২০ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

স্কুলে দেয়ার প্রস্তুতি এখনই

  • আবু সুফিয়ান কবির

নতুন বছরের শুরু হতে যাচ্ছে। আপনার সন্তান কি চার বছর অতিক্রম করেছে কিংবা আপনার সন্তানকে অন্য কোন ক্লাসে ভাল স্কুলে দিতে চান। তাহলে এখনই প্রস্তুতি নেয়া শুরু করুন। তবে এই ক্ষেত্রে আপনাকে কিছুটা সাবধানতা অবলম্বন করতে হবে। মনে রাখবেন ভর্তির সময় শিশুদের ওপর বাড়তি চাপ যেন না পড়ে। তাকে স্কুলে দিতে চাইলে প্রথমেই তাকে কিছু নিয়মকানুনের মধ্যে নিয়ে আসুন। এর মধ্যে প্রথম যে জিনিসটি তাকে শিখাতে হবে তা হলো সে যেন সকাল সকাল ঘুম থেকে উঠে সে বিষয়টি নিশ্চিত করতে হবে। একজন শিশু তার ওপর আত্মবিশ^াস তৈরি করতে হলে তাকে প্রথমেই আত্মবিশ^াসী হিসেবে গড়ে তুলুন। আর সেই শিশু আত্মবিশ^াসী, মনোযোগী ও নিয়মানুবর্তিতার মধ্যে আসে সে যদি জন্মের পর দুই বছর তার মায়ের সঙ্গে সময় কাটাতে পারে।

শিশুকে স্কুলের সঙ্গে পরিচিত করে তুলুন

সামনে জানুয়ারি মাস থেকেই বিভিন্ন স্কুলে শুরু হবে ভর্তিযুদ্ধ। আপনি আপনার সন্তানকে যে স্কুলে ভর্তি করতে চান সেই স্কুলের সঙ্গে পরিচিত করে তুলুন। স্কুলের কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগের সময় সন্তানকে স্কুলে নিয়ে যান। এতে তার মনে স্কুল নিয়ে যে ভয় বা উৎকণ্ঠা থাকে তা অনেকটাই কেটে যাবে।

আগে থেকে কিছু পড়ালেখা শিখিয়ে নিন

বাচ্চাকে স্কুলে দেয়ার আগে আপনাকে অবশ্যই বাচ্চাকে প্রথমিক বর্ণমালা কিছু ছোড়া ও রাইম শিখিয়ে নিন। এর সঙ্গে শিখিয়ে নিন বাংলা ও ইংরেজীর কিছু সংখ্যা। আজকাল বাজারে বিভিন্ন খেলনা, লগোর বর্ণমালা, সংখ্যা পাওয়া যায়। যার মাধ্যমে সে লেখাপড়া শিখতে পারে এবং এই বিষযে আগ্রহী হয়ে উঠবে।

আকর্ষণীয় স্কুল ব্যাগ ও টিফিন বক্স কিনে দিন

আকর্ষণীয় স্কুল ব্যাগ, পেক্সিল, স্কেল, পেন্সিল কাটার, রাবার, টিফিন বক্স, পানির পট শিশুদের দিতে পারলে তারা স্কুলে যাওয়ার প্রতি আগ্রহী হয়ে উঠে। তবে একটি জিনিস খেয়াল রাখবে যেন ব্যাগসহ স্কুলের অন্যান্য অনুষঙ্গে ছবি বা আকৃতি অবশ্যই হয় আমাদের দেশীয় ঐতিহ্যের সঙ্গে সম্পর্কযুক্ত।

উৎসাহমূলক অভ্যাস গড়ে তুলুন

বাচ্চারা যেন রুটিন দেখে নিজের ব্যাগ নিজেই গুছিয়ে নিতে পারে সেভাবে তার অভ্যাস গড়ে তুলুন। ক্লাস শুরুর আগে তার প্রস্তুতি সম্পর্কে অবহিত করুন। হাতমুখ ধোয়া, নাস্তা খাওয়া, স্কুল ড্রেস পরার সময় যেন অবশ্যই নির্ধারিত থাকে। তবে সময় মতো শিশুর সঙ্গে আপনি সকালে ঘুম থেকে ওঠার চেষ্টা করুন। পড়ার সময় পড়াখেলার সময় খেলা এই অভ্যাসটিও বাচ্চাদের মধ্যে গড়ে তুলতে হবে।

স্কুলের শিক্ষক ও সহপাঠীদের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করে তুলুন

স্কুলে যাবার আগে যদি শিক্ষক ও সহপাঠীদের সঙ্গে সম্পর্ক তৈরি করা যায় তাহলে তা শিক্ষার্থীকে স্কুলের প্রতি আগ্রহী করে তুলবে। সম্ভব হলে স্কুলে ভর্তি হওয়ার পরে ক্লাস টিচারের সঙ্গে আগেই পরিচিত হয়ে নিন। আপনার বাচ্চা কেমন বা কিভাবে তাকে কথা শুনানো যায় সেটা শিক্ষককে বলুন। যদি সম্ভব হয় তাহলে তাহলে বাচ্চাকেও শিক্ষকের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দিন। তাহলে স্কুলভীতি তার অনেকটা কেটে যাবে। অন্যান্য যে সব শিশু ভর্তির পর স্কুল চত্বরে অপেক্ষা করে তাদের সঙ্গে মিশতে দিন। স্কুল যে শুধু পড়ালেখার জন্য নয় এখানে খেলাধুলা ও বন্ধুদের সঙ্গে মজাদার গল্প করার জায়গা সেটাও যেন বাচ্চা অনুভব করতে পারে।

ছুটি দিনটিতেও তাকে স্কুলের অনুকরণে বাসায় শিক্ষা দিন। মনে রাখবেন অভিভাবকের একটু স্নেহ বা তার ভাল কাজের জন্য পুরস্কার প্রদান করার অভ্যাস গড়ে তুলতে পারলে জীবন সার্থক হবে। ভাল কাজের জন্য তাকে পুরস্কার দিন। ছুড়ির দিনে স্কুল ড্রেস পরে স্টুডিওতে গিয়ে একটি ছবি তুলুন। তাকে শিখান পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন থাকলে এবং বাইরের খোলা খাবার না খেলে সুন্দর ও সুস্থ থাকা প্রয়োজন। বাচ্চাকে কোন কিছু চাপ দিয়ে শেখানোর চেষ্টা করবেন না। এতে তার মনে নেতিবাচক প্রভাব পড়ে। যা তার স্বাভাবিক পড়ালেখার ক্ষেত্রে বিরূপ প্রভাব পড়তে পারে। স্কুলের ফার্স্ট যে হয় তার সঙ্গে তুলনা না করে বরং বলুন তুমি ইচ্ছা করলে অন্যের মতো ভাল রেজাল্ট করতে পারি। শিশুকে দেশের ঐতিহ্য ও ইতিহাস সম্পর্কে সচেতন করুন। তাহলে সে বড় হয়ে আদর্শবাদ নগরিক হিসেবে নিজেকে গড়ে তুলতে পারবে। শিশুকে ছবি আঁকার অভ্যাস গড়ে তুলুূন। এতে তার মধ্যে সৃজনশীলতা ও মেধা দুটিই বাড়বে। সামনে আপনার বাচ্চার স্কুলে ভর্তির জন্য আপনি প্রস্তুতি নিন। দেখবেন সব কিছু সহজ হয়ে যাবে। অভিভাবক ও বাচ্চা সবার কাছেই।

ছবি : রফিকুল আউয়াল

মডেল : হেলাল, রাহি ও হৃদি