১৯ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

নো টেনশন ডু ফুর্তি অঞ্জন আচার্য

চিন্তা যখন দুশ্চিন্তা নিয়ে তখন এর হাত থেকে বাঁচার উপায়টা বের করা সত্যিই বেশ কষ্টকর। কারণ আমাদের কাছে এমন কোন জাদুকরী কিছু নেই যার ছোঁয়ায় মুহূর্তেই মন থেকে গায়েব করে দিতে পারি সকল দুশ্চিন্তা। দুশ্চিন্তা এমন একটি অনুভূতি, যা মানুষ না করতে চাইলেও আপনা-আপনি চলে আসে মাথায়। বিভিন্ন গবেষণায় প্রমাণিত হয়েছে, মানসিক চাপ হৃদযন্ত্রের ক্ষতিও করে। নিউইয়র্কের রচেস্টার মেডিক্যাল সেন্টারের সেন্টার ফর মাইন্ড-বিডি রিসার্চ-এর মনোরোগবিদ্যার সহকারী অধ্যাপক ড. ক্যাথি হেফনার বলেন, ‘বিভিন্ন তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণ করে জানা গেছে, স্বল্প পুষ্টির খাবার খাওয়া বা ব্যায়াম করার অনীহার ফলে বাড়ে দুশ্চিন্তার ঝুঁকি। আর মানসিক চাপের ফলে সৃষ্ট সমস্যাগুলো হয়ে উঠতে পারে ভয়াবহ।’ তাই বলে ব্যাপারটা এমন নয়, এর থেকে আমরা কোনভাবেই নিজেকে দূরে সরিয়ে রাখতে পারব না। সামান্য কিছু কৌশল জানা থাকলেই আমরা নিজেদের দূরে রাখতে পারি ‘দুশ্চিন্তা’ নামক এই ব্যাধি থেকে। কিভাবে সম্ভব? বিষয়টি নিয়ে কথা হয় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এডুকেশন অ্যান্ড কাউন্সেলিং সাইকোলজি বিভাগের অধ্যাপক মেহতাব খানমের সঙ্গে। দুশ্চিন্তা থেকে মুক্ত থাকার কিছু উপায় জানান তিনি।

দুশ্চিন্তা যখন আপনাকে সম্পূর্ণভাবে গ্রাস করে ফেলে একবার নিজে শান্ত হয়ে বসে ভাবুন আপনার দুশ্চিন্তা মূলত কী নিয়ে? একবার যদি দুশ্চিন্তার জুতসই কোন কারণ খুঁজে বের করতে সক্ষম হন, তাহলে দেখবেন অনেকটাই কমে আসবে দুশ্চিন্তা। আর খুব বেশি দুশ্চিন্তাগ্রস্ত হলে ভাবুন যে দুশ্চিন্তা করার ফলে আপনি কি কোন সমাধানে আসতে পারছেন? নাকি আপনার দুশ্চিন্তা করার এই অভ্যাসের কারণে নিজে আরও বেশি হতাশাগ্রস্ত হয়ে পড়ছেন? মনে রাখুন, দুশ্চিন্তা করা কোন সমস্যার সমাধান নয়। এটা মেনে নিন; দেখবেন দুশ্চিন্তা আপনাকে আগ্রাসন করতে পারবে না।

দুশ্চিন্তা করার আরেকটি অর্থ হলো নিজের সময় অপচয় করা। আপনি আপনার জীবনের সমগ্র সময় থেকে যে সময়গুলো শুধুমাত্র দুশ্চিন্তা করে কাটিয়েছেন সেই সময়গুলো কেবল অপচয় হয়েছে মাত্র। এই কথাটা মনে প্রাণে বিশ্বাস করতে শিখুন। আপনার এই বিশ্বাস আপনাকে দুশ্চিন্তা থেকে দূরে রাখতে সাহায্য করবে।

দুশ্চিন্তাগ্রস্ত মানুষেরা নিজেদের একা রাখতে পছন্দ করে। যেটা সবচেয়ে বড় ভুল সিদ্ধান্ত। আপনি যদি কোন ব্যাপারে দুশ্চিন্তার শিকার হয়ে থাকেন, তাহলে সেটা নিজের মধ্যে চেপে না রেখে আপনার বিশ্বস্ত মানুষের সঙ্গে আলোচনা করুন। দেখবেন আপনার দুশ্চিন্তা অনেকটা কমে যাবে।

যে ব্যাপারটা আপনাকে বার বার দুশ্চিন্তা করতে বাধ্য করবে সেটা আপাতত এড়িয়ে যেতে নিজেকে কাজের মধ্যে ডুবিয়ে রাখুন। এক কথায় আপনার মনোযোগ অন্যদিকে ঘুরিয়ে দিন। মনোযোগ অন্যদিকে ঘুরিয়ে দেয়ার ফলে একটা সময় আপনার দুশ্চিন্তার কারণ তার গুরুত্ব হারিয়ে ফেলবে।

যে কোন মানসিক অস্থিরতা (বসড়ঃরড়হধষ রহংঃধনরষরঃু) থেকে নিজেকে দূরে রাখতে মেডিটেশনের তুলনা হয় না। যখনই আপনি নিজেকে দুশ্চিন্তার কবলে পড়তে দেখবেন আপনি নিজেকে মেডিটেশনের জন্য প্রস্তুত করতে থাকুন। প্রায় নিশ্চয়তা দিয়ে বলা যায় যে, মেডিটেশন আপনাকে সকল চিন্তা বা দুশ্চিন্তা থেকে রক্ষা করবে। দু’চোখ বন্ধ করে বুক ভরে শ্বাস নিন আর শ্বাস ছাড়ুন। এতে করে আপনার শরীরে রক্তে অক্সিজেনের পরিমাণ বেড়ে যাবে আর শান্ত হয়ে আসবে আপনার স্নায়ু। মস্তিষ্কে অক্সিজেনের পরিমাণ বৃদ্ধি পেলে আপনার মাংসপেশি শিথিল হয়ে কমিয়ে আনবে দুশ্চিন্তাগ্রস্ততা।

শারীরিক কসরত (ঢ়যুংরপধষ বীবৎপরংব) করার মাধ্যমেও দুশ্চিন্তা থেকে নিজেকে দূরে রাখা যায়। আপনার মন দুশ্চিন্তাগ্রস্ত হয়ে উঠলে সামান্য কিছু ব্যায়াম করুন। দেখবেন দুশ্চিন্তা, হতাশা, গ্লানি সবটা কেমন কমে আসছে।

পরিবারের মানুষগুলোর সঙ্গে কিছু ভালো মুহূর্ত কাটাতে পারেন। আপনার সঙ্গীকে নিয়ে কিছু একান্ত সময় উপভোগ করতে পারেন অথবা পরিবারের ছোট সদস্যদের সঙ্গে মেতে উঠতে পারেন হাসি আনন্দে। উদ্বেগ আর দুশ্চিন্তা কমাতে এগুলোর বিকল্প হয় না।