২৪ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

জেএসসি পরীক্ষা ॥ স্বপ্ন জয়ে বিভোর তিন প্রতিবন্ধী

নিজস্ব সংবাদদাতা, শেরপুর, ৮ নবেম্বর ॥ প্রতিবন্ধিতা জয়ের স্বপ্নে বিভোর শেরপুরের তিন প্রতিবন্ধী সুমাইয়া, রিপন ও জয়। সুমাইয়ার পুরো নাম সুমাইয়া জাহান, সে শেরপুর সদর উপজেলার আন্ধারিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের ছাত্রী; রিপন মুন্সীরচর মতিজান উচ্চ বিদ্যালয়ের ছাত্র, পুরো নাম ফিরোজ আহমেদ রিপন আর জয় চৌহান শেরপুর সরকারী ভিক্টোরিয়া একাডেমির ছাত্র। তিনজনই এবার জুনিয়র স্কুল সার্টিফিকেট (জেএসসি) পরীক্ষায় অংশ নিয়েছে।

সরকারী ভিক্টোরিয়া একাডেমি কেন্দ্রে পরীক্ষা দিচ্ছে সুমাইয়া জাহান। ৫ নবেম্বর ওই কেন্দ্রে তথ্যপ্রযুক্তি বিষয়ের পরীক্ষা চলাকালে জানা যায়, সুমাইয়া ঠিকমতো কথা বলতে পারে না। পারে না এক মিনিটের জন্যও সোজা হয়ে দাঁড়াতে। তার দুটি হাতই অচল। কিন্তু জীবন সংগ্রামে জয়ী হওয়ার আকাক্সক্ষার এতটুকু কমতি নেই বহুমাত্রিক প্রতিবন্ধী মেয়েটির। ছেলেবেলা থেকেই পা দিয়ে লেখার অভ্যাস গড়ে তোলে সে। বাবা-মার আন্তরিক চেষ্টায় এ বছর জেএসসি পরীক্ষায় দিচ্ছে। কেন্দ্রের পাশেই কথা হয় সুমাইয়ার মা মোর্শেদা বেগমের সাথে। ওই সময় তিনি বলেন, জন্মগতভাবে সুমাইয়া বহুমাত্রিক প্রতিবন্ধী। অনেক চিকিৎসা করেও সে ভাল হয়নি। কিন্তু প্রচ- মেধাবী। ছোটকাল থেকেই তাকে পা দিয়ে লেখার অভ্যাস করানো হয়। যা পড়ে তাই মনে রাখতে পারে সে। প্রতিবন্ধী হলেও তার ইচ্ছাশক্তি প্রবল। শারীরিক প্রতিবন্ধী জয় চৌহান পরীক্ষা দিচ্ছে আইডিয়াল প্রিপারেটরি এ্যান্ড হাইস্কুল কেন্দ্রে। সে সোজা হয়ে দাঁড়াতে পারে না। হাতের ওপর ভর করে চলতে হয় তাকে। চা বিক্রেতা গোপাল চৌহানের সন্তান জয় লেখাপড়া করে শিক্ষক হতে চায়। গৃহিণী মা শুক্লা চৌহান জানান, জন্মের পর ভাল আছিল। দুই বছর বয়স থেকে পা চিকন হইতে থাকে। তৃতীয় শ্রেণীতে পড়ার সময় থেকে আর সোজা হইয়া দাঁড়াতে পারে না। আমরা গরিব। তারপরও পড়াশোনার প্রতি ছেলের আগ্রহ দেইখ্যা অরে পড়াইতাছি। জন্মগত বাকপ্রতিবন্ধী রিপনের বাবা আব্দুল মমিন কৃষক, মা শান্তি বেগম গৃহিণী। সেও শহরের আইডিয়াল প্রিপারেটরি এ্যান্ড হাইস্কুল কেন্দ্রে এবার জেএসসি পরীক্ষা। লেখাপড়া করে কি হতে চাও এমন প্রশ্ন করা হলে কাগজে লিখে উত্তর দেয়, আমি বড় হয়ে সৎ পুলিশ অফিসার হতে চাই।

এদিকে ওই তিন প্রতিবন্ধীর ব্যাপারে জানতে চাইলে শেরপুর সরকারী ভিক্টোরিয়া প্রধান শিক্ষক ও কেন্দ্র সচিব মোঃ হেদায়েতুল ইসলাম বলেন, সুমাইয়া পা দিয়ে লিখলেও তার লেখা চমৎকার। মেয়েটি ভীষণ মেধাবী। তিনি বলেন, বোর্ডের নির্দেশনা মোতাবেক প্রতিবন্ধী পরীক্ষার্থীরা প্রতি পরীক্ষায় অতিরিক্ত ২০ মিনিট করে সময় পাচ্ছে।

নির্বাচিত সংবাদ