১৩ ডিসেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

ঈশ্বরদীতে লাইসেন্সবিহীন ফার্মেসী ও ক্লিনিকে জনভোগান্তির অভিযোগ

স্টাফ রিপোর্টার, ঈশ্বরদী ॥ ঈশ্বরদীতে লাইসেন্সবিহীন ফার্মেসীর সংখ্যা বৃদ্ধি ও অবৈধ ভাবে গড়ে ওঠা ক্লিনিকে জনভোগান্তি নিত্য দিনের ঘটনায় পরিনত হয়েছে। এক শ্রেণীর অসাধু ওষুধ ব্যবসায়ী শহর থেকে শুরু করে গ্রামগঞ্জের আনাচে-কানাচে ড্রাগ লাইসেন্সবিহীন নিন্মমানের ওষুধ ও ক্লিনিক ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে। অবাধে এসব ব্যবসা চালানো হলেও সংশ্লিষ্ট বিভাগের কর্মকর্তারা রহস্য জনক কারনে নিরব ভূমিকা পালন করছেন। ভুক্ত ভোগীদের দেওয়া অভিযোগ সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।

সূত্র মতে, ঈশ্বরদী শহর ও গ্রাম অঞ্চলে লাইসেন্সবিহীন ওষুধের দোকান দিন-দিন বেড়েই চলেছে। এসব ওষুধ ফার্মেসীর মধ্যে বেশ কয়েকটিতে নিম্নমানের ওষুধের পাশাপাশি অবাধে বিক্রি করা হয় নেশা ও যৌন উত্তেজক জাতীয় বিভিন্ন প্রকার ওষুধ।

এছাড়াও পান বিড়ির দোকানসহ অনেক মুদির ও মনিহারি দোকানেও অবাধে বিক্রি হচ্ছে জন্ম নিয়ন্ত্রণ ওষুধসহ নানা রকম নিম্নমানের ওষুধ। মানুষের পাশাপাশি গরু-ছাগলেরও নিম্নমানের ওষুধ ঈশ্বরদীর বিভিন্ন স্থানে নকল কারখানায় তৈরি করে লাইসেন্স বিহীন ফার্মেসীতে বিক্রি করা হচ্ছে। ফলে ভোগান্তির শিকার হচ্ছে নিরীহ জনসাধারণ।

শহর ও গ্রামাঞ্চলের কয়েকটিতে লাইসেন্সপ্রাপ্ত ওষুধ বিক্রেতার ফার্মেসীতে চিকিৎসক থাকলেও অন্যগুলোতে চিকিৎসক রাখা হয় নি। ঐসব ফার্মেসীতে চিকিৎসকের দায়িত্ব ফার্মেসী মালিক বা স্টাফরা সহজেই পালন করে যাচ্ছে। কোনো কোনে ক্ষেত্রে নামি-দামি ডাক্তারের নাম ভাঙ্গিয়ে তারা অনেকটা প্রতাপের সাথে দোকান চালিয়ে যাচ্ছে।

বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, বেশির ভাগ ফার্মেসী উপরে রাখা সাইনবোর্ডে এমবিবি.এস ডাক্তারের নাম বড়-বড় অক্ষরে লিখে রাখা হয়েছে। কিন্তু সেখানে আদৌ কোন ডাক্তার বসে না। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে ফার্মেসী মালিক ওষুধ বিক্রি করতে করতে বা কোন ক্ষেত্রে এলএমএএফ নামধারী স্বল্পমেয়াদী ট্রেনিং নিয়ে নিজেদের দোকান বা এলাকায় ডাক্তার হিসেবে পরিচয় দিয়ে চিকিৎসা কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। এ সব কারনে অনেক সময় রোগীদের ডাক্তারের কাছে না পাঠিয়ে নিজেরাই ব্যবস্থাপত্র দিয়ে থাকে।

ঈশ্বরদীর বিভিন্ন অঞ্চলের গরীব নিরীহ মানুষ ছোট-খাট অসুখে অনেক সময় সু-চিকিৎসা লাভের আশায় কখনো ভিজিটের ভয়ে রেজিষ্টার্ড ডাক্তারের কাছে না গিয়ে সরাসরি ফার্মেসীতে গিয়ে রোগের বর্ণনা দিয়ে ওষুধ চান। আর এক্ষেত্রে ঐ সব নামধারী ডাক্তারদের দেয়া উচ্চমাত্রার এন্টিবায়োটিক ওষুধ প্রয়োগের ফলে প্রতিনিয়তই হিতে বিপরীত ফল হচ্ছে।

নিয়মানুযায়ি বাংলাদেশ কেমিস্ট এ- ড্রাগ সমিতি ও ওষুধ প্রশাসনের আইন অনুযায়ী ওষুধ বিক্রয় ও প্রদর্শনকারী প্রতিষ্ঠানের সত্তাধিকারীকে অবশ্যই ড্রাগ লাইসেন্স গ্রহণ করতে হবে। অন্যথায় ১৯৪০ ও ১৯৪৫ সালের ড্রাগ লাইসেন্স আইনে কোর্টে মামলার বিধান রয়েছে। অথচ, বাংলাদেশ কেমিস্ট এ- ড্রাগ সমিতি, ওষুধ প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এসব বিষয়ে দ্রুত আইনি পদক্ষে গ্রহন করছেন না।

একই ভাবে ঈশ্বরদী পৌর এলাকার দু’ একটিসহ সাহাপুর, দাশুড়িয়া, মুলাডুলি, রাজাপুর এলাকায় বেশ কয়েকটি ক্লিনিকে চিকিৎসার নামে নানাভাবে সহজ-সরল ও বিপদগ্রস্থ রোগীদের সাথে প্রতারনা করা হচ্ছে। ঐসব ক্লিনিকগুলোতে কোনো নিয়মের বালাই নেই। দু’ একজনের বিরুদ্ধে ভুয়া ও জাল সার্টিফিকেট নিয়েও ক্লিনিক চালানো ও চিকিৎসা ব্যবস্থা পত্র প্রদানের অভিযোগ রয়েছে। এ অবস্থায় অসাধু ওষুধ ও ক্লিনিক ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা গ্রহনের মাধ্যমে শহর ও গ্রামাঞ্চলের সহজ সরল জনগোষ্ঠিকে সঠিক সুবিধা ও চিকিৎসা প্রদানের ব্যবস্থা সৃষ্ঠিতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ আশু পদক্ষেপ গ্রহন করবেন বলে ভুক্তভোগীরা আশা করেন।

ঈশ্বরদী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শাকিল মাহমুদ বলেন, সদ্য যোগদান করেছি। মানুষের সাথে মানুষের আত্বঘাতি এবং প্রতারনা মূলক কোনো বিষয়ের সাথে আপোষ করা যাবে না। এতে ভবিষৎ প্রজন্ম মারাত্বক ভাবে ক্ষতির স্বীকার হবে। ড্্রাগ বিভাগের সংশ্লিষ্টদের সাথে নিয়ে শ্রীঘই অবৈধ ক্লিনিক, ফার্মেসী, ওষুধ ও ভুয়া চিকিৎসকদের বিরুদ্ধে অভিযান শুরু করা হবে।