১৯ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

গণপরিবহনের সংখ্যা গাণিতিক হারে কমছে

  • গোলটেবিল আলোচনা

স্টাফ রিপোর্টার ॥ রাজধানীতে প্রতিদিন গড়ে ১৭৫টি প্রাইভেট গাড়ি নামলেও গত ১২ বছর ধরে মিনিবাস ও অটোরিক্সা একটিও নামানো হয়নি বলে অভিযোগ করেছে বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতি। সংগঠনটি মনে করে গণপরিবহনের সংখ্যা প্রতিদিন গাণিতিক হারে কমছে। ফলে যাত্রী দুর্ভোগ দীর্ঘতর হচ্ছে। এর থেকে উত্তরণের জন্য বাস ও অটোরিক্সার সংখ্যা বাড়ানোর পাশাপাশি এসব যানবাহনের সুযোগ-সুবিধার বিষয়টিও জরুরী। সোমবার, ‘সিএনজি অটোরিক্সার ভাড়া ও জমাবৃদ্ধি, বাস্তবতা-নৈরাজ্য বন্ধে করণীয়’ শীর্ষক গোলটেবিল আলোচনায় বক্তারা এসব কথা বলেন। জাতীয় প্রেসক্লাবের ভিআইপি লাউঞ্জে আয়োজিত অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ পাঠ করেন সংগঠনের মহাসচিব মোঃ মোজাম্মেল হক চৌধুরী।

তিনি বলেন, সরকার যাত্রী স্বার্থ জলাঞ্জলি দিয়ে অটোরিক্সাকে শৃঙ্খলায় আনার প্রত্যাশায় সিএনজি অটোরিক্সা মালিক-চালকদের মনপূত ভাড়া নির্ধারণ করে এক লাফে ভাড়া ৬০ ভাগ বৃদ্ধি করেছে। পরিবেশ বান্ধব, জ্বালানি সাশ্রয়ী, নিম্ন ও মধ্যবিত্ত যাত্রী সাধারণের জন্য আরামদায়ক ভ্রমণের প্রত্যাশায় ঢাকা-চট্টগ্রাম উভয় মহানগরীর প্রতিটিতে ২৬ হাজার অটোরিক্সা ২০০১ সাল থেকে ২০০৩ সালের মধ্যে নামানো হয়। একটি অটোরিক্সা ২০০১ সালে মাত্র ১ লক্ষ ৫৭ হাজার ৫শ’ টাকায় ক্রয় করে গত ১৪ বছরে প্রায় ১ কোটি টাকা মুনাফা করলেও যাত্রীরা কোন সুবিধা পায়নি। নামমাত্র মূল্যে অপারেশন সুবিধার এই বাহনে বর্তমানে মাত্র ২ টাকা প্রতি কি.মি. চলাচলে ব্যয় হলেও যাত্রীদের কাঁধে ভাড়া তুলে দেয়া হয়েছে প্রথম ২ কি. মি. ৪০ টাকা, পরবর্তী প্রতি কি. মি. ১২ টাকা। এছাড়াও যানজট, জনজট, সিগন্যাল ইত্যাদি সৃষ্টির জন্য যাত্রী সাধারণ কোনভাবে দায়ী না হলেও এই বাহনে যাতায়াতকালে যাত্রীদের এসব ভোগান্তি টাকার অঙ্কেও মাসুল গুণতে হবে প্রতি মিনিট ২ টাকা হারে। নামমাত্র মূল্যে দেশীয় প্রাকৃতিক গ্যাসে চালিত এ বাহনের সাশ্রয়ী সুবিধা থেকে দেশের যাত্রী সাধারণ বরাবরই বঞ্চিত রইল। তারপরও সরকার এই অটোরিক্সার ৪ দফা ভাড়া বৃদ্ধি ও ৩ দফা ইকনোমিক লাইফ বৃদ্ধি করেছে বলে অভিযোগ করা হয়।

গোলটেবিল আলোচনায় বিআরটিএর সচিব শওকত আলী বলেন, সরকার এ সেক্টরকে শৃঙ্খলিত করতে প্রতিনিয়ত কাজ করে যাচ্ছে। প্রতিদিন ৬টি মোবাইল কোর্ট পরিচালনার পাশাপাশি যাত্রীদের অভিযোগের ভিত্তিতেও ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে। সরকার যাত্রীসেবার মান উন্নয়নে আরও নতুন নতুন কৌশল উদ্ভাবনের চেষ্টা চালাচ্ছে। ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের যুগ্ম-কমিশনার (ট্রাফিক) বনজ কুমার মজুমদার বলেন, পরিবহনের বিশৃঙ্খলার যাবতীয় দোষ পুলিশের কাঁধে দেয়া হলেও পুলিশ রাতদিন পরিশ্রম করে সীমিত জনবল দিয়ে ট্রাফিক ব্যবস্থার উন্নয়নের পাশাপাশি এ সেক্টরকে শৃঙ্খলিত করতে কাজ করছে। অটোরিক্সার নতুন ভাড়া বাস্তবায়নে ট্রাফিক বিভাগ আন্তরিকতার সঙ্গে কাজ করবেন।

সাবেক সংসদ সদস্য গোলাম মাওলা রনি বলেন, সঙ্কটের কারণে চালকদের ইচ্ছা অনিচ্ছার কাছে যাত্রীরা জিম্মি হয়ে আছে। এর থেকে উত্তরণে সরকারকে সিএনজি অটোরিক্সার সঙ্কট মোকাবিলায় কাজ করতে হবে। সিনিয়র সাংবাদিক আবু সাঈদ খান বলেন, পরিবহনে অরাজকতার জন্য চাঁদাবাজিসহ নানা অনিয়ম দীর্ঘদিন ধরে ঝেঁকে বসেছে। এর থেকে উত্তরণে সরকারকে আরও বেশি দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।