১৮ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

গণ পাসের গণ ফেল

গণ পাসের গণ ফেল

বিভাষ বাড়ৈ ॥ পাবলিক পরীক্ষায় অব্যাহতভাবে গণহারে পাস করা সত্ত্বেও উচ্চ শিক্ষাঙ্গনে ঘটছে ‘গণফেল’র ঘটনাই। পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষায় গেল বছরের মতো এবারও গণফেলের প্রেক্ষাপটে দেশের শিক্ষা ও পরীক্ষা পদ্ধতি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। পাবলিক পরীক্ষায় গণহারে পাসের পর বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তিতে ৯০ শতাংশ পর্যন্ত ফেল করায় উদ্বিগ্ন শিক্ষাবিদসহ সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা। দ্রুত এ বিষয়ে সরকারের নজর দেয়ার আহ্বান জানিয়ে তাঁরা বলেছেন, ভর্তি পরীক্ষার উদ্বেগজনক ঘটনার পর শ্রেণীকক্ষে পাঠদান ও পরীক্ষা পদ্ধতি নিয়ে নতুন করে ভাবার সময় হয়েছে। ভাবার সময় হয়েছে শিক্ষা পদ্ধতির পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে ভর্তি পরীক্ষা পদ্ধতির পরিবর্তন নিয়েও। প্রচলিত পরীক্ষাগুলোর মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের দক্ষতার অধিকাংশ সূচনাকেই যাচাই করা সম্ভব হচ্ছে না বলেও মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

তবে এ অবস্থায় অনেকে শিক্ষার মান নিয়ে প্রশ্ন তুলে বলছেন, গত এক দশকে শিক্ষার সংখ্যাগত সূচকে রীতিমতো বিস্ফোরণ ঘটলেও প্রশ্নের মুখে পড়ে আছে শিক্ষার মান। শ্রেণী কক্ষে ভালমানের শিক্ষাদান নিশ্চিত করা ছাড়া সঙ্কটের সমাধান হবে না। যদিও শিক্ষাবিদের অনেকে আবার বলছেন, ভর্তি পরীক্ষায় খারাপ করলেই মান খারাপ এক কথা বলা যাবে না। বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর সব সময়েই প্রবণতা থাকে সবচেয়ে কম সংখ্যক শিক্ষার্থীকে উত্তীর্ণ করার। বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি পরীক্ষায় সংস্কার আনার পরামর্শ দিয়েছেন তারা। ভর্তি পরীক্ষায় অধিকাংশ ফেল করলেই শিক্ষার মান ভাল নয়Ñ এ কথা মানতে নারাজ শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদও বরং বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর বিদ্যমান ভর্তি পদ্ধতিই ‘ত্রুটিপূর্ণ’ বলে মনে করেন শিক্ষামন্ত্রী। বর্তমানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ দেশের প্রায় পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়েই ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয় মাল্টিপল চয়েজ কোশ্চেন (এমসিকিউ) পদ্ধতিতে। এতে সময় থাকে এক ঘণ্টা। এসএসসি ও এইচএসসিতে ভাল ফল করেও বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষায় অধিকাংশ শিক্ষার্থী পাসই করতে পারছে না। তাহলে মান কোথায় থাকল? এমন প্রশ্নে শিক্ষামন্ত্রী বরাবরই বলছেন, এক ঘণ্টায় শিক্ষার্থীদের মেধা যাচাই করা যায় না। প্রায় ৬০ ঘণ্টা পরীক্ষা দিয়ে শিক্ষার্থীরা এসএসসি ও এইচএসসি পাস করে। আর এক ঘণ্টার পরীক্ষা নিয়ে তাদের বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি করা হয়। ওই এক ঘণ্টা শিক্ষার্থী মানসিক ও শারীরিকভাবে অসুস্থ থাকতে পারে। এ ব্যবস্থা ত্রুটিপূর্ণ। বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষার কারণে প্রতি বছর কোচিং সেন্টারগুলো ৩২ হাজার কোটি টাকার বাণিজ্য করে জানিয়ে নাহিদ বলেন, ভর্তি পরীক্ষার কারণে শিক্ষার্থীদের বহু টাকা ব্যয় করতে হয়। বিশ্ববিদ্যালয়গুলো তাদের সংসদে পাস করা আইন দিয়ে পরিচালিত হয় বিধায় তাদের আমরা কিছু চাপিয়ে দিতে পারি না। সারাদেশে এবার এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফলে যথারীতি সাফল্যের বিস্ফোরণই ঘটেছে। এবার পাসের হার ও জিপিএ-৫ প্রাপ্ত শিক্ষার্থীর সংখ্যা কিছুটা কমলেও সার্বিক ফল ইতিবাচক। পাস করেছে ৮৭ দশমিক শূন্য চার শতাংশ শিক্ষার্থী। সর্বোচ্চ গ্রেড জিপিএ-৫ প্রাপ্ত শিক্ষার্থীর সংখ্যা এক লাখ ১১ হাজার ৯০১ জন। ১৪ লাখ ৭৩ হাজার ৫৯৪ পরীক্ষার্থীর মধ্যে পাস করেছে ১২ লাখ ৮২ হাজার ৬১৮ জন। এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় পাসের হার গত বছরের তুলনায় অনেক কম ছিল। পাস করে ৬৯ দশমিক ৬০ শতাংশ, যা গত বছর ছিল ৭৮ দশমিক ৩৩ শতাংশ। জিপিএ-৫ প্রাপ্ত শিক্ষার্থীর সংখ্যা ছিল ৪২ হাজার ৮৯৪ জন।

এদিকে এই দুটি পরীক্ষায় ভাল ফল অর্জনকারীরাই কেবল পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে পারেন। কিন্তু সবচেয়ে আকর্ষণের স্থান ঢাকা বিশ্ববিদ্যায়ে গত বছরের মতো এবারও অনুষ্ঠিত সকল ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষাতেই রীতিমতো ফল বিপর্যয় ঘটেছে। সর্বশেষ সোমবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের অধীন সম্মিলিক ‘ঘ’ ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষার ফল প্রকাশিত হয়েছে। তবে এতে পাস করেছেন মাত্র নয় দশমিক ৯৪ শতাংশ শিক্ষার্থী।

প্রকাশিত এ ফলে দেখা যায়, মোট আবেদনকারীর সংখ্যা ছিল ৯০ হাজার ১শ’ ৩১ জন। পরীক্ষায় অংশ নেন ৬২ হাজার ৭৮ জন। অনুপস্থিত ছিলেন ২৮ হাজার ৫৩ জন শিক্ষার্থী। সম্মিলিতভাবে পাস করেছেন ছয় হাজার ১৭১ জন। শতকরা হারে যা অংশ নেয়া পরীক্ষার্থীর নয় দশমিক ৯৪ ভাগ। এ ইউনিটে আসন রয়েছে এক হাজার ৪শ’ ৬৫টি। সকল বিভাগের সবচেয়ে মেধাবীরা এ ইউনিটে ভর্তি পরীক্ষা দেয়ার সুযোগ পায়। তবে পরীক্ষায় সবচেয়ে ভালো ফল করেছে মানবিক বিভাগের শিক্ষার্থীরাই। এ বিভাগ থেকে নয় হাজার ৫শ’ ৬৩ জন পরীক্ষায় অংশ নিয়ে পাস করেছেন এক হাজার ৭শ’ ৪৭ জন। পাসের হার ১৮ দশমিক ২৭ শতাংশ। বিজ্ঞান বিভাগের সর্বাধিক ৩২ হাজার ৯শ’ ৯৫ জন অংশ নিয়ে পাস করেছেন দুই হাজার ৮শ’ ৮৫ জন। পাসের হার আট দশমিক ৭৪ শতাংশ।

সবচেয়ে খারাপ করেছেন ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগের শিক্ষার্থীরা। এ বিভাগের ১৯ হাজার ৫শ’ ২০ জন অংশ নিয়ে পাস করেছেন এক হাজার ৫শ’ ৩৯ জন। পাসের হার সাত দশমিক ৮৮ শতাংশ। এর আগে প্রকাশিত ক ইউনিটের পরীক্ষায় পাসের হার ছিল ২০ দশমিক ৭৫ শতাংশ। ৭১ হাজার ২৮১ ছাত্রছাত্রীর মধ্যে ৬৪ হাজার ৪৭৮ জন পরীক্ষায় অংশ নেন। ১৩ হাজার ৩৮০ জন উত্তীর্ণ হন। ‘খ’ ইউনিটের ফল প্রকাশ হয় তার আগে। ‘খ’ ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষায় ১৪ দশমিক ৬৮ শতাংশ শিক্ষার্থী পাস করে। এর আগে প্রকাশ হয় ‘গ’ ইউনিটে ভর্তি পরীক্ষার ফল। সেখানে পাসের হার ছিল ১৭ দশমিক ৫৬ শতাংশ।

গেল বছল ইংরেজী বিভাগে মাত্র দুজন শিক্ষার্থী পড়ার যোগ্য নম্বর পেয়েছিল। এছাড়া ‘ক’ এবং ‘গ’ ইউনিটের পরীক্ষায় যথাক্রমে মাত্র ২১ দশমিক ৫ শতাংশ এবং ২০ দশমিক ৫ শতাংশ শিক্ষার্থী পাস করে। ‘খ’ ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষায় ফেল করে ৯০ শতাংশ শিক্ষার্থী। মাত্র ১০ ভাগ শিক্ষার্থী পাস নম্বর পেয়েছিল। ২০১২-১৩ শিক্ষাবর্ষে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কলা অনুষদের অধীনে ‘খ’ ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষায় জিপিএ-৫ পাওয়া ৭৫ ভাগ শিক্ষার্থী ফেল করেছিল। ২০১০ ও ২০১১ সালে এই হার ছিল যথাক্রমে ৬৮ ও ৫৬ ভাগ। আর বিভাগ পরিবর্তনকারী ‘ঘ’ ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষায় ৯০ ভাগই ফেল করে। ২০১০ ও ২০১১ সালে এ ফেলের হার ছিল যথাক্রমে ৫২ ও ৬২ ভাগ। অর্থাৎ পাবলিক পরীক্ষায় পাসের হার প্রায় শতভাগে চলে গেলেও ভর্তি পরীক্ষায় তাদের কমপক্ষে ৮০ ভাগই ফেল করছে। গেল বছর জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ফেলের চিত্র ছিল আরও ভয়াবহ। যেখানে ভর্তি পরীক্ষায় ফেলের হার ছিল ৯৫ দশমিক ৪ শতাংশ পর্যন্ত।

সি ইউনিটে পরীক্ষায় পাসের হার ছিল মাত্র চার দশমিক ৫৮ শতাংশ। ঠিক এমন এক অবস্থায় দেশের শিক্ষা ও পরীক্ষা পদ্ধতি নিয়ে নতুন করে ভাবার সময় হয়েছে বলে বলছেন বিশিষ্ট শিক্ষাবিদসহ সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা। পাবলিক পরীক্ষায় গণহারে পাসের পর বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তিতে ৯০ শতাংশ পর্যন্ত ফেল করায় উদ্বিগ্ন বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কলা অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মোঃ আখতারুজ্জামান। তিনি স্কুল ও কলেজে শিক্ষা দান পদ্ধতি ও মান নিয়ে প্রশ্ন তুলে বলেছেন, সার্বিক পরিস্থিতি ভাল নয়। এটা নিয়ে ভাবা দরকার। নিচু স্তরের ক্লাসগুলোতে শিক্ষাদান পদ্ধতিকে আরও উন্নত করতে হবে।

শিক্ষা নিয়ে প্রশ্ন কেবল এ শিক্ষাবিদের নয়। একই প্রশ্ন অনেকেরই। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে নিয়মিত ক্লাস না হওয়া, স্কুলগুলোয় মানসম্মত পর্যাপ্ত শিক্ষক না থাকা, শিক্ষা উপকরণের অভাব, সরকারের দেয়া বিনামূল্যের পাঠ্যবইয়ের পরিবর্তে নোট-গাইডের ওপর শিক্ষার্থীদের নির্ভরশীলতা বেড়ে যাওয়া, স্কুলের চেয়ে কোচিং সেন্টারের প্রতি বেশি আকর্ষণ অনুভব করাসহ নানা বিষয়ে প্রশ্ন এখন সবার অথচ এত সীমাবদ্ধতার পারেও দেখা যাচ্ছে, প্রতিবছর সকল পাবলিক পরীক্ষায় পাসের হার বাড়ছে। এমনকি আগে যেসব স্কুল ও মাদ্রাসা থেকে একজন শিক্ষার্থীও পাস করত না, এখন সেসব প্রতিষ্ঠান থেকেও জিপিএ-৫ পেয়ে পাস করার অনেক দৃষ্টান্ত রয়েছে। পরীক্ষায় পাসের হার বেড়ে যাওয়ায় আশান্বিত মানুষ। কারণ পরীক্ষায় ভাল ফল করে সবাই পাস করবে, এটা সব অভিভাবকই চান। তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, পরীক্ষায় কতজন জিপিএ-৫ পেয়েছে, তা দিয়ে যেমন পরীক্ষার ফলাফলের পরিমাণগত দিক বোঝায়, তেমনি যেসব শিক্ষার্থী পরীক্ষায় পাস করছে তারা শিক্ষাক্রমে বর্ণিত শিখন অভিজ্ঞতা কতটুকু অর্জন করতে পেরেছে কিংবা আদৌ অর্জন করতে পারছে কিনা, সেটাও গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করতে হবে শিক্ষার গুণগত মান বজায় রাখার স্বার্থেই। কারণ ভর্তি পরীক্ষার ফেল আমাদের সঙ্কটকে চোখে আঙ্গুল দিয়ে দেখিয়ে দিচ্ছে।

কেবল পাসের হার বাড়ার মধ্যে আত্মতুষ্টির কিছু দেখছেন না গণসাক্ষরতা অভিযানের নির্বাহী পরিচালক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা রাশেদা কে চৌধুরী। তিনি বলছিলেন, শিক্ষার্থীরা পাবলিক পরীক্ষায় কষ্ট করে অনেক প্রতিকূলতার মধ্যেও পরীক্ষা দিয়ে ভাল ফল করেছে, এটা খুশি হওয়ার মতোই বিষয়। তবে শিক্ষার মান কি সেভাবে বাড়ছে? পাসের হারের সংখ্যা বৃদ্ধির সঙ্গে শিক্ষার মানের করুণ চিত্র স্পষ্ট হয়ে ওঠে খোদ দেশের সর্বোচ্চ বিদ্যাপীঠ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষার দিকে তাকালেই। এখন যেখানে এসএসসি ও এইচএসসিতে সর্বোচ্চ গ্রেড নম্বর পেয়ে ভর্তি পরীক্ষার যোগ্য হতে হয় সেখানে ৮০ শতাংশের বেশি পাসই করতে পারছে না।

রাশেদা কে চৌধুরী বলছেন, দেশের শিক্ষা ও পরীক্ষা পদ্ধতি নিয়ে এইবার ভাবার সময় হয়েছে। আমরা বহুবার বলেছি যে, প্রচলিত পরীক্ষাগুলোর মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের দক্ষতার অধিকাংশ সূচনকেই যাচাই করা সম্ভব হচ্ছে না। প্রাথমিক থেকেই গলদটা রয়ে যাচ্ছে। যে পরীক্ষা হচ্ছে তাতে শিক্ষার্থীরা দক্ষতার সকল মানদ- যাচাই করা হচ্ছে না। এছাড়া পাবলিক পরীক্ষায় খাতা মূল্যায়নে শিক্ষকদের উদার হওয়ার জন্য যে অলিখিত নির্দেশনা থাকে তাও ক্ষতিকর হচ্ছে শিক্ষার জন্য। এ বিষয়ে সরকারের বিশেষ নজর দেয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তির উদ্বেগজনক ঘটনার পর শ্রেণীকক্ষে দান ও সকল পরীক্ষা পদ্ধতি নিয়ে নতুন করে ভাবার সময় হয়েছে। ভাবার সময় হয়েছে শিক্ষা পদ্ধতির পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে ভর্তি পরীক্ষা পদ্ধতির পরিবর্তনের প্রয়োজনীয়তা নিয়েও।

জাতীয় শিক্ষানীতি প্রণয়ন কমিটির সদস্য সচিব শিক্ষাবিদ অধ্যাপক শেখ ইকরামূল কবীর বলছিলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষার ফলের পর মান নিয়ে তো প্রশ্ন আসছেই। তবে একই সঙ্গে আমার মনে হচ্ছে, শিক্ষার্থীরা সৃজনশীল প্রশ্ন পদ্ধতি আয়ত্ত করতে পারলেও বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রচলিত ভর্তি পরীক্ষাকে আয়ত্ত করতে ব্যর্থ হচ্ছে। সৃজনশীল হওয়ার পর শিক্ষার্থীরা পাঠ্য বিষয়টিতে ভালভাবে জানছে। নিজের মতো করে উত্তর দিচ্ছে তা ঠিক। কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষার সঙ্গে তারা তাল মেলাতে পারছে না। তাই ভাবার সময় হয়েছে শিক্ষা পদ্ধতির পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে ভর্তি পরীক্ষা পদ্ধতির পরিবর্তনের প্রয়োজনীয়তা নিয়েও।