২০ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

ধানে মাজরা পোকা

  • দিনাজপুরে খাদ্য নিরাপত্তা হুমকিতে

স্টাফ রিপোর্টার, দিনাজপুর ॥ দিনাজপুরে পর্যাপ্ত বৃষ্টিপাত না হওয়ায় কারেন্ট ও মাজরা পোকার আক্রমণে শুকিয়ে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে প্রায় ২০ হাজার হেক্টর জমির ধান গাছ। সাধারণ চাষীরা কৃষি বিভাগের পরামর্শে ধান ক্ষেতে কীটনাশক প্রয়োগ করলেও, প্রতিকার মিলছে না। তবে কৃষি বিভাগ বলছে, পরামর্শ মোতাবেক কীটনাশক পরিমাণ মতো যারা প্রয়োগ করছে, তারা সকলেই পোকা থেকে প্রতিকার পাচ্ছেন। কারেন্ট ও মাজরা পোকার আক্রমণ থেকে ধান গাছকে বাঁচাতে না পারলে উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা পূরণ না হওয়ার আশঙ্কা করছেন জেলার কৃষকরা।

দেশের বৃহত্তম ধান উৎপাদনকারী জেলা দিনাজপুরের ১৩টি উপজেলাজুড়ে প্রচুর আমন ধান আবাদ হয়। যা দেশের অধিকাংশ মানুষের খাদ্যের চাহিদা মিটিয়ে থাকে। দিনাজপুরের ধান ও চাল বিদেশে ও দেশের বিভিন্ন জেলায় সরবরাহ করা হয়। জেলার বিরল, চিরিরবন্দর, পার্বতীপুর, ঘোড়াঘাট, ফুলবাড়ী ও সদরসহ ১৩টি উপজেলায় প্রচুর ধান উৎপন্ন হয়। দিনাজপুরের অর্থনীতি মূলত কৃষিভিত্তিক। এ জেলার অধিকাংশ মানুষই কৃষি কাজের ওপর নির্ভরশীল। পোকার আক্রমণে চলতি আমন মৌসুমের আবাদ হুমকির মধ্যে পড়েছে।

লালমনিরহাটে মরিচ ক্ষেত

নিজস্ব সংবাদদাতা, লালমনিরহাট থেকে জানান, মোগলহাট সীমান্ত গ্রামে শীতের সবজি চাষে ধুম পড়ে গেছে। এরই মধ্যে মরিচ ক্ষেতে পচন রোগ মহামারী আকারে দেখা দিয়েছে। মরিচ চাষীরা পড়েছে মহাবিপাকে। জেলার মোগলহাট সীমান্তে মরিচ, লাউ, ফুলকপিসহ নানা সবজি চাষ করেছে কৃষক। প্রায় দুই শত একর জমিতে রবিশস্য হিসেবে শীতের সবজি চাষ করেছে। তবে এবারে মোগলহাটের কর্ণপুর ও বাচকটারী গ্রামে কাঁচা মরিচের ক্ষেতে পচন রোগ মহামারী আকারে দেখা দিয়েছে।

নীলফামারীতে আদা ক্ষেতে মড়ক

স্টাফ রিপোর্টার, নীলফামারী থেকে জানান, মসলা জাতীয় অর্থকরি ফসল আদা ক্ষেতে ব্যাপক হারে মোড়ক দেখা দিয়েছে। কিশোরীগঞ্জ উপজেলায় মাঠের পর মাঠ আদার গোড়া পচে যাওয়ায় সর্বস্বান্ত হচ্ছেন চাষিরা। রবিবার এলাকার আদা চাষীরা এ কথা জানায়।

এ উপজেলায় কৃষি বিভাগ আদা চাষাবাদের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছিল ২৮১ হেক্টর জমিতে। কিন্তু আদা চাষে এলাকাটি বিখ্যাত হওয়ায় সেখানে ৪১০ হেক্টর জমিতে কৃষকরা আদা চাষ করে। আদা ক্ষেতে মোড়ক দেখা দেয়ায় প্রতি বিঘা জমিতে কৃষকদের লোকসান গুনতে হবে ৫০ হাজার টাকা। কৃষকরা বলেছেন আদার এ পচন রোগটি অনেকটা ছোঁয়াছে রোগের মতো। জমির এক কর্ণারে শুরু হলে দ্রুত গোটা ক্ষেতে ছড়িয়ে পড়ে। তাই অনেক কৃষক মূলধন রক্ষা করতে অপরিপক্ব আদা ক্ষেত থেকে তুলে পানির দামে বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছে। উপজেলার পুটিমারী আদাচাষী আবু সায়েম লিটন জানায়, তিনি ২১ বিঘা জমিতে আদা চাষ করেন। কিন্তু গোড়া পচন রোগে তার ১৫ বিঘা জমির আদাক্ষেত নষ্ট হয়েছে। একই এলাকার অপর আদাচাষী মোকবুল হোসেন জানান, তিনি এবারে ১১০ শতাংশ জমিতে আদা চাষ করেন। তার ৫০ শতক জমির আদায় পচন রোগ ধরেছে। বড়ভিটা ইউনিয়নের মেলাবর গ্রামের আজাদ আলী, সাগর চন্দ্র, গাড়াগ্রাম ইউনিয়নের খামাতপাড়ার আনছার আলীসহ অনেকে আদা ক্ষেতের গোড়া পচন রোগের মড়কের কথা জানিয়ে বলেন তারা আদা চাষে কৃষি বিভাগের কর্মকর্তাদের কাছ থেকে পরামর্শ না পেয়ে পথে বসেছে।