২০ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

মিয়ানমারে ঐতিহাসিক নির্বাচনে ভোট গ্রহণ সম্পন্ন

জনকণ্ঠ ডেস্ক ॥ আড়াই দশক পর প্রথমবারের মতো সব দলের অংশগ্রহণে সাধারণ নির্বাচনে নির্বিঘেœ ভোট দিয়েছে মিয়ানমারের জনগণ। ভোট চলাকালে সহিংসতার কোন খবর পাওয়া যায়নি।

ভোট গ্রহণ সম্পন্ন হয়েছে খুব দ্রুত। ভোটারদেরও হাসিমুখে ভোটকেন্দ্র থেকে বের হয়ে আসতে দেখা গেছে। স্থানীয় সময় রবিবার সকাল ৬টা থেকে শুরু হয় ভোটগ্রহণ। নিñিদ্র নিরাপত্তার মধ্যে লাইন ধরে ভোটাররা ভোট দিয়েছেন। বিরতিহীনভাবে এই ভোট চলে বিকেল ৪টা পর্যন্ত। খবর বিবিসি ও ওয়েবসাইটের।

আউং সান সু চির ন্যাশনাল লিগ ফর ডেমোক্র্যাসি (এনএলডি) নির্বাচনে পার্লামেন্টের বেশিরভাগ আসন জিতবে বলে মনে করা হচ্ছে। যদিও তাঁর প্রেসিডেন্ট হওয়ার এখতিয়ার নেই।

সামরিক বাহিনী সমর্থিত ইউনিয়ন সলিডারিটি এ্যান্ড ডেমোক্র্যাটিক পার্টি (ইউএসডিপি) ২০১১ সাল থেকে মিয়ানমারের ক্ষমতায় আছে।

সু চি ইয়াঙ্গুনে ভোট দিতে এলে সেখানে জড়ো হয় তার ভক্তরা। সু চি তাদের উদ্দেশে হাসিমুখে হাত নেড়ে শুভেচ্ছা জানিয়ে চলে যান। তবে তিনি কোন মন্তব্য করেননি।

দেশজুড়ে বিভিন্ন ভোটকেন্দ্রে দেখা গেছে ভোটারদের লম্বা লাইন। ভোর থেকেই মানুষ ভিড় করেছে ভোট কেন্দ্রগুলোতে। প্রাথমিক হিসাবে ভোটকেন্দ্রগুলোতে ৮০ শতাংশ ভোটারের উপস্থিতি ছিল বলেই জানিয়েছেন এক নির্বাচনী কর্মকর্তা।

সোমবার সকালের আগ পর্যন্ত ভোটের স্পষ্ট কোন ফল জানা যাবে না বলে জানিয়েছে বিবিসি। সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেতে হলে এনএলডিকে সব প্রতিদ্বন্দ্বী আসনে ৬৭ শতাংশ ভোট পেতে হবে।

এই নির্বাচনে ৯২টি দল অংশ নিলেও সেনা সমর্থিত ক্ষমতাসীন দল ইউনিয়ন সলিডারিটি এ্যান্ড ডেমোক্র্যাটিক পার্টি (ইউএসডিপি) এবং আউং সান সু চির ন্যাশনাল লিগ ফর ডেমোক্র্যাসির (এনএলডি) মধ্যেই স্পষ্টত মূল লড়াই হচ্ছে।

যে তালিকায় এ ভোট হচ্ছে, তাতে ভোটার রয়েছেন প্রায় তিন কোটি। তাদের ভোটে ৪৪০ আসনের পার্লামেন্ট ‘পিথু হালতাউয়ের’ (প্রতিনিধি পরিষদ) ৩৩০ জন জনপ্রতিনিধি নির্বাচিত হবেন। বাকি ১১০ আসন সেনাবাহিনীর জন্য সংরক্ষিত।

সাড়ে পাঁচ দশকের বেশি সময় ক্ষমতায় থাকা সেনাবাহিনী সংবিধান সংশোধনের মধ্য দিয়ে এমন সব বিধান চালু করেছে, যেগুলো পেরিয়ে ক্ষমতায় আসা যে কোন দলের জন্যই কঠিন। সংবিধান সংশোধনের জন্য তিন-চতুর্থাংশ সদস্যের সমর্থন প্রয়োজন। ফলে সব বেসামরিক এমপি একজোট হলেও সংবিধান সংশোধন সম্ভব হবে না সেনাবাহিনীর সদস্যদের সমর্থন ছাড়া।

২০০৮ সালে মিয়ানমারের সংবিধান সংশোধনের সময় রাষ্ট্রপতি পদে মনোনয়ন, সামরিক বাহিনীকে ক্ষমতার অংশীদারিত্ব প্রদান, পার্লামেন্টে তাদের জন্য ২৫ শতাংশ আসন সংরক্ষণসহ বেশকিছু ধারা সংযোজন করা হয়, যেগুলোকে ‘অগণতান্ত্রিক’ বলে আসছেন এনএলডির নেতারা।

সংবিধানে প্রেসিডেন্টই সর্বময় ক্ষমতার উৎস। আবার প্রেসিডেন্টকে সেনাবাহিনীর পরামর্শ নিয়ে কাজ করতে হয়। পার্লামেন্টে পাস করা যে কোন আইনে ভেটো দেয়ার ক্ষমতা রয়েছে তার।

বিদেশীকে বিয়ে করায় সু চির প্রেসিডেন্ট হওয়ার পথও বন্ধ হয়েছে ওই সংবিধানে। সংবিধানের ৫৯ (এফ) ধারায় বলা হয়েছে, যদি কেউ কোন বিদেশী নাগরিককে বিয়ে করেন এবং তার সন্তানরা অন্য দেশের নাগরিক হয়ে থাকেন, তাহলে তিনি প্রেসিডেন্ট পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে পারবেন না।

অবশ্য শান্তিপূর্ণ এ নির্বাচনের পর ক্ষমতার পালাবদলের সমীকরণ মেলানোর কঠিন দায়িত্বটি এনএলডি চেয়ারপার্সনের হাতেই পড়বে বলে পর্যবেক্ষকদের ধারণা।

নির্বাচিত সংবাদ