২০ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

আল্টিমেটামের পরও ফিরে আসেননি আইসোলেক্স কর্মীরা

  • দায়িত্ব নিয়েছিলেন স্পেনের রাষ্ট্রদূতও

রশিদ মামুন ॥ সময় বেঁধে কাজে যোগ দেয়ার আল্টিমেটাম দিলেও স্পেনের বিদ্যুত কেন্দ্র নির্মাতা প্রতিষ্ঠান আইসোলেক্স কর্মীরা এখনও ফিরে আসেননি। দেশের তিন বিদ্যুত কেন্দ্র থেকে কর্মী প্রত্যাহারের পর বিদ্যুত বিভাগ স্পেনের রাষ্ট্রদূতকে ডেকে ৫ নবেম্বরের মধ্যে আইসোলেক্স কর্মীদের কাজে যোগ দিতে বলে। স্পেনের রাষ্ট্রদূত বিষয়টির দায়িত্ব নিয়ে কর্মীদের ফিরিয়ে আনার দায়িত্ব নেন। কিন্তু রবিবার সন্ধ্যা পর্যন্ত ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান আইসোলেক্সের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাদের পাওয়া যায়নি।

সরকারের আল্টিমেটামের পর আইসোলেক্সের পক্ষ থেকে বলা হয়Ñ ৫ অথবা ৮ নম্বেবর তারা বিদ্যুত কেন্দ্রের কাজে যোগ দেবে। কিন্তু ইলেক্ট্রিসিটি জেনারেশন কোম্পানি ইজিসিবির পক্ষ থেকে রবিবার তাদের সঙ্গে কয়েক দফা যোগাযোগের চেষ্টা করেও পাওয়া যায়নি।

রবিবার বিকেলে ইজিসিবির পরিচালক (কারিগর) শান্তিরাম রায় জনকণ্ঠকে বলেন, তারা আমাদের জানিয়েছিল ৫ অথবা ৮ তারিখের মধ্যে তারা কাজে যোগ দেবেন। কিন্তু আজ অনেকবার চেষ্টা করেও তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারিনি। তাদের ঢাকার ফোন নম্বরগুলোও বন্ধ। সকাল থেকে কয়েক দফা চেষ্টা করেও তাদের পাইনি আমরা। এর অর্থ দাঁড়ায় তারা এখনও বাংলাদেশে আসেনি।

বিদ্যুত বিভাগ সূত্র জানায়, দুই বিদেশী নাগরিক হত্যাকা-ের পর মোট ৪১ জনকে তিনটি বিদ্যুত কেন্দ্র থেকে সাময়িকভাবে প্রত্যাহার করে নেয় আইসোলেক্স। এদের মধ্যে ইলেক্ট্রিসিটি জেনারেশন কোম্পানির (ইজিসিবি) সিদ্ধিরগঞ্জ ৩৩৫ মেগাওয়াট বিদ্যুত কেন্দ্র থেকে ৩৮, বিদ্যুত উন্নয়ন বোর্ডের বিবিয়ানা-৪৫০ মেগাওয়াটের ১ নম্বর ইউনিট থেকে দুজন এবং নর্থ ওয়েস্ট পাওয়ার জেনারেশন কোম্পানির খুলনা-১৫০ মেগাওয়াট থেকে একজনকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। সেখানে আর্জেন্টিনা এবং বুলগেরিয়ার নাগরিকও ছিল। আইসোলেক্স তাদেরও প্রকল্পগুলো থেকে প্রত্যাহার করে নিয়েছে। কিন্তু চুক্তির শর্ত অনুযায়ী আইসোলেক্স ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান হিসেবে এক তরফা এ সিদ্ধান্ত নিতে পারে না। সব বিদ্যুত কেন্দ্রই সরকারী বিদ্যুত কেন্দ্র। আইসোলেক্স এখানে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান হিসেবে কাজ করছে।

এতে তিনটি বিদ্যুত কেন্দ্রই সঙ্কটে পড়ে। তবে সব থেকে সমস্যায় পড়বে ইলেক্ট্রিসিটি জেনারেশন কোম্পানি ইজিসিবি। বিদ্যুত কেন্দ্রটির নির্মাণ কাজ চলছে। অন্য দুটির একটিতে ভূমি উন্নয়ন হচ্ছে আর অন্যটি বিদ্যুত উৎপাদন করছে।

জানতে চাইলে বিদ্যুত সচিব মনোয়ার ইসলাম রবিবার জনকণ্ঠকে বলেন, তাদের তো চলে আসার কথা ছিল। স্পেনের রাষ্ট্রদূত আমাদের সঙ্গে বৈঠক করে তাদের ফিরিয়ে আনার জন্য নিজে দায়িত্ব নিয়েছেন। আমরা এখনও আশা করছি তারা এ মাসের মধ্যেই কাজে যোগ দেবে। অন্যথায় চুক্তির শর্ত অনুযায়ী আমরা তাদের জরিমানা করব। তিনি বলেন, আমরা তো এর আগে বিভিন্ন কোম্পানি চুক্তির শর্ত ভঙ্গ করায় তাদের ৫০০ মিলিয়ন ডলারের ওপর জরিমানা করেছি। আইসোলেক্সের ক্ষেত্রেও তার কোন ব্যতিক্রম হবে না। আমাদের দেশে অন্য যারা উন্নয়নমূলক কাজ করছে বিশেষ করে বিদ্যুত বিভাগে তাদের একজনও এভাবে দেশে ফিরে যায়নি। আর দেশে এমন কোন পরিস্থিতিও তৈরি হয়েছে বলে তারা মনে করছেন না। শুধু একটি কোম্পানি এটা করেছে। বিদ্যুত বিভাগ বিষয়টি নজরদারি করছে।

বিদ্যুত বিভাগ সূত্র জানায়, সাধারণ বিদেশী নাগরিকরা যেভাবে চলাফেরা করেন বিদ্যুত কেন্দ্রের প্রকৌশলীরা সেভাবে থাকেন না। বড় বিদ্যুত কেন্দ্র কেপিআইভুক্ত। সেখানে সেনা সদস্যরা নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকে। উপরন্তু তাদের আনসার এবং পুলিশ পাহারাও বাড়ানো হয়েছিল। তারপরও একতরফাভাবে আইসোলেক্স কর্মী প্রত্যাহার করে।

ঢাকায় স্পেন দূতাবাস গত ৩ অক্টোবর নিজেদের নাগরিকদের বাংলাদেশে ভ্রমণ সতর্কতা জারি করে। এরপর ৫ অক্টোবর পিডিবি, ইজিসিবি এবং নর্থ ওয়েস্ট পাওয়ার জেনারেশন কোম্পনিকে একটি চিঠি দিয়ে আইসোলেক্স তাদের কর্মীদের প্রত্যাহার করে। ওই সময় বিদ্যুত বিভাগের তরফ থেকে তাদের পর্যাপ্ত নিরাপত্তা দেয়ার আশ্বাস দিয়ে কাজ চালিয়ে যাওয়ার অনুরোধ করে চিঠি দেয়া হয়। কিন্তু তারা অনুরোধ উপেক্ষা করে দেশে ছেড়ে চলে যায়।

পরবর্তীতে গত ১৮ অক্টোবর স্পেনের রাষ্ট্রদূত ইডুআরডু ডি লেগলোসিকে বিদ্যুত বিভাগ ডেকে পাঠায়। ওই বৈঠকে তিনি জানান বাংলাদেশের নিরাপত্তা ব্যবস্থা ভাল। তিনি নিজে এ পরিস্থিতিতে অস্বস্তি বা অনিরাপদ বোধ করছেন না। বিদ্যুত বিভাগ ওই বৈঠকে ৫ নবেম্বরের মধ্যে কাজে যোগ দেয়ার সময় বেঁধে দেয়। লেগলোসি ওই বৈঠকে আইসোলেক্সকে ফিরিয়ে আনার দায়িত্ব নেয়।

বৈকঠের পর বিদ্যুত জ্বালানি এবং খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ সাংবাদিকদের বলেন, আমরা রাষ্ট্রদূতকে বলেছি তাদের দেশের কোম্পানি আইসোলেক্সের প্রতি সরকার সন্তুষ্ট নয়। তারা নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাজ শেষ করতে পারেনি। এর মধ্যে কর্মী প্রত্যাহারের ঘটনা বিব্রতকর। আমাদের দেশে অন্য সব দেশের কর্মীরা কাজ করছেন সেখানে কেউ অনিরাপদ বোধ করল না। তাদের অনিরাপদ বোধ করার কারণ আমাদের বোধগম্য নয়। বিদ্যুত কেন্দ্রগুলো কেপিআই নিরাপত্তাভুক্ত, এখানে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পাশাপাশি সেনাসদস্যরা নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকে। তাদের যাতে কোন ক্ষতি না হয় সেজন্য বাড়তি নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছিল কিন্তু তারপরও তারা কাজ ফেলে চলে গেছে।