১৮ ডিসেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

নেই আরব মিত্ররা

  • সিরিয়ায় বিমান যুদ্ধ তীব্রতর করতে প্রস্তুতি যুক্তরাষ্ট্রের ॥ আইএস বিরোধী লড়াই

যুক্তরাষ্ট্র এখন সিরিয়ায় ইসলামিক স্টেটের (আইএস) ওপর বিমান হামলা জোরদার করার প্রস্তুতি নিচ্ছে কিন্তু এর আরব মিত্ররা আইএস বিরোধী লড়াই থেকে সরে পড়ছে। সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাত ইয়েমেনে হুতি বিদ্রোহীদের বিরুদ্ধে লড়াই চালাতে তাদের বেশির ভাগ বিমান সিরিয়া অভিযান থেকে সরিয়ে নিয়েছে। অথচ এ আরব মিত্ররা এক বছর আগে মিশনের শুরুতে বড় প্রচার চালিয়ে জঙ্গীবিমান পাঠিয়েছিল। খবর নিউইয়র্ক টাইমসের।

ওবামা প্রশাসন আইএস বিরোধী অভিযানের প্রথম দিনগুলোতে আমেরিকান জঙ্গী বিমানের পাশাপাশি আরব বিমান বাহিনীর আকাশে ওড়ার ঘটনাকে আইএস বিরোধী সংহতির এক গুরুত্বপূর্ণ প্রদর্শনী হিসেবে স্বাগত জানায়। জেনারেল তৃতীয় লয়েড জে অস্টিনের মতো শীর্ষ কমান্ডররা যারা সিরিয়া ও ইরাকে আইএস বিরোধী অভিযান দেখাশোনা করেন, তারা এখনও ওই লড়াইয়ে আরব দেশগুলোর অবদানের প্রশংসা করেন। কিন্তু এখন যুক্তরাষ্ট্র সিরীয় সরকারবিরোধী বিদ্রোহী বাহিনীকে সমর্থন করতে স্পেশাল অপারেশনস সৈন্যদের নির্দেশ দিয়ে এবং তুরস্কে দু’ডজন এ্যাটাক প্লেন পাঠিয়ে সিরীয় যুদ্ধের এক গুরুত্বপূর্ণ পর্যায়ে প্রবেশ করছে, অথচ বিমান অভিযান বহুলাংশে একক মার্কিন প্রয়াসে পরিণত হয়েছে। মার্কিন প্রশাসন কর্মকর্তারা সিরিয়ায় তাদের বিমান অভিযান যাতে আরেকটি আমেরিকান প্রধান লড়াই বলে প্রতীয়মান না হয়, সেই চেষ্টা করেন। অথচ পারস্য উপসাগরীয় দেশগুলোর অধিকাংশই সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট বাশার আল-আসাদের সরকারের বিরুদ্ধে লড়াইরত বিদ্রোহীদের সমর্থন যোগাতেই বেশি ব্যস্ত বলে দেখা যায়। এখন ওই কর্মকর্তাদের কেউ কেউ মেনে নিচ্ছেন যে, আরব অংশীদাররা সিরিয়ায় বিমান যুদ্ধ চালানোর মূল দায়িত্ব যুক্তরাষ্ট্রের ওপরই নীরবে ছেড়ে দিয়েছে। ওয়াশিংটনের মিত্রশূন্য হয়ে পড়ার ঘটনা এবারই প্রথম ঘটেনি। সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাত ইয়েমেনে ইরান সমর্থিত প্রতি বিদ্রোহীদের বিরুদ্ধে লড়াই চালাতে তাদের বিমানের বেশিরভাগই সেখানে নিয়ে গেছে। জর্দানও সৌদিদের সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করে এর জঙ্গী বিমানগুলো ইয়েমেনে পাঠিয়েছে। বাহরাইনের জেটগুলো সর্বশেষ ফেব্রুয়ারিতে সিরিয়ায় লক্ষ্যবস্তুর ওপর আঘাত এনেছিল বলে কোয়ালিশন কর্মকর্তারা জানান। কাতার সিরিয়ার আকাশসীমায় টহল দিচ্ছে, কিন্তু দেশটির ভূমিকা তেমন উল্লেখযোগ্য নয়।

সিরিয়ায় মার্কিন বিমান যুদ্ধের পরিচালক লে. জে. চার্লস ডব্লিউ ব্রাউন জুনিয়র কাতারের আল-উদেইদ বিমান ঘাঁটি থেকে আরব মিত্রদের প্রতি ইঙ্গিত করে বলেন, তারা সবাই অন্যান্য কাজে ব্যস্ত রয়েছে। ইয়েমেনই প্রধান রণক্ষেত্র। তিনি আরও বলেন, এসব মিত্র এখনও সিরিয়ার আকাশে সময়ে সময়ে বিমান অভিযান চালায় এবং আমেরিকান জেটগুলোকে তাদে ঘাঁটি ব্যবহার করতে দেয়। সংযুক্ত আরব আমিরাত মার্চে, জর্দান আগস্টে এবং সৌদি আরব সেপ্টেম্বরে সিরিয়ায় সর্বশেষ বিমান হামলা চালিয়েছিল। গত সপ্তাহে কোয়ালিশন কর্মকর্তাদের জানানো তথ্য থেকে এটি জানা যায়। কিন্তু আরব মিত্ররা বলছে, তারা কম সক্রিয় থাকলেও এখনও যুদ্ধে এক অপরিহার্য ভূমিকা পালন করছে। এ পর্যন্ত আটটি আরব ও পশ্চিমা মিত্রদেশ সিরিয়ায় ২,৭০০ বার বিমান হামলার শতকরা ৫ ভাগ পরিচালনা করে। সেই তুলনায় তারা ইরাকে ৫,১০০ বার বিমান হামলার শতকরা ৩০ ভাগ পরিচালনা করে। ইরাকে ন্যাটো অংশীদাররাও ইসলামিক স্টেটের বিরুদ্ধে বিমান হামলা চালায়। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্রই সবসময় ইরাকের মতো সিরিয়াতেও বেশির ভাগ বিমান হামলা চালাবে বলে প্রত্যাশা করা হয়, কারণ এর বাহিনী আরব রাষ্ট্রগুলোর বাহিনী বা পশ্চিমা মিত্রদের মোতায়েন যে কোন বাহিনীর তুলনায় অনেক বড়।

মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী এ্যাশটন বি. কার্টার ইসলামিক স্টেটের নেতাদের ওপর ও তেলক্ষত্রগুলোর ওপর আরও হামলা চালানোসহ সিরিয়ায় বিমান যুদ্ধ ত্বরান্বিত ও জোরদার করবেন বলে কংগ্রেসে প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। কিন্তু নতুন চেষ্টা এরই মধ্যে অসুবিধার মুখে পড়েছে।