২৬ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

ফাঁসি কার্যকর দাবি রাজনের বাবা-মায়ের

স্টাফ রিপোর্টার, সিলেট অফিস ॥ সিলেটে শিশু সামিউল আলম রাজনকে পিটিয়ে হত্যা মামলার রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করে তা দ্রুত কার্যকরের দাবি জানিয়েছেন তার বাবা আজিজুর রহমান ও মা লুবনা আক্তার। রায়ে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীও সন্তোষ প্রকাশ করেন। অন্যদিকে এ রায়ের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে আপীল করা হবে বলে জানিয়েছেন আসামিপক্ষের আইনজীবী। আলোচিত এ হত্যা মামলায় ১৩ আসামির মধ্যে প্রধান আসামি কামরুলসহ চারজনকে মৃত্যুদ- দেয়া হয়েছে। খালাস দেয়া হয়েছে তিনজনকে। অন্য আসামিরাও দ-িত হয়েছে বিভিন্ন মেয়াদের কারাদ-ে।

রবিবার দুপুরে চাঞ্চল্যকর এ মামলার রায়ের পর রাজনের বাবা বলেন, দ্রুত রায় ঘোষণা হওয়ায় আমরা খুশি। এ সময় দ্রুত রায় কার্যকরের দাবি জানিয়ে তিনি বলেন, রায় কার্যকর হলেই রাজনের আত্মা শান্তি পাবে।

রায়ের পর রাজনের মা লুবনা বেগম বলেন, ছেলে হত্যাকারীদের ফাঁসির দাবি নিয়ে এসেছিলাম। রায়ে আসামিদের ফাঁসি হওয়ায় আমি খুশি হয়েছি। এখন দ্রুত ফাঁসি কার্যকর ও পলাতক আসামিকে গ্রেফতারের দাবি জানান তিনি।

রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করে পিপি এ্যাডভোকেট মিসবাহ উদ্দিন সিরাজ বলেছেন, এ রায়ের মাধ্যমে বাংলাদেশ ও বিশ্ববাসীর যে প্রত্যাশা ছিল তার প্রতিফলন ঘটেছে। বাংলাদেশের সংবিধান অনুযায়ী আদালত গণমানুষের সেই প্রত্যাশার গুরুত্ব দিয়ে বিচারকার্য দ্রুত সম্পন্ন করে বাংলাদেশের ইতিহাসে প্রথম সফলভাবে একটি মামলার রায় প্রদান করেছেন। এ্যাডভোকেট মিসবাহ উদ্দিন সিরাজ বলেন, এ ঘটনার মিডিয়ায় গুরুত্ব সহকারে প্রকাশের কারণেই এত দ্রুত নিষ্পত্তি সম্ভব হয়েছে। তিনি সকল মিডিয়া কর্মীদের ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন।

রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করে আদালতের পিপি মফুর আলী জানান, প্রত্যাশিত রায়ই হয়েছে। দ্রুত সময়ের মধ্যে এ রায় ঘোষণা বিচার বিভাগের দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে। এর মাধ্যমে দেশে শিশু নির্যাতন কমে আসবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

বাদীপক্ষে রাজনের বাবার নিযুক্ত আইনজীবী এ্যাডভোকেট মশরুর আহমদ চৌধুরী শওকত তার প্রতিক্রিয়ায় বলেন, এ মামলার রায় একটি যুগান্তকারী এবং বাংলাদেশের ইতিহাসে একটি স্মরণীয় মামলার রায়। এ মামলার রায়ে আমরা সন্তুষ্ট হয়েছি এবং মহান আল্লাহ পাকের দরবারে শুকরিয়া আদায় করছি। আমরা আশা করছি আসামিপক্ষ যদি হাইকোর্টে যায় তবুও রায় বহাল থাকবে। এ মামলার রায় কার্যকর হলে এদেশে আর এ রকম কোন শিশু নির্যাতন হবে না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

আসামিপক্ষের বক্তব্য ॥ রাজন হত্যা মামলার রায়ের কপি পাওয়ার পর উচ্চ আদালতে যাবেন আসামিপক্ষের আইনজীবীরা। রায়ের পর কামরুলের নিযুক্ত আইনজীবী আলী হায়দার ও শাহ আশরাফুল ইসলাম, হাবিবুর রহমান এ তথ্য জানিয়েছেন। আইনজীবী আলী হায়দার বলেন, রাজন হত্যা মামলার রায় ঘোষণা হয়েছে। তবে সবার উচ্চ আদালতে আপীল করার অধিকার আছে। তাই রায়ের কপি পাওয়ার পর আমরা উচ্চ আদালতে যাব।

বিশিষ্টজনদের প্রতিক্রিয়া ॥ রাজন হত্যাকা-কে একটি জঘন্য অপরাধ হিসেবে উল্লেখ করে রায়ের সন্তোষ প্রকাশ করে বাংলাদেশ কমিউনিস্ট পার্টির জেলা সভাপতি এ্যাডভোকেট বেদানন্দ ভট্টাচার্য বলেন, সব ক্ষেত্রে সরকারকে সমভাবে তৎপর হওয়া প্রয়োজন। তিনি রাজন হত্যাকা-ের মতো তকি হত্যাকা-ে বিচার ত্বরান্বিত করার আহ্বান জানান।

রায়ের প্রতিক্রিয়ায় জেলার জাসদ সভাপতি কলমদর আলী বলেন, আইনের জটিলতা এড়িয়ে এত দ্রুত সময়ের মধ্যে এ হত্যাকা-ের বিচারকার্য সম্পন্ন হওয়ার বিষয়টি একটি দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। এটা বিচার বিভাগের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করেছে। তিনি এসব ঘটনা প্রতিরোধে সিলেটসহ সারাদেশে জনসচেতনতা তৈরির আহ্বান জানান।

প্রবীণ সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব সিলেট মহানগরের মুক্তিযোদ্ধা ইউনিট কমান্ডার ভবতোষ রায় বর্মণ রানা এ হত্যা মামালার রায়ে সন্তুষ্ট প্রকাশ করে বলেন, একটি গণতান্ত্রিক দেশে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা অপরিহার্য। এভাবে রাজন হত্যার বিচারের মতো প্রত্যেকটি বিচার নিষ্পত্তি করা হলে আইন ও সরকারের প্রতি জনগণের আস্থা বাড়বে।

সিলেট গণজাগরণ মঞ্চের মুখপাত্র দেবাশীষ দেবু রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করে বলেন, এ মামলার রায় একটি দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। শিশু নির্যাতন প্রতিরোধে সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধি করতে হবে।