২১ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

হুমায়ূন আহমেদ সাহিত্য পুরস্কার পাচ্ছেন দুই লেখক

  • সংস্কৃতি সংবাদ

স্টাফ রিপোর্টার ॥ নন্দিত নরকে উপন্যাসের মাধ্যমে এদেশের কথাসাহিত্যে আত্মপ্রকাশ করেছিলেন হুমায়ূন আহমেদ। ১৯৭২ সালে সদ্য স্বাধীন বাংলাদেশে প্রকাশিত হয়েছিল উপন্যাসটি। সহজ-সরল ভাষার সঙ্গে সংলাপধর্মী উপন্যাসটি খুব সহজেই আকৃষ্ট করেছিল সাহিত্যানুরাগীদের। পরের গল্পটি শুধুই এগিয়ে যাওয়ার। টানা চারটি দশক আপন সৃষ্টিশীলতায় মোহাচ্ছন্ন করে রেখেছিলেন পাঠককে। ধারণ করেছেন দেশের সবচেয়ে জনপ্রিয় ও জননন্দিত কথাসাহিত্যিকের পরিচয়টি। প্রয়াত এই লেখকের স্মরণে এবং নবীন-প্রবীণ কথাশিল্পীদের প্রেরণা যোগাতে এ বছর থেকে প্রবর্তিত হয়েছে এক্সিম ব্যাংক-অন্যদিন হুমায়ূন আহমেদ সাহিত্য পুরস্কার-২০১৫। সাহিত্যে সামগ্রিক অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ পুরস্কার পাচ্ছেন শিকড়সন্ধানী প্রবীণ ও প্রখ্যাত কথাশিল্পী শওকত আলী। আর নবীন সাহিত্যশ্রেণীতে ‘পা’ গল্পগ্রন্থের জন্য নির্বাচিত হয়েছেন তরুণ লেখক সাদিয়া মাহজাবীন ইমাম। পুরস্কার হিসেবে লেখকদ্বয় পাবেন যথাক্রমে পাঁচ লাখ এবং এক লাখ টাকা। এছাড়া প্রদান করা হবে স্মারক, উত্তরীয় ও সম্মাননাপত্র। হুমায়ূনের জন্মদিনের আগের দিন ১২ নবেম্বর এই দুই লেখকের হাতে তুলে দেয়া হবে পুরস্কার। ওই দিন বিকেলে বাংলা একাডেমির আবদুল করিম সাহিত্যবিশারদ মিলনায়তনে আনুষ্ঠানিকভাবে এ পুরস্কার প্রদান করা হবে।

রবিবার বিকেলে বাংলা একাডেমির সভাকক্ষে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে পুরস্কারজয়ী লেখকদ্বয়ের নাম ঘোষণা করা হয়। এতে পুরপ্রাপ্ত লেখকদের নাম ঘোষণা করেন অন্যদিন সম্পাদক মাজহারুল ইসলাম। বক্তব্য রাখেন এক্সিম ব্যাংকের এ্যাসিসটেন্ট ভাইস প্রেসিডেন্ট সঞ্জীব চ্যাটার্জী। সম্মানিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক শামসুজ্জামান খান।

মাজহারুল ইসলাম বলেন, এদেশের সাহিত্য ভুবনে নতুন বাঁক সৃষ্টির পাশাপাকি পাঠক সৃষ্টিতে হুমায়ূন আহমেদের অবদান অতুলনীয়। বাংলা সাহিত্যে এই লেখকের অবদান ও স্মৃতি ধরে রাখতে এ পুরস্কার প্রবর্তন করা হয়েছে। প্রতিবছর ১২ নবেম্বর এ পুরস্কারটি প্রদান করা হবে।

শামসুজ্জামান খান বলেন, হুমায়ূন আহমেদের আগে বাংলা ভাষায় অনেক বড় বড় লেখক এসেছেন। কিন্তু হুমায়ূনের আবির্ভাবে এদেশের সাহিত্যের প্রতি ব্যাপকভাবে পাঠকদের দৃষ্টি আকৃষ্ট হয়। খুব পরিপাটি তরুণদের মনের কথাটি সাহিত্যের মাধ্যমে প্রকাশ করেছেন এই লেখক। এছাড়া তিনি ছিলেন মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের নিবেদিতপ্রাণ এক মানুষ। বর্তমানে যখন মুক্তচিন্তা ও বুদ্ধিবৃত্তিক চর্চা সঙ্কটাপন্ন তখন তার সাহিত্য হবে আমাদের হাতিয়ার। পুরস্কারপ্রাপ্ত লেখক শওকত আলী প্রসঙ্গে তিনি বলেন, তার কথাসাহিত্য হচ্ছে গভীরতা আশ্রয়ী। নিম্নবিত্ত মানুষের জীবনযাত্রার চিত্র অনুসন্ধানী দৃষ্টিভঙ্গিতে প্রতিফলিত হয়েছে এই লেখকের লেখায়।

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, পুরস্কার প্রদান অনুষ্ঠানে শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখার পাশাপাশি লেখকদ্বয়ের হাতে পুরস্কার তুলে দেবেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুুহিত, সংস্কৃতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূর এবং এক্সিম ব্যাংকের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম মজুমদার। বক্তব্য রাখবেন পুরস্কার নির্বাচনে গঠিত জুরি বোর্ড প্রধান অধ্যাপক আনিসুজ্জামান। এছাড়া পুরস্কার প্রবর্তন প্রসঙ্গে বক্তব্য রাখবেন হুমায়ূন আহমেদের অনুজ প্রখ্যাত শিশুসাহিত্যিক মুহম্মদ জাফর ইকবাল, হুমায়ূনপতœী মেহের আফরোজ শাওন ও বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক শামসুজ্জামান খান। শংসাবচন পাঠ করবেন লেখক-শিক্ষাবিদ হায়াৎ মামুদ ও পূরবী বসু। হুমায়ূন আহমেদের রচিত গান পরিবেশন করবেন কণ্ঠশিল্পী এসআই টুটুল।

দুই দিনব্যাপী নজরুলসঙ্গীত সম্মেলন শুরু ॥ সুর ও বাণীর নজরুল প্রতিপাদ্যে শুরু হলো দুই দিনব্যাপী নজরুলসঙ্গীত সম্মেলন। নজরুলসঙ্গীত শিল্পী পরিষদ আয়োজিত এ সম্মেলনের সূচনা হয় রবিবার। হেমন্ত সন্ধ্যায় শিল্পকলা একাডেমির জাতীয় সঙ্গীত ও নৃত্যকলা মিলনায়তনে পরিষদের সাধারণ সম্পাদক সুজিত মোস্তফার স্বাগত বক্তব্যের মাধ্যমে শুরু হয় অনুষ্ঠান। সংক্ষিপ্ত কথন শেষে মিলনায়তনে বয়ে যায় সুরের বৈভব। নজরুলের বিচিত্র আঙ্গিকের সঙ্গীতের পরিবেশনায় মুগ্ধ হয় মিলনায়তনভর্তি শ্রোতাবৃন্দ।

সম্মেলক পরিবেশনার মাধ্যমে শুরু হয় সঙ্গীতানুষ্ঠান। অনেক কণ্ঠ এক সুরে গায় ‘ও ভাই সোনার চেয়ে খাঁটি আমার দেশের মাটি।’ একক পরিবেশনা শুরু হয় এমএ মান্নানের গাওয়া ‘আল্লাহজি আল্লাহজি রহম করো’ গানটির মধ্য দিয়ে। সুজিত মোস্তফার কণ্ঠে গীত হয় ‘কথা কও, কও কথা।’ শহীদ কবির পলাশ পরিবেশন করেন ‘নিরজনে সখী বলো বধুয়ারে।’ রতন কুমার সাহা পরিবেশন করেন ‘ব্রজগোপি খেলে হরি’। আজ সোমবার দ্বিতীয় দিনের পরিবেশনা শুরু হবে একই ভেন্যুতে সন্ধ্যা সাড়ে ছয়টায়।