১৫ ডিসেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

সোনা চোরাচালান

রিজেন্ট এয়ারওয়েজের ফ্লাইটে আবারও চোরাচালানকৃত সোনা ধরা পড়েছে। শুক্রবার সকালে ঢাকার হযরত শাহজালাল (র) আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে রিজেন্টের একটি ফ্লাইট থেকে জব্দ করা হয় ১৪ কেজি সোনা, বাজার মূল্যে যার দাম ৭ কোটি টাকা। ঢাকা কাস্টমস হাউসের প্রিভেন্টিভ দল যখন বিমানটিতে তল্লাশি চালায়, তখন কোন যাত্রী ছিল না। যাত্রীরা তাদের মালামাল নিয়ে চলে যান অনেক আগেই। সুতরাং যাত্রীদের কাউকে সন্দেহ কিংবা গ্রেফতারের প্রশ্নই ওঠে না। বিমানটির গন্তব্য ছিল হ্যাঙ্গার। স্বভাবতই সন্দেহের তীর গিয়ে পড়ে রিজেন্ট এয়ারওয়েজ কর্তৃপক্ষের ওপর। উল্লেখ্য, এ নিয়ে চারবার রিজেন্ট এয়ারের বিমানে সোনা চোরাচালানের ঘটনা হাতেনাতে ধরা পড়ল। তবে এবার বিমানটি জব্দ করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট কাস্টমস কমিশনারের ভাষ্য, এ ঘটনায় রিজেন্ট এয়ারওয়েজের ম্যানেজমেন্টের লোকজনসহ এ্যাভিয়েশন সিকিউরিটির সম্পৃক্ততা থাকতে পারে। কেননা, বিমান সংশ্লিষ্ট লোকজনের পক্ষেই কেবল সিটের নিচে গোল্ডবার লুকিয়ে রেখে সোনা চোরাচালান সম্ভব। অতীতে প্রায় একই কায়দায় একাধিকবার সোনার চালান ধরা পড়ার পর সংশ্লিষ্ট বিমান সংস্থাটির কতিপয় কর্মকর্তা-কর্মচারীর নামও উঠে এসেছে পুলিশী তদন্তে। তবে এ নিয়ে কোন মামলা-মোকদ্দমা, ধরপাকড় অথবা শাস্তিদানের কথা তেমন শোনা যায় না। সে অবস্থায় যুক্তিসঙ্গত কারণেই প্রশ্ন উঠতে পারে যে, চোরাচালানকৃত এসব সোনা অথবা সোনা বিক্রির টাকা কোথায় যায়? এই টাকা দেশে কোন মৌলবাদী জঙ্গী গোষ্ঠীর গোপন কার্যক্রম অথবা সন্ত্রাসী কার্যকলাপ পরিচালনায় ব্যবহৃত হচ্ছে কিনা সে প্রশ্নও উঠবে বৈকি!

এখানে উল্লেখ করা আবশ্যক যে, গত কয়েক বছর ধরে ঢাকা শাহজালাল (র) আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরটি সোনা ও বিদেশী মুদ্রা চোরাচালানের প্রায় স্বর্গরাজ্য হয়ে উঠেছে। অবশ্য সিলেট ও চট্টগ্রাম বিমানবন্দরও এর আওতার বাইরে নয়। রিজেন্ট এয়ারওয়েজসহ অন্যান্য বিমান সংস্থা এমনকি রাষ্ট্রীয় বিমান সংস্থা বাংলাদেশ বিমানেও একাধিকবার সোনা ও বিদেশী মুদ্রা আটকের ঘটনা ঘটেছে। যাত্রীদের পাশাপাশি এ বিষয়ে সন্দেহের তীর অনেকবারই গিয়ে পড়েছে সংশ্লিষ্ট বিমান কর্তৃপক্ষ, সিভিল এ্যাভিয়েশন অথরিটিসহ কাস্টমস কর্তৃপক্ষ ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কোন কোন কর্মকর্তা-কর্মচারীর ওপর। তবে অপ্রিয় হলেও সত্য যে, অন্তত অধিকাংশ ক্ষেত্রে ধৃত চোরাচালানের সোনা ও অর্থের গন্তব্য, মামলা-মোকদ্দমার চূড়ান্ত পরিণতি, সর্বোপরি সন্দেহভাজনদের সর্বশেষ অবস্থা ও অবস্থান সম্পর্কে জানা যায় না। সর্বোপরি জামিন নিয়ে আসামিদের বের হয়ে যাওয়ার খবরও আছে। গডফাদারদের ধরার তো প্রশ্নই ওঠে না। বাস্তবে জব্দকৃত সোনা ও মুদ্রার সঙ্গে জমাকৃত হিসাবের গরমিলও লক্ষণীয়। এ প্রেক্ষাপটেই বোধকরি বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক স্বর্ণ ও বিদেশী মুদ্রা চোরাচালানের প্রায় নিরাপদ রুট হিসেবে বিবেচিত হয়ে আসছে।

একদা দেশে অবৈধ সোনা, বিদেশী মুদ্রা, মাদক এমনকি অস্ত্রশস্ত্র আনা-নেয়ার সর্বাধিক পছন্দনীয় ও জনপ্রিয় রুট ছিল চট্টগ্রাম নৌ ও সমুদ্রবন্দর। তথাকথিত বড় বড় ব্যবসায়ী শিপিং ব্যবসার আড়ালে এই ব্যবসা পরিচালনা করতেন এবং দেশে ও প্রতিবেশী রাষ্ট্রে সন্ত্রাসী ও নাশকতা কার্যক্রম পরিচালনায় ব্যবহৃত হতো এসব। এ নিয়ে অতীতে অনেক ঘটনাই ধরা পড়েছে, কিছু ক্ষেত্রে বিচারও হয়েছে। বহুল আলোচিত দশ ট্রাক অস্ত্র মামলা এ ক্ষেত্রে স্মর্তব্য। এর পাশাপাশি চোরাচালান জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে বিমান ও কারগো ফ্লাইটে। সে অবস্থায় বাংলাদেশ বিমানসহ সিভিল এ্যাভিয়েশন অথরিটি, কাস্টমস কর্তৃপক্ষ সর্বোপরি আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীকে আরও তৎপর, সতর্ক ও কঠোর হতে হবে। যে কোন মূল্যে বন্ধ করতে হবে অবৈধ অস্ত্রশস্ত্র, অর্থ, স্বর্ণ ও মাদকের চোরাচালান। কেননা, এসব দুর্নীতির পথ প্রশস্ত করে, অর্থনীতিকে করে বিপর্যস্ত,সর্বোপরি সন্ত্রাসের বিস্তার ঘটায়।