১৯ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

নীতিশ-লালু ম্যাজিকের কাছে পরাস্ত মোদি

নীতিশ-লালু ম্যাজিকের কাছে পরাস্ত মোদি
  • বিজেপির পরাজয়ে বিহারে সংখ্যালঘু ও উদারপন্থীদের স্বস্তি

জনকণ্ঠ ডেস্ক ॥ বিহারে বিধানসভা নির্বাচনে নীতিশ, লালু এবং কংগ্রেস মহাজোটের কাছে ডাহা ফেল বিজেপি নেতৃত্বাধীন জোটের। ভারতের অন্যতম দরিদ্র এই রাজ্যে নীতিশ-লালু ম্যাজিকের কাছে সুস্পষ্ট ধরাশায়ী হয়েছে মোদি ম্যাজিক। রবিবার প্রকাশিত নির্বাচনের সর্বশেষ ফলাফলে দেখা যায় বিহারের সর্বমোট ২৪৩ বিধানসভা আসনের মধ্যে মহাজোট পেয়েছে ১৭৮ আসন। বিজেপি জোট ৬০ এবং অন্য দল পেয়েছে ৫ আসন। এই জয়ে নীতিশ কুমার বিহারের মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে হ্যাট্রিক দায়িত্ব পালনের সুযোগ পেলেন। এই জয় বিহারবাসীদের জন্য গর্বের বলে জানিয়েছেন জনতা দলের প্রধান নীতিশ কুমার। প্রধানমন্ত্রী মোদি ভারতের অত্যন্ত দরিদ্র রাজ্য হিসেবে পরিচিত বিহারের নির্বাচনে জয়ের আশা করছিলেন। ধারণা করছিলেন, এই রাজ্যে জয়ের মধ্য দিয়ে ভারতীয় সংসদের উচ্চকক্ষ রাজ্যসভায় বিজেপির শক্তি আরও বাড়বে। কিন্তু ফল হলো উল্টো। এই পরাজয় কেন্দ্রে ক্ষমতাসীন বিজেপির জন্য বড় আঘাত হিসেবে আবির্ভূত হলো। আর বিহারের সংখ্যালঘু এবং উদারপন্থীদের জন্য এই জয় স্বস্তিদায়ক হবে বলে মনে করা হচ্ছে। খবর এনডিটিভি, টাইমস অব ইন্ডিয়া ও এএফপির।

ফল প্রকাশের পর বিজেপি জোটের পরাজয় মেনে নিয়ে নীতিশ কুমারকে টেলিফোনে অভিনন্দন জানান ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। এরপর এক টুইটার বার্তায় মোদি বলেন, আমি বিহারের মুখ্যমন্ত্রী নীতিশ কুমারের সঙ্গে কথা বলেছি এবং নির্বাচনে বিজয়ের জন্য তাকে ধন্যবাদ জানিয়েছি। বিজেপির সভাপতি অমিত শাহ পরাজয় মেনে নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী নীতিশ কুমারকে অভিনন্দন জানিয়েছেন। বিহারের জনতার রায়কে তার দল শ্রদ্ধা করে বলেও মন্তব্য করেন অমিত। রবিবার টুইটারে বার্তায় তিনি বলেন, আমি নীতিশ কুমার ও লালু প্রসাদ যাদবকে তাদের জয়ের জন্য অভিনন্দন জানাই। বিহারের জনতার রায়কে আমরা শ্রদ্ধা করি। নতুন সরকারের যাত্রা শুভ হোক।

এরপর নীতিশকে অভিনন্দন জানান দিল্লীর মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়াল, পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জী ও কাশ্মীরের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী ওমর আব্দুল্লাহসহ অন্যরা।

জয়ের খবরে মহাজোটের দ্বিতীয় শরিক আরজেডি পার্টির প্রধান লালু প্রসাদ যাদব বলেন, নির্বাচনে বিহারের জনগণ মোদির ফ্যাসিবাদী সরকারকে প্রত্যাখ্যান করেছে। এ সময় নীতিশকে ভাই সম্বোধন করে লালু বলেন, নীতিশ কুমারই মুখ্যমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করবে। তার শাসনামলে বিহারে উন্নয়নের ধারাবাহিকতা বজায় থাকবে। নীতিশের নেত্বত্বে বিহার উন্নয়নের এক নতুন উচ্চতায় পৌঁছাবে।

কংগ্রেসের সহসভাপতি রাহুল গান্ধী টুইটে বলেন এ জয় বিভেদের বিরুদ্ধে একতার জয়। ঔদ্ধত্যের বিরুদ্ধে নম্রতার জয়। ঘৃণার বিরুদ্ধে ভালবাসার জয়। এ জয় বিহারবাসীদের জয়। এ ফলাফলের জন্য বিহারবাসী, নীতিশ কুমার ও লালু প্রসাদকে অভিনন্দন জানান রাহুল। পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জী বলেন, এ জয় সহিষ্ণুতার জয়, অসহিষ্ণুতার পরাজয়। তিনিও নীতিশ কুমার, লালু প্রসাদ ও বিহারবাসীদের অভিনন্দন জানান।

এ জয়ের জন্য নীতিশ কুমারকে রাজনৈতিক হিরো বলে অভিহিত করেন শিবসেনা নেতা সঞ্জয় রাউত। পাশাপাশি পরাজয়ের দায় প্রধানমন্ত্রী মোদির ওপর চাপিয়েছেন এই শিবসেনা নেতা।

এই নির্বাচনে ভোটের পাশাপাশি উল্লেখযোগ্য সংখ্যক ‘না’ ভোট পড়েছে। যা বিহারের নির্বাচনে আগে কখনও দেখা যায়নি।

নির্বাচনে জয়ের খবরে রাজপথে নেমে আসে মহাজোটের সমর্থকরা। নেচে-গেয়ে তারা আনন্দপ্রকাশ করে। এ সময় অনেকে নীতিশ কুমারকে রাজনীতির হিরো বলে আখ্যা দেয়।

নীতিশ-লালুর এ জয়কে গণতন্ত্রের জয় বলে আখ্যা দিয়েছেন শত্রুঘœ সিনহা। এ নির্বাচনে বিজেপি জোটের পরাজয় নিয়ে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে পর্যন্ত সমালোচনা করেন বলিউডের সাবেক এই নায়ক।

বিজেপির সাধারণ সম্পাদক ও দলটির সিনিয়র নেতা রাম মাধব বলেন এই ফল সম্পূর্ণ অপ্রত্যাশিত ছিল। কাজেই এর কারণ বিশ্লেষণ করতে সময় লাগবে। তিনি বলেন, আমাদের ধারণা ছিল লড়াই হাড্ডাহাড্ডি হবে, কিন্তু জেডিইউ জোট এত ভাল করবে তা বিজেপি ভাবেনি।

নীতিশ কুমার বিহারের গত দুই নির্বাচনে বিজেপিকে সঙ্গে নিয়ে ভোটে জিতেছিলেন। কিন্তু এবার বিজেপির সঙ্গ ছেড়ে তিনি হাত মেলান তার পুরনো রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ লালু প্রসাদের সঙ্গে।

দুর্নীতির মামলায় দোষী সাব্যস্ত লালু নিজে ভোটে লড়তে পারেননি, কিন্তু সমানসংখ্যক আসনে লড়াইয়ে তার দল নীতিশ কুমারের দল জেডি-ইউয়ের চেয়ে বেশি ভাল করেছে। অন্তত ৮০ আসন পেতে চলেছে তার দল।

রবিবার সকাল থেকেই বিহারের ভোট গণনায় নাটকীয়তার সৃষ্টি হয়। সকাল ৮টা থেকে শুরু হওয়া এ গণনায় প্রথমদিকে বিজেপি নেতৃত্বাধীন এনডিএ জোটের এগিয়ে থাকার খবর পাওয়া যাচ্ছিল। তবে সময় গড়াতেই প্রবলভাবে লড়াইয়ে ফিরে আসে মহাজোট।

গত অক্টোবর ও চলতি নবেম্বর মাসে মোট ৫ ধাপে অনুষ্ঠিত হয় ২৪৩ আসনের বিহার বিধানসভার নির্বাচন। রবিবার সকাল থেকেই বিহারের ভোট গণনায় নাটকীয়তার সৃষ্টি হয়।