২৫ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

অতিমাত্রায় ট্যাক্সের কারণে বিনিয়োগ হচ্ছে না

  • পার্টনারশিপ ডায়ালগে ব্যবসায়ীরা

অর্থনৈতিক রিপোর্টার ॥ অতিমাত্রায় ট্যাক্স চাপিয়ে দেয়ার কারণেই বিনিয়োগ বাড়ছে না। ভ্যাট-ট্যাক্স আদায়ের ক্ষেত্রে বৈষম্যমূলক আচরণের কারণে অনেক ব্যবসায়ী তা দেন না। যারা ট্যাক্স দিতে চান তারাই মূলত হয়রানির শিকার হন। ফলে কালো টাকার মালিকরা দেশের বাইরে অর্থ পাচারে উৎসাহিত হন। সোমবার রাজধানীর মতিঝিলে ফেডারেশন ভবনে অনুষ্ঠিত ‘পার্টনারশিপ ডায়ালগ’ অনুষ্ঠানে ব্যবসায়ী নেতারা এসব কথা বলেন। জবাবে এনবিআর চেয়ারম্যান নজিবুর রহমান বলেন, হয়রানির সংস্কৃতির অচিরেই অবসান ঘটানো হবে। তিনি জানান, নতুন উদ্যমে কাজ শুরু করলেও এনবিআরের কিছু কর্মকর্তা এখন পুরনো মানসিকতা ধারণ করছেন।

এফবিসিসিআই সভাপতি মাতলুব আহমাদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন এনবিআর চেয়ারম্যান নজিবুর রহমান। ফেডারেশন অব বাংলাদেশ চেম্বার অব কমার্স এ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজ (এফবিসিসিআই) ডায়ালগের আয়োজন করে। এতে এনবিআরের সদস্য ফরিদ উদ্দিন, পারভেজ ইকবাল ও এনায়েত হোসেন, এফবিসিসিআইয়ের জ্যেষ্ঠ সহ-সভাপতি শফিউল ইসলাম মহিউদ্দিন, পরিচালক ও বিভিন্ন স্তরের ব্যবসায়ী নেতা উপস্থিত ছিলেন। সভায় ২৬ ব্যবসায়ী নেতা তাদের বিভিন্ন দাবি তুলে ধরেন। অনুষ্ঠানে ব্যবসায়ী নেতারা বলেন, বর্তমানে ১ কোটি টাকা ট্যাক্স দিলে ব্যবসায়ীরা ১ কোটি ৮৫ লাখ টাকা বিনিয়োগ করতে পারেন। অতিমাত্রায় ট্যাক্স বেশি চাপিয়ে দেয়ার কারণেই বিনিয়োগ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। হয়রানিমুক্ত থাকতেই মূলত অনেক ব্যবসায়ী ভ্যাট দিতে চান না অথচ যারা ভ্যাট দিতে চান তারাই হয়রানির শিকার হন। ট্রেড লাইসেন্সের ক্ষেত্রে ভ্যাট প্রত্যাহারের দাবি জানিয়ে ব্যবসায়ীরা নেতারা বলেন, নোটিস ছাড়াই দোকানে ঢুকে মালপত্র আটক করছেন রাজস্ব কর্মকর্তারা। নিয়মিত হয়রানি হলে ব্যবসায়ীরা ব্যবসা বন্ধ করে দেবে। তারা বলেন, ভ্যাট-ট্যাক্সে হয়রানি এড়াতে দেশে ৭০ শতাংশ কালো টাকার মালিক দেশের টাকা দেশের বাইরে পাঠাতে উৎসাহী হন। ভ্যাট আদায়ের ক্ষেত্রে এনবিআরের বাড়াবাড়ির কারণেই ব্যবসায়ীদের মধ্যে বৈষম্য সৃষ্টি হচ্ছে। তাঁরা আরও বলেন, যাদের রেস্টুরেন্টে এসি আছে তাদের এক ধরনের কর, যাদের নেই তাদের এক ধরনের কর দিতে হয়। রাজধানীতে ৪৬ হাজার দোকান মালিকের মধ্যে মাত্র ১৭শ’ ব্যবসায়ী ভ্যাট দেন। ভ্যাট আদায়ের ক্ষেত্রে হয়রানি বন্ধ করা গেলে আরও বেশি কর আদায় সম্ভব বলে মনে করেন বক্তারা। একইসঙ্গে তারা পোশাক, এ্যালুমিনিয়াম, স্টিল, কাগজসহ বিভিন্ন খাতে করনীতি পুনর্বিবেচনার আহ্বান জানান।

জবাবে এনবিআর চেয়ারম্যান নজিবুর বলেন, হয়রানির সংস্কৃতির অচিরেই অবসান ঘটানো হবে। তিনি জানান, নতুন উদ্যমে কাজ শুরু করলেও এনবিআরের কিছু কর্মকর্তা এখন পুরনো মানসিকতা ধারণ করছেন। এ ধরনের যারা বিভ্রান্ত ছড়াচ্ছেন তাদের সতর্কবাণী জানানো হবে। তিনি আরও বলেন, ব্যবসায়ী ও এনবিআর সম্পর্ক হওয়া উচিত হাতের সঙ্গে মোজার মতো। এ জন্যই এ ধরনের ডায়ালগ জরুরী। মাতলুব আহমাদ বলেন, ১ টাকা ভ্যাট দেয়ার জন্য ৩ টাকা খরচ দিতে হয় সে ভ্যাট আমরা দিতে চাই না। ভ্যাট হয়ত অনেক সময় আমরাই দেই না। তবে সে জন্য আমরা অচ্ছুৎ হয়ে যাব না। আমাদের শেখান কিভাবে ভ্যাট দিতে হয়। তিনি কর আদায়ে সমস্যা নিরসনে এনবিআরের কাছে ৩টি প্রস্তাব উত্থাপন করেন। এগুলো হলো- এফবিসিসিআই দফতরে এনবিআর ডেস্ক স্থাপন করা, যৌথভাবে করমেলা আয়োজন করা ও ব্যবাসয়ীদের নিয়ে প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা।