১৩ ডিসেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

সিসি ক্যামেরার বিক্রি দ্বিগুণ বেড়েছে

  • চীন থেকে আসছে নিম্নমানের সিসি ক্যামেরা

নিয়ম-নীতি নেই

অর্থনৈতিক রিপোর্টার ॥ খুন-ছিনতাই, চুরি-ডাকাতিসহ বিভিন্ন অপরাধ তদন্তে প্রযুক্তির ওপর মানুষের নির্ভরতা ক্রমেই বাড়ছে। বর্তমানে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, বাসা-বাড়িসহ গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় নিরাপত্তার কাজে ব্যবহৃত হচ্ছে ক্লোজড সার্কিট (সিসি) ক্যামেরা। এরই ধারাবাহিকতায় এক মাস আগের তুলনায় এই পণ্যের বিক্রি বেড়েছে দ্বিগুণেরও বেশি। এমনটাই জানালেন ব্যবসায়ীরা।

পুলিশ প্রশাসনের নির্দেশের পাশাপাশি অপরাধী শনাক্তের ক্ষেত্রে হঠাৎ করেই চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় দাম বেড়ে গেছে ক্লোজ সার্কিট ক্যামেরার। আর সুনির্দিষ্ট কোন নিয়ম-নীতি ও মনিটরিং না থাকায় চীন থেকে গণহারে আনা হচ্ছে নিম্নমানের সি সি ক্যামেরা। এসব ক্যামেরার চিত্র ধারণক্ষমতা একেবারেই সীমিত। প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞ ও পুলিশের কর্মকর্তারা বলছেন, উন্নতমানের সিসি ক্যামেরা না হলে লক্ষ্যই ভেস্তে যাবে।

এক মাস আগেও জরুরী প্রয়োজন না হলে বাসাবাড়ি কিংবা ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে সিসি ক্যামেরার তেমন ব্যবহার ছিল না। কিন্তু ক্রমাগত নাশকতা বাড়তে থাকায় অপরাধী শনাক্তে গুরুত্ব বেড়ে গেছে সিসি ক্যামেরার। এর মধ্যে সিসি ক্যামেরা স্থাপনের জন্য পুলিশের পক্ষ থেকেও দেয়া হয়েছে বিশেষ নির্দেশনা। এ অবস্থায় চাহিদার সঙ্গে পাল্লা দিয়ে দামও বাড়ছে বলে জানালেন বিক্রেতারা।

সাধারণ মানের ক্যামেরা দিয়ে মাত্র ১০ থেকে ২০ মিটার দূরত্বের চিত্র ধারণ সম্ভব। তবে এইচডি মানের ক্যামেরা দিয়ে ৩০ থেকে ৭০ মিটার দূরত্বের চিত্র ধারণ করা যায়। কিন্তু মানুষের মধ্যে ধারণা না থাকায় নিম্নমানের ক্যামেরা তুলনামূলক বেশি বিক্রি হচ্ছে বলে জানালেন চট্টগ্রামের গ্লোবাল টাচের মালিক সৈয়দ মোহাম্মদ ইসমাইল আজাদ ও ডব্লিউথ্রি এক্সপ্লোয়ার্স বাংলাদেশের সি ই ও প্রকৌশলী রাজীব দাস।

এদিকে সিএমপির কমিশনার আবদুল জলিল ম-লের মতে, নিম্নমানের ক্যামেরায় নাইটভিশন সিস্টেম দুর্বল হওয়ায় রাতের চিত্র দেখে অপরাধীকে শনাক্ত করা কঠিন। আগে চট্টগ্রামে প্রতি মাসে মাত্র কয়েক শ’ ক্যামেরা বিক্রি হলেও এখন বিক্রি হচ্ছে তিন থেকে চার হাজার।

এদিকে, অপরাধ দমনে কার্যকর বিভিন্ন প্রযুক্তি পণ্যকে সহজলভ্য করার পরামর্শ নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের। কয়েক বছর ধরেই অপরাধ তদন্ত ও অপরাধী শনাক্তকরণে কার্যকর ভূমিকা রাখছে ঘটনাস্থলের আশপাশের সিসি টিভি ক্যামেরা। এরই প্রেক্ষিতে নিজেদের নিরাপত্তার স্বার্থেই রাজধানীর বিভিন্ন মার্কেটে এই প্রযুক্তি পণ্য কিনতে আসছেন সাধারণ মানুষ। প্রয়োজনীয় পণ্য বিবেচনায় দাম বেশির অভিযোগও করলেন অনেকে। তবে বিক্রেতারা জানালেন, ক্রমেই কমছে নিরাপত্তায় ব্যবহৃত এই ডিভাইসের দাম। বর্তমানে ২০ হাজার টাকা খরচেই সম্ভব- গারটেক, ভ্যানটেক, টেকক্যামসহ বিভিন্ন ব্র্যান্ডের একটি সিসি টিভি ক্যামেরা স্থাপন করা।

এদিকে, প্রযুক্তির ব্যবহার যেন ব্যক্তিগত গোপনীয়তার ক্ষেত্রে হুমকির কারণ না হয়ে দাঁড়ায়, সেদিকে নজর দেয়ার পরামর্শ নিরাপত্তা বিশ্লেষক এয়ার কমোডর (অব) ইশফাক এলাহী চৌধুরীর।

বর্তমান প্রেক্ষাপটে সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সচেতনভাবে সিসি টিভি ক্যামেরা ব্যবহারের ফলে একদিকে যেমন কমবে অপরাধ প্রবণতা, ঠিক তেমনি ক্রমেই বাড়বে এই প্রযুক্তি পণ্যটির বাজার পরিধি।