১২ ডিসেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

যুদ্ধাপরাধীদের রক্ষাচেষ্টায় লিপ্ত অপশক্তিকে সামাজিকভাবে প্রত্যাখ্যানের অাহ্বান

স্টাফ রিপোর্টার ॥ মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস বিকৃতকারীদের সামাজিক ও সম্মিলিতভাবে প্রতিহত করতে হবে। একটি শ্রেণী যুদ্ধাপরাধীদের রক্ষার সকল কৌশল অবলম্বন করে চলছে। যুদ্ধাপরাধীদের রক্ষাকরী সকল আপশক্তিকে সামাজিকভাবে প্রত্যাখান করতে হবে। দেশের ইতিহাসে ৭১’র পর আর কোন সংহতি হয় নি। যে বিপ্লবরে কথা বলা হয়, নবেম্বরের ওই বিপ্লবের ফলে দেশে জামাত নেজামী শক্তি পুন:প্রতিষ্ঠা পেয়েছিল। মূলত ৭ নবেম্বর বিপ্লব বা সংহতি দিবস নয়, দিনটি মুক্তিযোদ্ধা হত্যা দিবস। ওইসব অপশক্তি এখনও দেশের ইতিহাস বিকৃতি করে চলছে।

রবিবার রাজধানীর জাতীয় জাদুঘরের কবি সুফিয়া কামাল মিলনায়তনে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস বিকৃতি প্রতিরোধে করণীয় শীর্ষক এক আলোচনা সভায় বক্তারা এসব কথা বলেন। সেক্টর কমান্ডারস্ ফোরাম-মুক্তিযুদ্ধ’৭১ ওই আলোচনা সভার আয়োজন করে। এসময় তারা দ্রুত সময়ে যুদ্ধাপরীদের বিচারসহ জাতীয় চার নেতা, ৭ নবেম্বর মুক্তিযোদ্ধদের হত্যাকারীদের দ্রুত বিচারের দাবী জানান।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে বীর উত্তম অব. মেজর জেনারেল কে এম সফিউল্লাহ বলেন, মুক্তিযুদ্ধকালীন সংগঠিত অপরাধের জন্যে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইবুন্যালে যুদ্ধাপরাধীদের বিচার হচ্ছে। আমরা কি জানি না, কি দেশে তখন কি অন্যায়টা হয়েছিল? কে কোথায় ছিল? অ্যাডভোকেট মাহবুব উদ্দিন খান কিভাবে তাদেরকে ডিফেন্ড(রক্ষা করা) করতে যান? তার তো নিজেরই উচিত ছিল তাদের ডিফেন্ড না করা। তাই আমি বলেবো, যারা যুদ্ধাপরাধীদের রক্ষা করতে চাচ্ছে তাদের সমাজিকভাবে প্রত্যাখান করতে হবে।

তিনি বলেন, ৭২ সালে বঙ্গবন্ধু দেশে প্রত্যার্বতনের পরই দালাল আইন করেন। তখন অনেকের সাজা হয়, ফাাঁসির রায় হয়। দালাল আইনে প্রায় সাড়ে ৩৭ হাজার দালাল ধরা পড়ে, যারা যুদ্ধকালীন সময়ে আামদের বিরোধীতা করে এবং মা-বোনকে অত্যাচার করেছিল। পরে একটি স্পেশাল কমিশন করে জানা যায় ২৬ হাজার লোক কোন অন্যায় করে নি, ফলে বঙ্গবন্ধু তাদের মাফ করে দেন। তবে একটি শর্ত ছিল পরবর্তীতে তাদের যদি কোন অপরাধ প্রমাণিত হয়, তাদের আইনের আওতায় আনা হবে। বঙ্গবন্ধু হত্যার পর জিয়া ক্ষমতায় এসে ফাঁসি ও সাজাপ্রাপ্তদের ছেড়ে দেয়। এরা এখনও সমাজে বিচরণ করছে। সরকারে প্রতি অহ্বান দালাল আইনে সাজাপ্রাপ্তদের বিচারের আওতায় আনা হোক।

জাতীয় চার নেতা হত্যার প্রসঙ্গ টেনে তিনি আরও বলেন, আমাদের জাতীয় চার নেতাকে জেলে অবৈধভাবে অনুপ্রবেশ করে হত্যা করা হয়। দ্রুত সময়ে জাতীয় চার নেতা হত্যার বিচারের দাবি জানাই।

বীর প্রতীক অব. লে: জেনারেল এম হারুন-আর-রশিদ বলেন, বঙ্গবন্ধু হত্যার পর জিয়া ক্ষমতায় এসে ৭২’র সংবধিানে পরিবর্তন আনে। সংবিধানে রাষ্ট্রর্ধম ইসলাম যুক্ত করে জেনারেল এরশাদও একই পথে হাঁটেন। মানুষের র্ধম থাকতে পারে, কিন্তু রাষ্ট্রের কোন ধর্ম নেই। রাষ্ট্র সব মানুষের জন্য সমান। কিন্তু এর ফলে একাত্তরের মূল চেতনা থেকে সরে আসা হয়।

৭ নবেম্বরের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, ৭ নবেম্বর সংহতি দিবস হতে পারে না, এ দিন মুক্তিযোদ্ধাদের হত্যা করে জাতিকে বিভাজন করা হয়েছে। তবে যে সংহতি হয়েছিল তা কেবল একাত্তরের পরাজিত শক্তির মধ্যে। তিনি বলেন, বিপ্লব! ৭ নবেম্বর বিপ্লবের মাধ্যমে দেশে জামাত নেজামীকে পুন:প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস বিকৃতকারীদের সামাজিকভাবে প্রতিহত করতে হবে, বাংলাদেশ বিরোধীদের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে। ত্রিশ লক্ষ মানুষ প্রাণ দিয়ে যে দেশের স্বাধীনতা অর্জন করেছে, সে দেশের ১৬ কোটি মানুষ জঙ্গী গোষ্ঠীকে পরাজিত করতে পারে।

মুক্তিযোদ্ধা হারুণ হাবীব বলেন, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবকে যারা অবনত চিত্তে যারা মেনে নিতে পারে না তাদের বাংলাদেশ রাষ্ট্রে রাজনীতি করার অধিকার নেই। তিনি আরও বলেন, ৭ নবেম্বর বিল্পব বা সংহতি দিবস নয়, ৭ নবেম্বর ছিল মূলত মুক্তিযোদ্ধ হত্যা দিবস।

আলহাজ্ব আবুল কাশেম ভূঁইয়ার সভাপতিত্বে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন মুক্তিযোদ্ধা অধ্যাপক আবুল কালাম আজাদ পাটওয়ারী (অব:), মুক্তিযোদ্ধা মোশাররফ হোসেন, অধ্যাপক এইচ এম সোলাইমান চৌধুরি প্রমুখ।

#এহত