১৯ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

জলবায়ু ঝুঁকি মোকাবেলায় শিল্পোন্নত দেশগুলো প্রতিশ্রুত অনুদান দিচ্ছে না

জলবায়ু ঝুঁকি মোকাবেলায় শিল্পোন্নত দেশগুলো প্রতিশ্রুত অনুদান দিচ্ছে না
  • কর্মশালায় অর্থমন্ত্রী

অর্থনৈতিক রিপোর্টার ॥ জলবায়ু পরিবর্তনজনিত কারণে সবচেয়ে বেশি পরিবেশগত ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে বাংলাদেশ। এই ঝুঁকি মোকাবেলায় শিল্পোন্নত দেশগুলোর পর্যাপ্ত অনুদান দেয়ার প্রতিশ্রুতি থাকলেও তা দেয়া হচ্ছে না। বরং এখন এর বিপরীতে ঋণ দিতে চাইছে তারা। তবে অনুদানের এই অর্থ সহজশর্তে ঋণ হিসেবে পেতেও আপত্তি নেই বলে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত।

রবিবার রাজধানীর বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে ‘এ্যাকসেসিং গ্রীন ক্লাইমেট ফান্ড : অপরচুনিটিস, অপশনস এ্যান্ড চ্যালেঞ্জেস ফর প্রাইভেট সেক্টর এ্যান্ড সিভিল সোসাইটি অর্গানাইজেশন’ শীর্ষক কর্মশালার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের সিনিয়র সচিব মেজবাহ উদ্দিনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন- শিল্পমন্ত্রী আমির হোসেন আমু, পরিবেশ ও বন উপমন্ত্রী আবদুল্লাহ আল ইসলাম জ্যাকব, এনবিআর চেয়ারম্যান নজিবুর রহমান, এফবিসিসিআইয়ের প্রেসিডেন্ট আবদুল মাতলুব আহমাদ, অর্থনীতিবিদ ড. কাজী খলীকুজ্জামান প্রমুখ।

অর্থমন্ত্রী বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে সবচেয়ে বেশি পরিবেশগত ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে বাংলাদেশ। এ ঝুঁকি মোকাবেলায় সরকার নিজস্ব অর্থায়নে বেশকিছু প্রকল্প হাতে নিয়েছে। গ্রীন ক্লাইমেট ফান্ডের আওতায় অনুদান হিসেবে যে অর্থ পাওয়ার কথা তা সহজশর্তে ঋণ হিসেবে পেলেও ভাগ্যের ব্যাপার।

তিনি আরও বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে পরিবেশগত ক্ষয়ক্ষতির সঠিক হিসাব নির্ণয় করতে হবে। এজন্য আমাদের প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা গড়ে তুলতে হবে।

উল্লেখ্য, জলবায়ু পরিবর্তনজনিত কারণে ক্ষতিগ্রস্ত দেশসমূহে অভিযোজন ও নিরসনমূলক প্রকল্প বাস্তবায়নে আর্থিক সহযোগিতা দিতে ২০১০ সালে গ্রীন ক্লাইমেট ফান্ড গঠিত হয়। গত ২০১০ সাল থেকে চলতি বছরের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত শিল্পোন্নত দেশগুলো, যারা অধিক পরিমাণ কার্বন নিঃসরণ করে তাদের জলবায়ু তহবিলে ৩৫ বিলিয়ন ডলার দেয়ার প্রতিশ্রুতি ছিল। অথচ গত ১৫ অক্টোবর পর্যন্ত তহবিলে মাত্র ২ দশমিক ৬ বিলিয়ন ডলার দেয়া হয়েছে।

এরমধ্যে গত শুক্রবার জাতিসংঘের গ্রীন ক্লাইমেট ফান্ড থেকে পেরু, মালাবি, সেনেগাল, ফিজি, মালদ্বীপ ও বাংলাদেশকে ১৬ কোটি ৮০ লাখ ডলার বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। একই সঙ্গে এডিবি, জার্মান ব্যাংক ও বিশ্বব্যাংকসহ বহুজাতিক কয়েকটি প্রতিষ্ঠানকে এ তহবিলের ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। শিল্পমন্ত্রী আমির হোসেন আমু বলেন, সবুজ জলবায়ু তহবিলের অর্থ ছাড় পেতে যে ধরনের প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা প্রয়োজন, উন্নয়নশীল দেশগুলো সে ধরনের সক্ষমতা অর্জন করতে পারেনি। এ অজুহাতে জলবায়ুর চরম ঝুঁকিতে থাকা দেশগুলো এখনও সবুজ জলবায়ু তহবিল থেকে পর্যাপ্ত অর্থ পায়নি। অথচ এ খাতে অর্থায়নে বিশ্বের অনেক বেসরকারী সংস্থা আগ্রহী।

তিনি বলেন, যেসব বেসরকারী প্রতিষ্ঠান এ খাতে বিনিয়োগ করেছে, তাদের মোট পরিসম্পদের পরিমাণ ৭০ ট্রিলিয়ন মার্কিন ডলার। এ থেকে বোঝা যায়, প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা বাড়াতে পারলে জলবায়ু তহবিলে অর্থ সংস্থানের কোন সমস্যা হবে না। এটি মাথায় রেখে বাংলাদেশে পর্যাপ্ত পরিমাণে সবুজ জলবায়ু তহবিলের অর্থ পেতে প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা ও দক্ষতা বাড়াতে হবে।