২৬ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

’৫০ সালের মধ্যে দেশের তিন কোটি লোক বাস্তুচ্যুত হবে

  • জলবায়ু পরিবর্তন সমস্যা মোকাবেলায় সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন

কূটনৈতিক রিপোর্টার ॥ জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে ২০৫০ সালের মধ্যে বাংলাদেশের তিন কোটি লোক বাস্তুচ্যুত হবে। এ সমস্যা মোকাবেলায় এখনই সমন্বিত উদ্যোগ নিতে হবে। এছাড়া জলবায়ু তহবিল সুষ্ঠু ব্যবহারের জন্য বাংলাদেশ সরকারকে সক্ষমতা অর্জন করা জরুরী। জলবায়ু তহবিল সুষ্ঠু ও জবাবদিহিতার মাধ্যমে ক্ষতিগ্রস্ত লোকদের মাঝে পৌঁছাতে হবে। শনিবার জাতীয় প্রেসক্লাবে জলবায়ু পরিবর্তন নিয়ে ‘আগামীর কপ-২১’-শীর্ষক এক সেমিনারে আলোচকরা এসব কথা বলেন। আলোচকরা জানান, প্যারিসে আসন্ন বিশ্ব জলবায়ু সম্মেলনে জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে বাস্তুচ্যুতি বৈশ্বিক উন্নয়ন এজেন্ডা হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করার চেষ্টা করবে বাংলাদেশ।

সেমিনারে গত ১০ বছরে জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে বাংলাদেশের যে পরিবর্তন হয়েছে তার আলোকচিত্র নিয়ে ‘এ টেল ফ্রম ক্লাইমেট গ্রাউন্ড জিরো’ (জলবায়ুর গ্রাউন্ড জিরো থেকে একটি গল্প) নামে বইয়ের মোড়ক উন্মোচন করা হয়। ইক্যুইটি বাংলাদেশ ও কোস্ট ট্রাস্ট এই সেমিনার আয়োজন করে। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন পল্লী কর্মসহায়ক ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান ও অর্থনীতিবিদ ড. কাজী খলীকুজ্জমান আহমেদ। এতে প্রধান অতিথি ছিলেন পররাষ্ট্র সচিব শহীদুল হক। এছাড়া অনুষ্ঠানে বিজ্ঞানী ড. আতিক রহমান, বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলনের মহাসচিব ড. আব্দুল মতিন, ইক্যুইটিবিডির সৈয়দ আমিনুল হক, চিত্র গ্রাহক দীন মোহাম্মাদ শিবলী, পরিবেশবিদ প্রদীপ রায় প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।

সেমিনারে বক্তারা বলেন, পরিবেশ এবং জলবায়ু নিয়ে বাংলাদেশ সরকার বৈশ্বিক ফোরামে কি করছে, কি প্রস্তাবনা দিচ্ছে তা দেশের জনগণকে জানানো উচিত। কেন না সরকার সামনের প্যারিস সম্মেলনে কি বলতে চায়, আন্তর্জাতিক অঙ্গন থেকে কি আদায় করতে চায় তা পরিষ্কার নয়। সরকারের এই বিষয়গুলো জানার কোন উপায় নেই। সরকার নিজ থেকেও জানায় না।সেমিনারে অর্থনীতিবিদ ড. কাজী খলীকুজ্জমান আহমেদ বলেন, বৈশ্বিক বিভিন্ন পর্যায় এবং একাধিক ধনী দেশ থেকে আইএনডিসি বা আইটেন্ডেড ন্যাশনালিটি ডিটারমাইন্ড কন্ট্রিবিউশন (উদ্দীষ্ট জাতীয় নির্ধারিত অবদান) বিশ্লেষণ করা হয়েছে। কিন্তু আইএনডিসি থেকে আশার কিছু নেই। সবকিছুই অনিশ্চয়তার মধ্যে রয়েছে। তিনি আরও বলেন, জলবায়ু বিষয়ে সাফল্য পেতে হলে একা কাজ করলে হবে না, সবাই মিলে কাজ করতে হবে। বাংলাদেশ থেকে আমরা চেষ্টা করব যাতে কার্বন গ্যাস নিঃসরণের পরিমাণ যেন দেড় ডিগ্রীর মধ্যে থাকে। এলডিসি এবং জি-৭৭ এই দুটি বৈশ্বিক জোটের সঙ্গে আমরা কাজ করব। সবুজ অর্থনীতি নিয়ে কথা বলব।

পররাষ্ট্র সচিব শহীদুল হক বলেন, জলবায়ু পরিবর্তন নিয়ে বৈশ্বিক ফোরামে আমরা কি করছি তা আপনাদের উপযুক্ত প্ল্যাটফর্মে জানানো হবে। জলবায়ু পরিবর্তন বিতর্ক এবং এসজিডিতে বাংলাদেশ বৈশ্বিক পর্যায়ে খুবই শক্তিশালী। প্যারিসে আসন্ন বিশ্ব জলবায়ু সম্মেলনে জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে বাস্তুচ্যুতির বিষয়টিতে বৈশ্বিক উন্নয়ন এজেন্ডা হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করার চেষ্টা করবে বাংলাদেশ। বাংলাদেশের যতটুকু শক্তি রয়েছে এই ফোরামগুলোতে বাংলাদেশ তার থেকেও অনেক উঁচু পর্যায় থেকে কাজ করছে। এটা শুধু বলে বোঝানো যাবে না।

তিনি আরও বলেন, জলবায়ু ইস্যুতে তখনই সাফল্য আসবে যখন সরকার-সুশীল সমাজ-পরিবেশবাদী সবাই মিলে একসঙ্গে কাজ করব। আপনাদের সন্দেহ থাকা উচিত না যে, আমরা সঠিক কাজ করছি না। সব সময় সব জায়গায় সবকিছু ফলাও করে প্রচার ঠিক না, উচিতও না। কেননা এতে আমাদের বিদেশ নীতিতে প্রতিবন্ধকতার সৃষ্টি হয়।

শহীদুল হক বলেন, অভিবাসী এবং বাস্তুচ্যুত ইস্যুতে বাংলাদেশ এখন প্রতিনিধিত্বশীল পর্যায়ে রয়েছে। সামনের বছর এই বিষয়ে ১৬০টি দেশ নিয়ে বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক সেমিনারের আয়োজন করবে।