিপোর্টার, খুলনা অফিস ॥ স্বাধীনতা বিরোধী যুদ্ধাপরাধী ‘খান-এ-সবুর’-এর নাম খুলনার প্রধান সড়ক থেকে প্রত্যাহার করে পূর্বের নাম ‘যশোর রোড’ প্রতিস্থাপন করায় সুশীল সমাজ সন্তোষ প্রকাশ করেছে। পাশাপাশি রাস্তাটির পূর্বতন নাম ফিরে পাওয়ার ক্ষেত্রে খুলনার কারও কোন অবদান না থাকায় তারা লজ্জিত হয়েছে। যারা আইনী লড়াই করে ঐতিহাসিক যশোর রোড নামটি ফিরিয়ে দিয়ে খুলনাবাসীকে গর্বিত করেছে সুশীল সমাজের পক্ষ থেকে তাদের ধন্যবাদ জানানো হয়। তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করা হয়।

বাংলাদেশের স্বাধীনতা লাভের কয়েক বছর পর যুদ্ধাপরাধী মুসলিম লীগ নেতা খান-এ-সবুরের (সবুর খান) নামে ঐতিহাসিক যশোর রোড খুলনা মহানগরী অংশের নামকরণ করা হয়। বিশিষ্ট ইতিহাসবিদ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. মুনতাসীর মামুন ও লেখক সাংবাদিক শাহরিয়ার কবীর ২০১২ সালে স্বাধীনতা বিরোধীদের নামে স্থাপনা, সড়ক, অবকাঠামোর নামকরণ স্থগিত চেয়ে হাইকোর্টে রিট করেন। ওই বছরের ১৪ মে খান-এ-সবুর ও শাহ আজিজুর রহমানের নাম ব্যবহার স্থগিতের অন্তর্বর্তীকালীন আদেশ দেয় হাইকোর্ট। কিন্তু সেই আদেশ কর্যকর না হওয়ায় বরেণ্য এই দুই ব্যক্তি আবারও আদালতের শরণাপন্ন হন। সর্বশেষ গত ৩ নবেম্বর সাত দিনের মধ্যে ‘যশোর রোড’ নামটি ফিরিয়ে আনার আদেশ দিয়েছে হাইকোর্ট।

এর পর খুলনা সিটি কর্পোরেশন থেকে ‘যশোর রোড’ ব্যবহারের জন্য বিজ্ঞপ্তি জারি করা হয়। খুলনা পৌরসভার সাবেক চেয়ারম্যান ও সাবেক সংসদ সদস্য এ্যাডভোকেট এনায়েত আলী বলেন, ‘যশোর রোড’ ইতিহাসের পাতায় আছে। সবুর খানের নামে এর নামকরণ মেনে নিতে পারিনি। রাস্তার নাম পূর্বের অবস্থায় ফিরিয়ে আনার কাজটি আমাদের করা উচিত ছিল। কিন্তু করতে পারিনি। যারা যশোর রোড ফিরিয়ে আনার জন্য আইনী লড়াই করেছেন তাদের সাধুবাদ জানাই। তারা ইতিহাসের অংশীদার হয়ে চির স্মরণীয় হয়ে থাকবেন। বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ, গবেষক অধ্যাপক আনোয়ারুল কাদির বলেন, ‘খুলনার মানুষের জন্য এটা লজ্জাকর যে রাস্তা থেকে সবুর খানের নাম সরানোর জন্য হাইকোর্টের রায় পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হলো। মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের দাবিদার আওয়ামী লীগের নেতা তালুকদার আব্দুল খালেক সিটি কর্পোরেশনের মেয়র থাকাকালে এটা করতে না পারাটা আরও লজ্জার ব্যাপার। তিনি অধ্যাপক মুনতাসীর মামুন ও সাংবাদিক শাহরিয়ার কবীরের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। সম্মিলিত সংাস্কৃতিক জোট খুলনার আহ্বায়ক হুমায়ুন কবীর ববি বলেন, আমরা ’৮০ সালে ছাত্র সংগ্রাম পরিষদ গঠন করে ‘যশোর রোড’ ফিরিয়ে আনার জন্য আন্দোলন করেছিলাম।

সে সময় রাজনৈতিক নেতৃত্বের যে ভূমিকা থাকা দরকার ছিল তা তারা রাখতে ব্যর্থ হয়। পরবর্তীতেও রাজনীতিবিদরা নিষ্ক্রিয় থাকেন। তিনি খুলনাবাসীর হৃত গৌবর ফিরিয়ে দেয়ার জন্য অধ্যাপক মুনতাসীর মামুন ও শাহরিয়ার কবীরের প্রতি কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করেন। খুলনা প্রেসক্লাবের সভাপতি বীর মক্তিযোদ্ধা মকবুল হোসেন মিন্টু সন্তোষ প্রকাশ করে বলেন, রাস্তাটির পূর্ববর্তী নাম ফিরিয়ে আনার জন্য খুলনার মানুষেরই উদ্যোগ নেয়া দরকার ছিল। কিন্তু এ দায়িত্ব কেউ পালন করেননি। এটা আমাদের ব্যর্থতা।