১৩ ডিসেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

বিউটি বেগমের খালাসে রাকিবের পরিবারে অসন্তোষ

স্টাফ রিপোর্টার, খুলনা অফিস ॥ খুলনার চাঞ্চল্যকর শিশু রাকিব হত্যা মামলার তিন আসামির মধ্যে দুই জনকেই মৃত্যুদ- দিয়েছে আদালত। তবে বিউটি বেগম নামে অপর আসামিকে খালাস দেয়ার বিষয়টি মেনে নিতে পারেনি রাকিবের মা লাকি বেগমসহ পরিবারের সদস্যরা। স্থানীয় সাধারণ মানুষও রাকিবের পরিবারের সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করেছে এ ক্ষেত্রে। রাকিবের পরিবারের আইনজীবী জানিয়েছেন, তারা চাইলে এ বিষয়ে হাইকোর্টে আপীল করবেন তিনি। অন্যদিকে আসামি পক্ষের আইনজীবী ফাঁসির রায়ের বিরুদ্ধে হাইকোর্টে আপীল করবেন বলে জানিয়েছেন।

রায়ের পর রাকিবের মা লাকি বেগম কেঁদে কেঁদে বলেন, বিউটি বেগমের কথামতো শরীফ ও মিন্টু আমার ছেলেকে হত্যা করেছে। আশা করেছিলাম তিনজনেরই ফাঁসি হবে। তাদের ফাঁসি হলে রাকিবের আত্মা শান্তি পাবে। বিউটির কোন শাস্তি না হওয়ায় এই রায় আমরা মানি না বলে আহাজারি করতে থাকেন লাকি বেগম। এক পর্যায়ে তিনি জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন। রাকিবের মায়ের আহাজারিতে গোটা আদালতপাড়ায় এক হৃদয়বিদারক পরিস্থিতি তৈরি হয়।

রাকিবের বোন রিমিও আসামি বিউটি বেগমের ফাঁসি না হওয়ায় চিৎকার করে কাঁদতে থাকে। রাকিব পরিবারের বাসস্থান টুটপাড়া এলাকার কিছু লোক তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করেন। বিউটি বেগমের কোন সাজা না হওয়ায় উচ্চৈঃস্বরে তারা প্রতিবাদ জানান। পরে বিক্ষুব্ধ জনগণ আদালতের সামনের রাস্তায় অবস্থান নিয়ে কিছু সময়ের জন্য যানবাহন চলাচল বন্ধ করে দেয়। মামলার বাদী রাকিবের বাবা নুরুল আলম বলেন, আসামি বিউটিকে খালাস দেয়ার বিষয়টি মেনে নিতে পারছি না। যে দুইজনের ফাঁসির আদেশ হয়েছে তা অবিলম্বে কার্যকর দেখতে চাই।

রায়ের পর বাদী পক্ষের আইনজীবী ও বাংলাদেশ মানবাধিকার সংস্থা খুলনার সমন্বয়কারী এ্যাডভোকেট মোমিনুল ইসলাম বলেন, রাকিব হত্যা মামলার রায়ে তিনি সন্তুষ্ট। রায় যাতে দ্রুত কার্যকর হয় সেজন্য আমরা হাইকোর্টের কাছে আবেদন জানাব। বিউটি বেগমের কোন সাজা না হওয়ায় রাকিবের পরিবারের অসন্তুষ্টির বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে তিনি বলেন, তারা চাইলে ওই বিষয়টি নিয়েও আমরা হাইকোর্টে যাব।

রায়ের পর আসামি পক্ষের আইনজীবী চৌধুরী তৌহিদুর রহমান তুষার তার প্রতিক্রিয়ায় বলেন, সাক্ষ্য প্রমাণের ভিত্তিতে এ রায় হয়নি। আবেগতাড়িত হয়ে এ রায় দেয়া হয়েছে। এ রায়ের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে আপীল করবেন বলে তিনি জানান।