১৫ ডিসেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

খুনের টার্গেট ছিল সাদা চামড়ার মানুষ

শংকর কুমার দে ॥ বিএনপি নেতা সাবেক ওয়ার্ড কমিশনার আবদুল কাইয়ুম মালয়েশিয়া থেকে নির্দেশ দেয়ার পর লাশ পড়েছে ঢাকায়। নির্দেশ দেয়া হয়েছে সাদা চামড়ার একজনের লাশ ফেলার জন্য। আর লাশ পড়েছে ইতালীয় নাগরিক সিজার তাভেলার। বড় ভাই কাইয়ুম কমিশনারের নির্দেশ পালন করেন তার ছোট ভাই আবদুল মতিন। আবদুল মতিনের বড় ভাই আবদুল কাইয়ুমের বড় ভাই কেউ আছে কিনা সেই বিষয়েও জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে তাকে। রিমান্ড নিয়ে রবিবার তৃতীয় দিনের জিজ্ঞাসাবাদে আবদুল মতিনের কাছ থেকে এ ধরনের তথ্য পেয়েছেন ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি)। ডিবি সূত্রে এ খবর জানা গেছে। ডিবির জিজ্ঞাসাবাদে মতিন জানান, ইতালীয় নাগরিক সিজার তাভেলা খুনের টার্গেট

ছিল না। খুনের টার্গেট ছিল সাদা চামড়ার মানুষ। কিন্তু ঘটনার দিন সাদা চামড়ার মানুষ হিসেবে সিজার তাভেলা সামনে পড়ে যায়। খুন করার জন্য যাদের নিয়োগ দেয়া হয় তারাই খুন করে ফেলে সিজার তাভেলাকে। কিন্তু যারা খুন করেছে তারা জানে না তাভেলা কোন দেশের মানুষ। অর্থের লোভ দেখিয়ে খুনীদের মাধ্যমে একজন সাদা চামড়ার মানুষকে খুন করার পর জানা গেছে খুন হওয়া ব্যক্তিটি ইতালীয় নাগরিক সিজার তাভেলা। দেশে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টি করে আতঙ্ক ছড়িয়ে বিদেশীদের দৃষ্টি আকর্ষণ করার জন্য সাদা চাপড়ার মানুষ হত্যার নির্দেশ দেয়া হয় রাজনৈতিক কারণে। আবদুল মতিনকে জিজ্ঞাসাবাদে এ ধরনের তথ্য পাওয়ার পর এখন ডিবির প্রয়োজন হয়ে পড়েছে বিএনপি নেতা সাবেক কমিশনার আবদুল কাইয়ুমকে।

বেনাপোল সীমান্ত দিয়ে পালিয়ে ভারতে চলে যাওয়ার চেষ্টার সময়ে গত বুধবার মধ্যরাতে যশোরের বেনাপোল থেকে গ্রেফতার করা হয় এমএ মতিনকে। এর পরের দিন বৃহস্পতিবার তাকে ৮ দিনের রিমান্ডে আনা হয় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য। ঢাকা মহানগর বিএনপির যুগ্ম-আহব্বায়ক ও সাবেক ওয়ার্ড কমিশনার আবদুল কাইয়ুমের ছোট ভাই আবদুল মতিন। ২০০১ সালে বিএনপি-জামায়াত জোট ক্ষমতায় থাকার সময়ে বনানীর হাওয়া ভবনের সঙ্গে ঘনিষ্ট ছিলেন আবদুল কাইয়ুম।

তদন্তের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) একজন কর্মকর্তা জানান, আবদুল মতিন জিজ্ঞাসাবাদে বলেছেন, তার বড় ভাই আবদুল কাইয়ুমেরও আছেন ‘বড় ভাই’। আবদুল কাইয়ুম তার বড় ভাইয়ের নির্দেশেই মালয়েশিয়া থেকে ঢাকায় সাদা চামড়ার মানুষের লাশ ফেলার জন্য নির্দেশ দিয়েছেন। আর বড় ভাই আবদুল কাইয়ুম মালয়েশিয়া থেকে নির্দেশ দেয়ার পর ঢাকায় লাশ ফেলার কাজটি করেছেন বলে জিজ্ঞাসাবাদে জানিয়েছেন আবদুল মতিন। জিজ্ঞাসাবাদে মতিনের কাছে থেকে যে তথ্য পাওয়া গেছে, তাতে ডিবি জানতে পেরেছে, সরকারকে বেকায়দায় ফেলতে ষড়যন্ত্র হয়েছে। বিএনপি, জামায়াত-শিবির ও জঙ্গীদের নিয়ে ষড়যন্ত্র করে সাদা চামড়ার মানুষ হত্যার করার নির্দেশেই খুন হন ইতালীয় নাগরিক। এই ষড়যন্ত্রের ধারাবাহিকতাই পরবর্তী খুন, হামলা ও নাশকতার ঘটনা ঘটানো হয়েছে। মতিনের কাছ থেকে পাওয়া এসব তথ্য যাচাই-বাছাই করে দেখছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)।

ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) তদন্ত সূত্রে জানা গেছে, ইতালীয় নাগরিক সিজার তাভেলা হত্যাকা-ের অভিযোগে এ পর্যন্ত গ্রেফতার করা হয়েছে পাঁচ জনকে। এর মধ্যে মিনহাজুল আরেফিন রাসেল ওরফে ‘ভাগ্নে রাসেল’, রাসেল চৌধুরী ওরফে ‘চাকতি রাসেল’, ‘শূটার রুবেল’ এবং শাখাওয়াত হোসেন ওরফে শরীফ নামে চারজনকে। নিজেদের দোষ স্বীকার করে গ্রেফতারকৃত চার জনই আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দী দিয়েছে। ভাগ্নে রাসেল ও চাকতি রাসেলের স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দীতে নাম আসে আবদুল মতিনের। আবদুল মতিন তাদের খুনের জন্য ভাড়া করেছে বলে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দীতে জানায়। তারপরই তদন্তকারী সংস্থা ডিবি গ্রেফতার করে আবদুল মতিনকে। তাকে এখন রিমান্ডে এনে জিজ্ঞাসাবাদ করছে ডিবি পুলিশ।

প্রসঙ্গত, গত ২৮ সেপ্টেম্বর রাজধানীর গুলশানে সশস্ত্র দুর্বৃত্তের গুলিতে নিহত হন ইতালীয় নাগরিক সিজার তাভেলা।