২১ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

বিলুপ্ত ছিটমহলবাসীর ভারত যাওয়া ফের পেছাল

স্টাফ রিপোর্টার, নীলফামারী॥ ভারতের নাগরিকত্ব বজায় রাখা সদ্য বিলুপ্ত ছিটমহলবাসীর স্থায়ীভাবে ভারত গমন অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। সোমবার প্রথম দফায় ৭৩ পরিবারের ৩১৭ জন সদস্যের ভারত চলে যাওয়ার কথা ছিল। এর মধ্যে বুড়িমারী- চ্যাড়াবান্ধা অভিবাসন সীমান্ত দিয়ে লালমনিরহাটের চারটি পরিবারের ৩৪ জন সদস্য, নীলফামারীর চিলাহাটি-হলদিবাড়ি অভিবাসন সীমান্ত দিয়ে পঞ্চগড়ের বিলুপ্ত ছিটমহল থেকে ১৬ পরিবারের ৪৮ জন সদস্য ও বাগভান্ডার -সাহেবগঞ্জ অভিবাসন সীমান্ত দিয়ে কুড়িগ্রামের বিলুপ্ত ছিটমহলের ৫৩ পরিবারের ২৩৫ জন সদস্যের ভারত গমনের কথা ছিল। কিন্তু ভারতীয় কর্তৃপক্ষে কোন সবুজ সংকেট না পাওয়ায় বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষ তাদের ভারত পাঠাতে পারেনি। এ ব্যাপারে ভারতের কোচবিহারের” নাগরিক অধিকার রক্ষা সমন্বয় কমিটির নেতা দীপ্তিমান সেন গুপ্তের সাথে মুঠোফোনে কথা বলা হলে তিনি জনকন্ঠের এই প্রতিনিধিকে জানান এ মাসের ৯ তারিখের মধ্যে প্রথম দফায় তাঁদের এদেশে আনার কথা ছিল। কিন্তু সেটি বাতিল করে প্রশাসনের পক্ষে পরবর্তিতে কবে তাদের ভারতে নিয়ে আসা হবে তা এখনও পরিস্কার করা হয়নি। তিনি জানান যতদুর জানতে পেরেছি যারা আসবে তাদের অস্থায়ী বাসস্থানের ক্যাম্পগুলো পুরোপুরি প্রস্তুত করতে পারেনি কোচবিহার প্রশাসন। তাদের অস্থায়ীভাবে বসবাসের জন্য ভারত সরকার কোচবিহার জেলার দিনহাটা, মেখলিগঞ্জ, হলদিবাড়ি এলাকায় অস্থায়ীভাবে বাসস্থানের বন্দোবস্ত করছে।

তিনি কোচবিহারের প্রশাসনের বরাত দিয়ে বলেন বাংলাদেশের অভ্যান্তরে থাকা ভারতের বিলুপ্ত ছিটমহলের মোট ১০৮ পরিবারের ৯৮৫ জন সদস্য কে স্থানীভাবে বসবাসে ভারতে চলতি নবেম্বরের ৩০ তারিখ তারিখের মধ্যেই নিয়ে আসা হবে।

প্রসঙ্গতঃ চলতি বছরের ৩১ জুলাই মধ্য রাতে বাংলাদেশের অভ্যান্তরে থাকা ভারতীয় ১১১টি ও ভারতের অভ্যান্তরে থাকা বাংলাদেশের ৫১ সহ ১৬২টি ছিটমহল বিলুপ্ত ঘোষনা করা হয়েছিল। এর আগে উভয় দেশের এসব ছিটমহলে বসবাসরত বাসিন্দাদের জনগণনা সম্পন্ন করা হয়। সে সময় দেশ বেছে নেয়ার নির্ধারিত ফরমে বাংলাদেশের অভ্যান্তরে ভারতীয় ওই সব ছিটমহলের তিন জেলার ১০৮ পরিবারের ৯৮৫ জন তাদের ভারতীয় নাগরিকত্ব বহাল রেখে ভারতে যাওয়ার জন্য মত দেয়। সেই সুত্র ধরে তাদের বাংলাদেশ থেকে ভারতে প্রেরন করার উল্লেখিত প্রস্তুতি গ্রহন করা হয় এবং ভারতে নাগরিকত্বের আবেদনকারীদের মধ্যে ট্রাভেল পাস ইস্যু করে ভারত সরকার।

নীলফামারী জেলা প্রশাসক জাকীর হোসেন জানান, উভয় দেশের ডিসি/ডিএম পর্যায় ইতোমধ্যে অনুষ্ঠিত বৈঠকের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ভারতে স্থায়ীভাবে গমনে ট্রাভেল পাসধারীরা প্রস্তুত রয়েছেন। ভারত সরকারের পক্ষ থেকে সবুজ সংকেত এলেই চার দফায় তাদের পাঠানো হবে। তবে ৩০ নবেম্বরের মধ্যেই সবাইকে পাঠানো হবে।