২৬ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

ফুটপাথ ব্যবসায়ীকে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ

  • বেলের শরবত খাইয়ে অজ্ঞান করে সোনা ও অর্থ লুট

স্টাফ রিপোর্টার ॥ রাজধানীর মুগদায় ফুটপাথের এক ব্যবসায়ীকে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। পৃথক স্থান থেকে নারীসহ দুইজনের ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার হয়েছে। এদিকে ঝিগাতলায় ম্যানহোলের বিস্ফোরণে ২ শ্রমিক আহত হয়েছে। অন্যদিকে ডেমরার একটি বাসায় বেলের শরবত খাইয়ে মা-মেয়েকে অজ্ঞান করে সাড়ে ৪ ভরি স্বর্ণ ও টাকা লুট করেছে দুর্বৃত্তরা। রবিবার পুলিশ ও মেডিক্যাল সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।

স্থানীয় সূত্র জানায়, মুগদার ল্যাংটা ফকিরের গলিতে আল আমিন (১৮) নামে এক যুবককে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ পাওয়া গেছে। নিহতের বাবার নাম মনির হোসেন। তিনি মুগদার মান্ডা এলাকায় থাকতেন। মুগদা থানার উপ-পরিদর্শক আজমল হোসেন জানান, আল-আমিন ওই এলাকায় ফুটপাথে রান্না করা নুডুলস বিক্রি করতেন। তিনি জানান, বুধবার রাতে এক নারীকে কেন্দ্র করে তাকে পিটিয়ে আহত করে স্থানীয় কয়েকজন যুবক। পরে তাকে গুরুতর আহত অবস্থায় উদ্ধার করে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে অবস্থার অবনতি হলে তাকে ধানম-ি কিডনি জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। তিনদিন মৃত্যুর সঙ্গে লড়ে শনিবার গভীররাতে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান। এসআই আজমল হোসেন জানান, এ ঘটনায় দুই যুবককে আটক করে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে হত্যা মামলার প্রস্তুতি চলছে।

নারীসহ দুইজনের ঝুলন্ত লাশ ॥ রাজধানীর যাত্রাবাড়ীর সুরুজনগর এলাকার একটি বাড়িতে নাইমুল হাসান নিংকন (৩৮) নামে এক ব্যবসায়ী গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছে। রবিবার দুপুরে ওই রুম থেকে ঝুলন্ত অবস্থায় তাকে নামিয়ে ঢামেক হাসপাতালের জরুরী বিভাগে আনেন তার ভাতিজা ওয়ালিদ হাসান। এ সময় কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষনা করেন। নিহতের ভাতিজা ওয়ালিদ জানান, চাচা নাইমুলের ইসলামপুরে কাপড়ের দোকান রয়েছে। সুরুজনগর এলাকার ৭৪/২ নম্বর বাড়িতে থাকতেন। তিনি জানান, রবিবার দুপুর ১২টার দিকে চাচাকে ঝুলন্ত অবস্থা দেখেন। পরে তাকে সেখান থেকে নামিয়ে দুপুর ১টার দিকে ঢামেক হাসপাতালে আনা হলে ডাক্তার মৃত বলে ঘোষনা করেন। নিহতের বাবার নাম আব্দুস শুকুর। গ্রামের বাড়ি চাঁদপুর জেলার মতলব থানার নাওড়ি গ্রামে।

অন্যদিকে একইদিন সকালে শাজাহানপুর শিল্পী হোটেল গলির এলাকার একটি বাসায় হামিদা আক্তার (২০) নামে এক গৃহবধূ গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছে। নিহতের স্বামীর নাম ইমরান হোসেন। নিহতের স্বামী ইমরান জানান, রবিবার সকালে তিনি কর্মস্থল পোশাক কারখানায় যাওয়ার আগে রান্না নিয়ে হামিদার সঙ্গে মা রাবিয়া আক্তারের ঝগড়া হয়। এরপর তিনি দু’জনের ঝগড়া থামিয়ে অফিসে চলে যান। পরে সকাল ৮টার দিকে স্ত্রী তাকে ফোন দিয়ে জানায়, তোমার মার জন্য আমার আর বেঁচে থাকা হচ্ছে না। আমি চলে যাচ্ছি। তাড়াতাড়ি চলে এসো। তিনি এটাকে মজা ভেবে পাত্তা দেননি। এর কিছুক্ষণ পর তার মা রাবেয়া বেগম তাকে ফোন দিয়ে জানান, তার স্ত্রী হামিদা গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছে। ইমরান জানান, খবর পেয়ে তিনি বাসায় এসে সকাল ৯টায় হামিদাকে ঝুলন্ত অবস্থায় উদ্ধার করে ঢামেক হাসপাতালের জরুরী বিভাগে আনেন। সকাল ১০টায় কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

এদিকে রাজধানীর ধানম-ি এলাকা থেকে আলফা পারভীন বেবি (৩৫) নামে এক নারীর লাশের ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হয়েছে রবিবার সকালে ঢামেকে। নিহতের বাবার নাম আব্দুল করিম। তার গ্রামের বাড়ি পাবনা সদরে। ধানম-ি থানার উপ-পরিদর্শক মোঃ রায়হান হোসেন জানান, ধানম-ি নম্বর রোডের জেনিথ টাওয়ার একটি রুম থেকে তার ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করা হয়। এ সময় লাশটি ফ্যানের সঙ্গে শাড়ি দিয়ে ঝুলন্ত অবস্থায় ছিল। নিহতের ছোট বোন আফরোজা পারভীন জানান, নবেম্বরের ১ তারিখে বোন ওই ফ্ল্যাট বাসায় ভাড়া আসেন। শুক্রবার রাত ১০টা থেকে আলফাকে মোবাইলে না পেয়ে শনিবার সন্ধ্যার দিকে তিনি ধানম-ির ওই বাসায় আসেন। অনেকক্ষণ পর্যন্ত দরজা নক করা হয়। এতে সাড়া শব্দ না পেয়ে পুলিশে খবর দেয়া হয়। পুলিশ দরজা ভেঙ্গে বোনের ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করে। তিনি জানান, বোনের আগে বিয়ে হয়েছিল। ওই স্বামীর সঙ্গে তার তালাক হয়ে গেছে। পরে একটি গণমাধ্যমে কর্মরত একজনের সঙ্গে তার বোনের সম্পর্ক হয়। তবে তাদের সম্পর্কের ব্যাপারে তিনি বিস্তারিত কিছু জানাতে পারেননি। পুলিশ জানায়, আলফা পারভীন গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছে।

ম্যানহোলে বিস্ফোরণে দুই শ্রমিক আহত ॥ রাজধানীর ঝিগাতলা এলাকায় ম্যানহোলের বিস্ফোরণে দুই শ্রমিক আহত হয়েছেন। পরে তাদের ঢামেক হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। আহতরা হচ্ছেন আলম (৫০) ও মোজাম্মেল হোসেন (২৮)। আহত আলম বলেন, রবিবার বিকেল ৪টার দিকে ঝিগাতলা এলাকায় তারা ম্যানহোল পরিষ্কার করতে যান। এ সময় সেখানে একটি ম্যানহোলের ঢাকনার ওপরে লোহার সাবল দিয়ে আঘাত করেন। তখন বিকট শব্দে ভেতর থেকে বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। এতে তারা ২ জন আহত হন। পরে মিলন নামের এক সহকর্মী তাদের উদ্ধারের পর হাসপাতালে নিয়ে ভর্তি করেন।

শরবত খেয়ে অজ্ঞান, সর্বস্ব লুট ॥ রাজধানীর ডেমরা এলাকায় একটি বাসা থেকে বেলের শরবত খাইয়ে মা-মেয়েকে অজ্ঞান করে সাড়ে ৪ ভরি স্বর্ণ ও টাকা লুট করেছে দুর্বৃত্তরা। শনিবার রাতে ডেমরার সারুলিয়া এলাকার ৫ নম্বর ওয়ার্ডের শহীদুল চেয়ারম্যানের ভাড়া বাসা থেকে মা পপি বেগম (৪৫) ও মেয়ে হেমা আক্তারকে (২৩) অচেতন অবস্থায় উদ্ধার করে ঢামেক হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। ঢামেক হাসপাতালে পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ পরিদর্শক মোজাম্মেল হক জানান, মা-মেয়ে ৬০২ নম্বর ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন। আহত হেমার স্বামী রুহুল আমিন জানান, সারুলিয়ার ওই বাড়িতে তারা ভাড়া থাকেন। শনিবার সন্ধ্যার দিকে তিন মহিলা ওই বাড়িতে ভাড়া নেয়ার জন্য আসেন। এ সময় ওই তিন মহিলা তাদের রুমে ঢুকে গল্প গুজব করতেন থাকেন। এক পর্যায়ে তারা স্ত্রী ও শাশুড়িকে বেলের শরবত খাওয়ায়। এমনকি মাথায় তেলও দিয়ে দেয়। এতে তারা অচেতন হয়ে পড়েন। পরে রাতে বাসায় এসে দেখেন স্ত্রী ও শাশুড়ি অচেতন হয়ে পড়ে আছেন। রুমের কাঠের আলমারি খোলা। পরে গিয়ে দেখেন আলমারি খুলে ওই তিন মহিলা সাড়ে ৪ ভরি স্বর্ণ ও টাকা লুট করে নিয়ে গেছে। পরে তাদের ঢামেক হাসপাতালে আনা হয়। রুহুল আমিন আরও জানান, কয়েকদিন আগে ওই তিন মহিলা বাড়ির রুম ভাড়া নেয়ার জন্য আসেন। এরপর চলে যান।