১০ ডিসেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

ছিটমহলবাসীর ভূমি রক্ষার দাবি

বিশ্ববিদ্যালয় রিপোর্টার ॥ ছিটমহলের মানুষের ভূমি রক্ষায় বিশেষ ভূমি ট্রাইব্যুনাল গঠন করে এবং বিশেষ আইন প্রবর্তন করে আইনি সুরক্ষার দাবি জানিয়েছে এসোসিয়েশন ফর ল্যান্ড রিফর্ম এন্ড ডেভেলপমেন্ট (এএলআরডি)। রবিবার সকালে জাতীয় প্রেসক্লাবের কনফারেন্স রুমে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে পাঁচটি ছিটমহলের সাধারণ মানুষের ভূমি সমস্যা সমাধানের জন্য আট দফা সুপারিশ ও দাবি উত্থাপন করা হয়।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন এএলআরডির নির্বাহী পরিচালক শামসুল হুদা। উপস্থাপনা করেন আইন ও সালিশ কেন্দ্রের নির্বাহী পরিচালক সুলতানা কামাল। বক্তব্য রাখেন ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান, লেখক, কলামস্টি, গবেষক ও আইনজীবী এ্যাডভোকেট এস এম আব্রাহাম লিংকন, ভারত-বাংলাদেশ ছিটমহল বিনিময় কমিটির বাংলাদেশ অংশের সাধারণ সম্পাদক গোলাম মোস্তফা।

লিখিত বক্তব্যে এএলআরডির নির্বাহী পরিচালক শামসুল হুদা বলেন, পাঁচটি ছিটমহলবাসী মানুষের ভূমি নিয়ে অমিমাংসিত বিষয়সমূহ নিয়ে আশঙ্কার সৃষ্টি হয়েছে। স্থল-সীমান্ত চুক্তি বাস্তবায়নের মাধ্যমে ছিটমহলে বসবাসরত মানুষের দীর্ঘদিনের বঞ্চনার অবসান হয়েছে এ জন্য বর্তমান সরকারের আন্তরিক প্রচেষ্টা প্রশংসার দাবি রাখে। কিন্তু সদ্য নাগরিক পরিচয় পাওয়া এইসব ছিটমহল মানুষদের অধিকাংশেরই জমির কোনো দলিলপত্র নেই। জমির দখলে রয়েছে বাইরের প্রভাবশালী শ্রেণী। গতানুগতিক পন্থায় এইসব জমির নকশা, খসড়া ও খতিয়ানের কাজ সম্পন্ন হলে সাধারণ ছিটমহলবাসীদের অসচেতনতার সুযোগে প্রভাবশালী ও সুযোগ সন্ধানীরা সাধারণের জমি হাতিয়ে নিতে পারে। এসব অবস্থা বিবেচনা করে ছিটমহলবাসী মানুষের ভূমির অধিকার নিশ্চিতের জন্য আমরা একটি সরেজমিন যৌথ অনুসন্ধান পরিচালনা করে এইসব সুপারিশ ও দাবিগুলো উপস্থাপন করছি।

আটদফা দাবির মধ্যে রয়েছে- ভূমি জরিপ পরিচালনায় দক্ষ ও অভিজ্ঞ কর্মকর্তাদের তত্তাবধান নিশ্চিত করা, জরিপ পরিচালনার সময় পর্যাপ্ত আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য মোতায়েন করা, অনিয়মের জন্য জরুরি ভিত্তিতে জবাবদিহিতার ব্যবস্থা করা, জনসচেতনতার জন্য ব্যাপক প্রচারণা, সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের জন্য বিশেষ সতর্কতা অবলম্বন, বিশেষ ভূমি ট্রাইব্যুনাল গঠন এবং প্রয়োজনে প্রকাশ্য গণশুনানির ব্যবস্থা করা।

সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে সুলতানা কামাল বলেন, ছিটমহলের মানুষদের জমি নিয়ে দুর্নীতি সুযোগ রয়েছে। যারা অপেক্ষাকৃত কম ক্ষমতাবান তাদের জমি বেদখল হয়ে যাওয়ার আশংকা সৃষ্টি হয়েছে। সরকার একটু সতর্কতার সাথে বিষয়টি বিবেচনা করলেই এই সমস্যা থেকে পরিত্রাণ পাওয়া সম্ভব। জমি সংক্রান্ত সকল জটিলতা নিরসনে সরকারসহ সংশ্লিষ্ট সবাইকে আন্তরিকভাবে কাজ করতে হবে।