২১ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

চাঞ্চল্যকর মামলা দ্রুত নিষ্পত্তির নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর

  • মন্ত্রিসভায় দলীয় প্রতীকে স্থানীয় নির্বাচন আইন অনুমোদন

বিশেষ প্রতিনিধি ॥ দলীয় প্রতীকে স্থানীয় সরকার নির্বাচন করতে এক সপ্তাহ আগে যে অধ্যাদেশ জারি হয়েছিল, তা আইনে পরিণত করার প্রস্তাব অনুমোদন করেছে মন্ত্রিসভা। সোমবার সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে মন্ত্রিসভার নিয়মিত বৈঠকে ‘স্থানীয় সরকার (পৌরসভা) (সংশোধন) আইন- ২০১৫’ এর খসড়ার চূড়ান্ত অনুমোদন দেয়া হয়। মন্ত্রিপরিষদ সচিব মোহাম্মদ শফিউল আলম সাংবাদিকদের বলেন, অধ্যাদেশে যা ছিল, আইনে তাই থাকছে। এতে কোন পরিবর্তন আনা হয়নি। পাশাপাশি মন্ত্রিসভা বীমা কর্পোরেশন আইন-২০১৫ এর খসড়াও নীতিগত অনুমোদন দিয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, রাজন ও রাকিব হত্যা মামলার দ্রুত নিষ্পত্তি হওয়ায় দেশে একটি দৃষ্টান্ত স্থাপন হয়েছে বলে মন্ত্রিসভার কোন কোন সদস্য বলেন। এ প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আইনমন্ত্রীকে অন্যান্য চাঞ্চল্যকর মামলাগুলোও দ্রুত নিষ্পত্তি করার নিদের্শ দেন। তিনি বলেন, এ জাতীয় মামলাগুলো এভাবে দ্রুত নিষ্পত্তি করা গেলে অপরাধের প্রবণতা অনেকটা কমে যাবে। এছাড়া রাজনৈতিক পরিচয়ে স্থানীয় সরকার নির্বাচনে দলীয় মনোনয়ন পদ্ধতি নিয়েও আলোচনা হয়েছে। এ প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এগুলো জেলা/উপজেলা কমিটির ওপর ছেড়ে দেয়া যেতে পারে।

কোন পৌরসভার মেয়র ও কাউন্সিল পদে নির্বাচনে অংশগ্রহণের জন্য কোন ব্যক্তিকে কোন রাজনৈতিক দল থেকে মনোনীত বা স্বতন্ত্র প্রার্থী হতে হবে। এতদিন ধরে স্থানীয় নির্বাচন নির্দলীয়ভাবে হলেও দলীয় আবহ থেকে মুক্ত ছিল না। এই রাখঢাক না রাখতে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ আইন সংশোধনের উদ্যোগ নেয়।

আসছে ডিসেম্বরে পৌরসভা নির্বাচন করার বাধ্যবাধকতা থাকায় সংসদ বসার জন্য অপেক্ষা না করে এ আইন সংশোধন করে অধ্যাদেশ আকারে জারি করার সিদ্ধান্ত হয়। এরপর গত ২ নবেম্বর জারি হয় সেই অধ্যাদেশের গেজেট। রবিবার সংসদ অধিবেশন শুরু হওয়ায় সেই অধ্যাদেশকেই এখন আইনে পরিণত করার উদ্যোগ নেয়া হলো বলে জানান সচিব।

সোমবারের বৈঠকে বীমা কর্পোরেশন আইন-২০১৫ এর খসড়াও নীতিগত অনুমোদন পেয়েছে বলে মন্ত্রিপরিষদ সচিব জানান। তিনি বলেন, এ আইনের খসড়া নিয়ে বৈঠকে অনেক আলোচনা হয়েছে, কিছুটা পরিবর্তন সাপেক্ষে এর নীতিগত অনুমোদন দেয়া হয়েছে। আইনের উদ্দেশ্যে বলা ছিল এ কর্পোরেশন বাণিজ্যিকভাবে পরিচালিত হবে। সংশোধনের পর ‘বাণিজ্যিক’ শব্দের সঙ্গে ‘জনস্বার্থ’ শব্দটিও যোগ করা হয়েছে।

বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউট ইউনেস্কোর দ্বিতীয় ক্যাটাগরির প্রতিষ্ঠানে উন্নীত হওয়ায় মন্ত্রিসভা শিক্ষা মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্টদের অভিনন্দন ও ধন্যবাদ জানিয়েছে বলে শফিউল আলম জানান। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী ও শিক্ষা মন্ত্রণালয় এবং সংশ্লিষ্টদের ধন্যবাদ জানিয়েছেন। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ও তাদের সাপোর্টের জন্য সবাইকে ধন্যবাদ জানিয়েছে।

আবার পেছাল মালয়েশিয়ায় জনশক্তি রফতানি ॥ আবারও পিছিয়ে গেল বেসরকারী রফতানিকারকদের (জিটুজি প্লাস) যুক্ত করে মালয়েশিয়ায় জনশক্তি রফতানির বিষয়টি। সোমবার দুই দেশের মধ্যে এ সংক্রান্ত সমঝোতা স্মারকের খসড়া মন্ত্রিসভার বৈঠকে অনুমোদনের জন্য উপস্থাপন করা হলেও সেটি ফেরত পাঠিয়েছে মন্ত্রিসভা।

মন্ত্রিসভার বৈঠক শেষে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সচিব মোহাম্মদ শফিউল আলম সাংবাদিকদের বলেন, মালয়েশিয়ার সঙ্গে সমঝোতা না হওয়ায় সমঝোতা স্মারকের খসড়া অনুমোদন না দিয়ে ফেরত পাঠানো হয়েছে। সম্প্রতি বেসরকারী জনশক্তি রফতানিকারকদের যুক্ত করেই মালয়েশিয়ায় কর্মী পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার।

এ প্রক্রিয়ায় মালয়েশিয়ায় যেতে জনপ্রতি ৪০ হাজার টাকার মধ্যে খরচ রাখার চেষ্টা করছে সরকার। এ ক্ষেত্রে কর্মীদের যাবতীয় তথ্য অনলাইনের মাধ্যমেই আদান-প্রদানের ব্যবস্থা রাখা হচ্ছে।

নানা অনিয়ম ও প্রতারণার কারণে বাংলাদেশ থেকে কর্মী নেয়া তিন বছর বন্ধ থাকার পর ২০১২ সালের শেষ নাগাদ দুই দেশের মধ্যে জিটুজি পদ্ধতিতে কর্মী নেয়ার চুক্তি হয়। চুক্তির পর মালয়েশিয়ায় যাওয়ার জন্য প্রায় ১৪ লাখ ৫০ হাজার লোক নিবন্ধন করেন। এর মধ্যে থেকে গত তিন বছরে প্রায় আট হাজার কর্মী দেশটিতে গেছেন। আর জিটুজির বাইরে ব্যক্তিগতভাবে এখন অনেকেই মালয়েশিয়ায় যাচ্ছেন।

গত মে-জুন মাসে সাগর পথে মানবপাচার, গণকবর ও অভিবাসীদের ওপর নির্যাতন নিয়ে তীব্র সমালোচনার মধ্যে বাংলাদেশ থেকে বিপুল সংখ্যক কর্মী নেয়ার প্রস্তাব দেয় মালয়েশিয়া। প্রথমে জনশক্তি পাঠানোর কাজটি বেসরকারী পর্যায়ে (বিজনেস টু বিজনেস পদ্ধতি বা বিটুবি) ছেড়ে দেয়ার বিষয়ে আলোচনা হলেও পরে ‘জিটুজি প্লাস’ পদ্ধতিতে কর্মী পাঠানোর বিষয়ে দুই দেশ একমত হয়।

সম্প্রতি মালয়েশিয়ার একটি প্রতিনিধি দল বাংলাদেশে আসেন। তখন প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা বলেছিলেন, শীঘ্রই মন্ত্রিসভায় অনুমোদনের পর এ বিষয়ে সমঝোতা স্মারক সই হবে।