১১ ডিসেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

নেভির এমএ খান জিয়ার ঘনিষ্ঠ সহচর ছিলেন

  • মমতাজ লতিফ

১৯৭৫-এর ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধু ও তাঁর পরিবারের সব সদস্য, খুলনা থেকে আগত ভাই, শেখ মনি, তার স্ত্রী ও সন্তানসহ কয়েক সদস্য, ভগ্নিপতি সেরনিয়াবাত ও তাঁর পরিবারের কয়েক সদস্য যে হত্যাকা-ে নিহত হয়েছিলেন সেটি দেশী-বিদেশী চক্র যারা ’৭১-এর মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে বাংলাদেশের স্বাধীনতার প্রবল বিরোধী ছিল তাদেরই গভীর পরিকল্পিত ষড়যন্ত্রের ফল ছিল, তা আজ বাঙালীর কাছে স্পষ্ট হয়ে প্রকাশ পেয়েছে। কিন্তু হত্যাকা-ের বিচারটি দীর্ঘকাল জিয়া কর্তৃক জারি করা ইনডেমনিটি বিলের মাধ্যমে বন্ধ করে রাখার পর ’৯৬ সালে শেখ হাসিনার স্বদেশ প্রত্যাবর্তনের দীর্ঘ পনেরো বছর পর তাঁর নেতৃত্বে নির্বাচনে আওয়ামী লীগ বিজয়ী হয়ে সরকার গঠনের ফলে ঐ কলঙ্কজনক বিচারহীনতার প্রথার সূচনা করা ইনডেমনিটি বিলটি সংসদে বিলুপ্ত করার সিদ্ধান্ত হয় এবং বাংলাদেশের ইতিহাসে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার একটি অভাবিত বিরল মুহূর্ত রচিত হয়। এর ফলে দীর্ঘদিন যাবত জাতির জনক, পরিবার ও ঢাকা জেলের জেল হত্যাকা-ে নিহত বঙ্গবন্ধুর চার রাজনৈতিক সহচরের খুনীদের বিচারের আওতায় আনার সুযোগ সৃষ্টি হয়। ১৯৭৫ থেকে খুনীদের উল্লাস, স্বকণ্ঠে নিজেদের মুজিব হত্যাকারী হিসেবে দেশী-বিদেশী মিডিয়ায় দম্ভভরে ঘোষণা দেয়ার ফলে এই হত্যাকা-গুলোর বিচারে অপরাধ প্রমাণের জন্য বেশি পরিশ্রম করতে হয়নি। এ সঙ্গে তারা অর্থাৎ খুনীদের বিচার কাজ চলাকালে, তার আগেও বিভিন্ন সাক্ষাৎকারে খুনী ফারুক, রশীদ জেনারেল জিয়ার সঙ্গে তাদের সাক্ষাত এবং জিয়া তাদের হত্যা পরিকল্পনা অবগত হওয়ার পর তাদের ‘গো এহেড’ নির্দেশ দিয়েছিল, এ কথা দ্বিধাহীনভাবে জানিয়েছে। সে সময়ের যুক্তরাষ্ট্র সরকারের কাছে প্রেরিত বাংলাদেশে যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত বোস্টারের সঙ্গে সাক্ষাত করে খুনীরা অস্ত্র সহায়তা চেয়েছিল বলে উইকিলিকসের প্রকাশ করা গোপন নথি থেকে প্রকাশ পায়। বঙ্গবন্ধু হত্যার পরপরই পাকিস্তান ও সৌদি আরব বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দেয়। তাছাড়া বঙ্গবন্ধু হত্যার পরপর জিয়ার উদ্যোগে খুনী দলকে পাকিস্তান ও লিবিয়ায় পাঠানো হয়েছিল, যাদের কেউ কেউ পরে পাকিস্তান, কানাডা, থাইল্যান্ডসহ নানা দেশে স্থায়ী নিবাস পড়ে তোলে। তাছাড়া, ’৭১-এর যুদ্ধাপরাধীদের অনেকে ’৭২ থেকে সৌদি আরব, ইংল্যান্ড, যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ীভাবে বাস করতে শুরু করে, যার মধ্যে বুদ্ধিজীবী হত্যাকারী চৌধুরী মঈন উদ্দীন, আশরাফুজ্জামান অন্যতম। অধিকাংশ যুদ্ধাপরাধী, তাদের নেতা গোলাম আযম বঙ্গবন্ধু হত্যার পরপর জিয়া কর্তৃক গ্রেফতারকৃত যুদ্ধাপরাধীদের মুক্তি দেয়া, যুদ্ধাপরাধের বিচারের জন্য গঠিত সত্তরের বেশি ট্রাইব্যুনাল বাতিল করা, ধর্মভিত্তিক রাজনীতির ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা তুলে নেয়ায় ঐ যুদ্ধাপরাধীদের কাছে জিয়াউর রহমানের অবস্থান, তাদের মিত্র এবং মুক্তিদাতা হিসেবে ছদ্মবেশী মুক্তিযোদ্ধার আসল পরিচয় দিবালোকের মতো পরিষ্কার হয়ে গিয়েছিল। মুজিব হত্যার পর একজন মুক্তিযোদ্ধাকে যুদ্ধাপরাধীরা মিত্র হিসেবে লাভ করবেÑ এটা ছিল ওদের জন্য আশাতীত এক সৌভাগ্য। সুতরাং ওরা ’৭১-এর ডিসেম্বরে পরাজিত হয়ে ’৭৫-এর মধ্যভাগ থেকে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের ধারাটি পর্যবেক্ষণ করে ’৭৫-এর শেষে এসে জিয়ার ক্ষমতা গ্রহণ ও দ্রুত যুদ্ধাপরাধীবান্ধব পদক্ষেপ গ্রহণের পরপর তারা দলে দলে প্রবাস থেকে দেশে ফেরত এসে জাঁকিয়ে বসেছিল। এরপরের বাংলাদেশের ইতিহাসের যে কালো অধ্যায়টি শুরু হয়ে ’৯৬তে খানিকটা শেষ হলো, সে ইতিহাস জনগণ ও পাঠকের জানা।

এ রচনার মূল বক্তব্য হচ্ছেÑ সরকার বঙ্গবন্ধু হত্যার বিচারে শুধুমাত্র হত্যাকা- বাস্তবায়নকারী খুনীদের বিচার করেছে। এ দেশী-বিদেশী যে সব ব্যক্তি শক্তি, এ হত্যাকা-ের মূল পরিকল্পনাকারী তাদের বিচারের আওতায় না আনার কারণে বর্তমানে দেশ সম্ভবত জিয়ার পরিবারের হত্যার অপরাজনীতি চর্চাকারী হিসেবে প্রমাণিত খালেদা জিয়া, তারেক রহমানের বাইরে জিয়া পরিবারের প্রত্যক্ষ সদস্য নয়, তারেক রহমানের স্ত্রীর বিএনপির রাজনীতিতে প্রবেশের সুযোগ পাবার সংবাদ শোনা যাচ্ছে এবং মিডিয়া জোর দিচ্ছে, তার বিতর্কিত স্বামী-শাশুড়ির স্থলে সে একজন ডাক্তার অর্থাৎ উচ্চ শিক্ষিত এবং ভিন্ন পরিবারের সদস্য হিসেবে উক্ত সব অপরাজনীতির বাইরে থাকায় এখনও পর্যন্ত অবিতর্কিত।

এই প্রেক্ষিতে জনগণকে ভালভাবে বুঝতে হবে- তারেকের স্ত্রীর পিতা ও তার পরিবারের সদস্যদের ’৭৫-এর বঙ্গবন্ধু হত্যাকা-ে কি ধরনের ভূমিকা ও অবস্থান ছিল। জনগণ জানে যে, ১৯৭৫-এর মধ্য আগস্টে ডাঃ জোবায়দার পিতা এমএ খান নৌবাহিনীতে ছিলেন। তাকে কিন্তু জিয়া নিজে চীফ মার্শাল ল’ এ্যাডমিনিস্ট্রেটর ও প্রেসিডেন্ট হওয়ার পর নৌবাহিনী থেকে সরিয়ে দেয়নি। অর্থাৎ জিয়ার জন্য তিনি যে শুধু নিরাপদ ছিলেন তাই নয়, বরং তারা একে অপরের বিশ্বাসভাজন ছিলেন এ পদক্ষেপটিতে সেটিই কি প্রমাণিত হয় না? নতুবা অর্থাৎ মুক্তিযুদ্ধপন্থী হলে তাকে অবশ্যই পদ থেকে অপসারণ করত জিয়া। অথচ জিয়াকে বঙ্গবন্ধুর খুনীদের বিষয়ে প্রচ- সতর্কতা অবলম্বন করতে দেখা যায় যখন জিয়া তার আশপাশ এবং দেশ থেকে খুনীদের দ্রুত বাধ্যতামূলক প্রবাসে পাঠায়। বলা যায় না- ঐ খুনীরা কখন, কোন স্বার্থে আঘাত লাগলে বঙ্গবন্ধুর হত্যাকা-ে নেপথ্যের সমর্থক জিয়ার ভূমিকা প্রকাশ করে ফেলে। তা হলে জিয়ার ‘ক্লিন মুক্তিযোদ্ধার ইমেজ’ ভূলুণ্ঠিত হতে এক মুহূর্ত লাগবে না। বরং তাকেও এ হত্যার অপরাধে অপরাধী গণ্য করা হতে পারে। এ প্রসঙ্গে খুবই যুক্তিযুক্তভাবে একটি প্রশ্ন এসে যায়- জিয়া খুনীদের দেশে রাখা তার জন্য বিপজ্জনক হবে মনে করে যখন তাদের প্রবাসে এক ধরনের নির্বাসনে পাঠাল, তাহলে জনগণকে আরও ভাল করে ঐ সময়ের ঐতিহাসিক ঘটনাবলীর প্রেক্ষাপটকে বিবেচনায় নিয়ে দেখতে হবে, জিয়া সামরিক বাহিনীতে বঙ্গবন্ধুর খুনীদের পর তার উচ্চাকাক্সক্ষা এবং আইএসআই নির্দেশিত তার ভবিষ্যত পদক্ষেপ ও কর্মকা- বাস্তবায়নের পথে বাধাদানকারী হিসেবে আর কাদের কাদের উত্থান হওয়ার সম্ভাবনা দেখেছিল? বলাবাহুল্য, চতুর বুদ্ধিতে যাদের নিরীহ ও যাদের কাছ থেকে কোন বাধা আসবে না বলে নিশ্চিত ছিল জিয়া তারা অবশ্যই মেজর জেনারেল শফিউল্লাহ এবং এ কে খোন্দকার। এদের জিয়া তার জন্য ভবিষ্যত হুমকি বলে মনে করেনি। জিয়া অবশ্যই সেনাবাহিনীতে আমূল পরিবর্তন আনতে আগ্রহী, বীর মুক্তিযোদ্ধা, সৃজনশীল পদক্ষেপ গ্রহণে দঃসাহসী- এমন মানুষ কর্নেল তাহেরকে তার প্রধান প্রতিপক্ষ মনে করেছিল, যা অস্বাভাবিক ছিল না। কর্নেল তাহেরকে তাই আন্তর্জাতিক আইন ভঙ্গ করে হলেও জিয়া প্রাণে বাঁচিয়ে রাখেনি। সম্ভবত বঙ্গবন্ধু পরিবারে শেখ মনি যদি বেঁচে থাকতেন, শেখ কামাল যদি বেঁচে থাকতেন, অন্যদিকে সেনাবাহিনীতে মুক্তিযুদ্ধে যুদ্ধাহত কর্নেল তাহের যদি বেঁচে থাকতেন, তাহলে এই তিনজন অদম্য দেশপ্রেমিক, যুদ্ধবিদ্যায় সাহসী অভিজ্ঞ তরুণের সঙ্গে সে সময়ের বীর মুক্তিযোদ্ধা কাদের সিদ্দিকী ও তাদের অনেক অনুসারী মিলে সম্ভবত এমন হতেও পারত, বাংলাদেশের ইতিহাসকে অন্যরকমভাবে বিপরীত দিকে মুক্তিযুদ্ধের পথে মোড় ঘুরিয়ে দিত।

জনগণকে স্মরণ করতে হবেÑ এদের প্রথম তিনজনকেই ’৭৫-’৭৬-এ অন্যায়ভাবে হত্যাকা-ের শিকার হতে হয়, ফাঁসিতে মৃত্যুবরণ করতে হয়। সেনাবাহিনীতে কর্নেল তাহের তো অবশ্যই জিয়ার ক্ষমতাশীল থাকার পথে সবচাইতে বড় অন্তরায় হিসেবে গণ্য হওয়ার কথা ছিল। তাই তাকে প্রাণ দিতে হয়েছিল। কর্নেল তাহেরের বড় ভুল ছিল জিয়াকে তার পরিকল্পনা জানানো এবং যে ব্যক্তি বঙ্গবন্ধুর খুনীদের পরামর্শক, তাকে সেনাবাহিনীর আমূল পরিবর্তনের পরিকল্পনা অবহিত করে তারই সমর্থন গ্রহণ। কর্নেল তাহেরের ফাঁসির পর সেনাবাহিনীতে ক্ষমতা গ্রহণে সক্ষম ছিলেন প্রথমত বীর মুক্তিযোদ্ধা খালেদ মোশাররফ, তার সহযোদ্ধা কর্নেল মুজিবুল হক, একমাত্র কমান্ডো প্রশিক্ষক, ঢাকার গেরিলা যোদ্ধাদের প্রিয় নেতা কর্নেল হায়দার, মেজর জেনারেল আবুল মঞ্জুর ও তাদের সমর্থক কয়েক হাজার মুক্তিযোদ্ধা সেনা কর্মকর্তা ও সদস্য। আজ পেছন ফিরে ঐ মহা রক্তবন্যার ঐতিহাসিক সময়ের দিকে ফিরে তাকালে এই ভেবে আশ্চর্য হতে হয়- জিয়াউর রহমান কিভাবে একের পর এক তার সম্ভাব্য শত্রুকে নিধন করেছিল। প্রায় চার হাজার মুক্তিযোদ্ধা সেনা সদস্যকে ক্যু করতে গিয়েছিল এই প্রমাণহীন অভিযোগে ফাঁসি দিয়েছিল। খালেদ মোশাররফ, মুজিবুল হক, হায়দার তো ৭ নবেম্বর নিহত হন। কার নির্দেশে তা জাতি এখনও জানতে পারেনি।

এখন প্রশ্ন হচ্ছে, বঙ্গবন্ধু হত্যাকা-ের নেপথ্য পরিকল্পক-সমর্থকদের বিচার ও তদন্ত না হওয়ায় বঙ্গবন্ধু হত্যার সাক্ষ্যতে যদিও জিয়ার সংশ্লিষ্টতার প্রমাণ পাওয়া গেছে; কিন্তু জিয়া সমর্থক অনেক সামরিক-বেসামরিক ব্যক্তির সংশ্লিষ্টতা উদ্ঘাটিত হয়নি। জিয়া সেনাবাহিনীতে গোপনে মুক্তিযোদ্ধা হত্যাকা- চালালেও এর বিরোধিতা এমএ খান কখনও করেননি। দেখা যায়, জিয়া বেসামরিক ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে, বিশেষত রাজনীতিকদের ভবিষ্যতে ব্যবহার করার সুযোগটি উন্মুক্ত রেখেছিল। কেননা পাকিস্তান আমলের সেনা শাসকদের রাজনীতিক কেনা-বেচা, তাদের পুতুলের মতো নিয়ন্ত্রণ করা, দুর্নীতিগ্রস্ত করার মাধ্যমে জনগণের কাছে অগ্রহণযোগ্য করে তোলা- এসব খেলা জিয়া খুব ভাল করে দেখেছিল। কেননা জিয়া আইএসআইতে কাজ করার অভিজ্ঞতাসম্পন্ন একমাত্র বাঙালী ছিল। সুতরাং প্রথমে যখন জিয়া মোশতাকের কেবিনেট বাতিল করে উপদেষ্টাম-লী গঠন করছিল সে সময় বিভিন্ন ক্ষেত্রে দেশের খ্যাতিমান ব্যক্তিদের উপদেষ্টা হিসেবে যোগ দিতে তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করা, তাদের পীড়াপীড়ি করে সম্মত করানো, এমনকি শর্ত মেনে সম্মত করানোর কাজটি করেছিলেন জিয়া অনুসারীরা। জিয়া যে বঙ্গবন্ধু হত্যা ও এর পরের সব হত্যা, মুক্তিযোদ্ধাদের ফাঁসির দ- কার্যকর করেছিল, তা দিবালোকের মতো আজ স্পষ্ট।

তাছাড়াও প্রশ্ন থাকে, এমএ খান ’৭১-এর মুক্তিযুদ্ধের সময় কোথায় ছিলেন? এবং বাঙালীর মহান মুক্তিযুদ্ধে তাঁর ভূমিকাইবা কি ছিল? এ প্রশ্ন উঠবে এ কারণে যে, শোনা যায় তাঁর কন্যা জোবায়দা ডাক্তার হয়েছে; কিন্তু পড়াকালেই সে জিয়াপুত্র তারেক, যে পড়াশোনা তেমন করেনি, তাকে বিয়ে করেছে। সে সময় তারেক প্রধানমন্ত্রী খালেদার পুত্র, পিতা জিয়া নিহত হলেও দেশের শাসন ক্ষমতা গৃহবধূ মায়ের হাতেই এসে পড়ায় দেশের ক্ষমতা প্রায় তাদের পারিবারিক সম্পত্তির মতো হয়ে উঠেছিল। প্রধানমন্ত্রীর পুত্রবধূ জোবায়দা যেভাবেই হোক, ক্লাস করে বা না করে, ইন্টার্নশিপ করে বা না করে, ডাক্তারির সার্টিফিকেট পেতে পারে। কিন্তু কোন উচ্চশিক্ষিত নারী যে কোন সময় সম্মানিত পেশায় প্রবেশ করতে সক্ষম, সে তার দুর্নীতিবাজ স্বামীর ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা বা শাহ কিবরিয়া হত্যাকাণ্ডের পরিকল্পক পরিচয় প্রকাশ পাবার পর, এমনকি খালেদা জিয়ার, তার স্বামী তারেকের পরামর্শে পেট্রোলবোমা মেরে দেশের নিরীহ মানুষ খুন করার পৈশাচিক ঘটনা সংঘটনের পরও এসবের বিরুদ্ধে কোনরকম প্রতিবাদ করে না, কোন প্রতিবাদী পদক্ষেপ গ্রহণ করে না, এসব অন্যায় অপরাধের বিরুদ্ধে নীরব সম্মতি প্রদান করে, তাহলে তাকে তো জিয়া, খালেদা জিয়া ও তারেক জিয়ার পদাঙ্ক অনুসারী অপরাজনীতির পথেই হাঁটতে দেখা যেতে পারে বলে জনগণ আশঙ্কা করলে তা কি অস্বাভাবিক হবে?

এটা হতে পারে যে, জিয়া পরিবার ও এমএ খান পরিবার মুক্তিযুদ্ধপন্থী ছিল না। সম্ভবত তাদের দুই পরিবার যুদ্ধাপরাধী-মিত্র ছিল। দেশে জাতির কাক্সিক্ষত যুদ্ধাপরাধীদের বিচার বর্তমানে চলমান। শীঘ্রই ঘাতক দল হিসেবে জামায়াতের বিচার হবে। তথ্যপ্রযুক্তিতে দক্ষ দেশপ্রেমিক, মুক্তিযুদ্ধপন্থী কয়েক লাখ তরুণ-তরুণীর একটি বিশাল দল দেশকে দুর্নীতি ও পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ডভিত্তিক অপরাজনীতি এবং জঙ্গীবাদীদের নির্মূল করবে, সন্দেহ করি না। দেশে, এখন তরুণ ব্লগার হত্যার পর, বিদেশী হত্যার পেছনে তো সেই খালেদা-তারেককেই মূল হোতা-পরিকল্পক হিসেবে সন্দেহ করা হচ্ছে। গুজব শোনা যাচ্ছে, বহু অর্থ লেনদেনের মাধ্যমে পশ্চিমা দেশে লবিস্ট নিযুক্ত হয়েছে যারা আইএসের নামে বিবৃতি দিতে সম্মত। পশ্চিমা অর্থখেকো লবিস্ট এবং খালেদা-তারেকের বিএনপি ও জামায়াত আপ্রাণ চেষ্টা চালাচ্ছে বাংলাদেশকে জঙ্গীরাষ্ট্র প্রমাণ করতে, যুদ্ধাপরাধীর বিচার বানচাল বা বন্ধ করতে এবং বর্তমানে দ্রুত উন্নয়নের পথে অগ্রসর হওয়া এ দেশের উন্নয়নের গতি, বিদেশী বিনিয়োগ, রফতানি বাণিজ্য বন্ধ করে দেয়া। এর মধ্যে অব্যাহতভাবে নীরবে চলছে আওয়ামী লীগের গ্রামগঞ্জের নেতাকর্মী হত্যা। প্রতিদিন কিন্তু এ হত্যা হচ্ছে- এক এক জেলায় এক একজন। কিন্তু এটিও পরিকল্পিত এবং দূর থেকে নির্দেশিত- একটি বড় দেশবিরোধী নানামুখী হত্যাকাণ্ডভিত্তিক বিশাল একটি ষড়যন্ত্রের পরিকল্পনার অংশ, যা বর্তমানে ক্রমশ স্পষ্ট হচ্ছে যাতে দেশী ও বিদেশী ব্যক্তি এবং সংস্থা বা প্রতিষ্ঠান সক্রিয় ভূমিকা রাখছে। সম্ভবত এর পাশাপাশি নিরাপত্তাহীনতার আড়ালে গণতন্ত্রহীনতা, ৫ জানুয়ারির নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ করে সিভিল সোসাইটির কিছু সংস্থা নতুন নির্বাচন চাইবে- যা খালেদা-তারেকের শেষ লক্ষ্য। সুতরাং, জনগণ, তরুণ প্রজন্ম- সাবধানী ও কৌশলী পদক্ষেপ গ্রহণপূর্বক এ দেশী-বিদেশী ষড়যন্ত্রকে পরাজিত করে স্বদেশকে রক্ষা করতে হবে। এ দায়িত্ব সবার। বিএনপিকে মুক্তিযুদ্ধবিরোধী ও যুদ্ধাপরাধী-মিত্র জিয়া পরিবারকে পরিত্যাগ করে সুস্থ, গণতান্ত্রিক, নির্বাচনমুখী এবং মুক্তিযুদ্ধপন্থী দল হিসেবে পুনর্গঠিত হতে হবে- এর কোন বিকল্প নেই। এবং এতেই জাতির ঘাড় থেকে রক্তচোষা ডাইনি-পিশাচকে দূর করে জাতির উন্নয়নে সব দলের সঙ্গে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে।

সরকারের দিক থেকে যুদ্ধাপরাধীদের বিচার কাজ দ্রুত সম্পন্ন করে তাদের দ- দ্রুততম সময়ে কার্যকর করলেই এসব অপতৎপরতার অনেকটাই থেমে যাবেÑ এ বলা বাহুল্য। এর পাশাপাশি জামায়াত-শিবির-আলবদর-আলশামসকে সন্ত্রাসী বাহিনী হিসেবে বিচার শুরু করে এসব দলকে ইউরোপ-যুক্তরাষ্ট্রের অনুসরণে নিষিদ্ধ করতে হবে।