২২ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

সেই জেলা জজের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে ফাইল গেছে রাষ্ট্রপতির কাছে

  • আসামির সঙ্গে ২২ দফা ফোনালাপ

জনকণ্ঠ রিপোর্ট ॥ চাঁদপুরের সেই জেলা জজ মোঃ মফিজুল ইসলামের বিরুদ্ধে যথাযথ আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য বিষয়টি রাষ্ট্রপতির কার্যালয়ে পাঠানো হয়েছে। সম্প্রতি আইন মন্ত্রণালয় থেকে ওই ফাইল রাষ্ট্রপতির কার্যালয়ে পাঠানো হয়। এর আগে খুনের মামলার আসামির সঙ্গে ২২ দফা টেলিফোনে কথা বলার বিষয়ে সত্যতা পাওয়ায় বিভাগীয় মামলা দায়েরের সুপারিশ করে আইন মন্ত্রণালয়ে একটি প্রতিবেদন পাঠায় সুপ্রীমকোর্ট প্রশাসন। চাঁদপুরের ওই জেলা জজ অভিযোগ গঠনের সময়ই দুই আসামিকে মামলা থেকে অব্যাহতি দিয়েছেন, এমন অভিযোগও রয়েছে ওই প্রতিবেদনে।

আইন মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, সুপ্রীমকোর্ট প্রশাসনের ওই সুপারিশটি মন্ত্রণালয়ে আসার পর ওই জেলা জজের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য কার্যক্রম শুরু হয়। বর্তমানে ওই জজের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ সংক্রান্ত ফাইলটি রাষ্ট্রপতির কার্যালয়ে পাঠানো হয়েছে।

এ বিষয়ে আইনমন্ত্রী আনিসুল হক জনকণ্ঠকে বলেন, কোন বিচারক অপরাধের সঙ্গে জড়িয়ে পড়লে তিনি আর বিচারক থাকার যোগ্য নন। সুপ্রীমকোর্ট থেকে পাঠানো সুপারিশের আলোকে ওই জেলা জজের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য ফাইলটি রাষ্ট্রপতির কাছে পাঠানো হয়েছে। তিনিই এই বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দেবেন বলেও মন্তব্য করেন আইনমন্ত্রী।

গত ৮ এপ্রিল মামলার অভিযোগ গঠনকালে চাঁদপুরের জেলা জজ আদালত আসামি মঈনউদ্দিন হোসেন টুনু ও মোঃ এহসানকে অব্যাহতি দেন। এর আগে একই আদালত থেকে তাদের জামিন দেয়া হয় বলে জানা গেছে। জেলা জজ ও আসামি এহসানের মধ্যে টেলিফোনে কথোপকথনের একটি তালিকা হাতে পাওয়ার পর মামলার বাদী প্রধান বিচারপতি বরাবর অভিযোগ দাখিল করেন। এতে জেলা জজ ও আসামির মধ্যে অনৈতিক যোগাযোগের অভিযোগ তোলা হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে তদন্ত কমিটি গঠন করে দেয় সুপ্রীমকোর্ট।

সুপ্রীমকোর্ট প্রশাসনের তদন্ত কমিটির ওই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আইনবহির্ভূতভাবে দায়রা ৩২৫/২০১৪ মামলার ১নং আসামি মইনউদ্দিন টুনু এবং তার ছেলে ৫নং আসামি মোঃ এহসানকে অব্যাহতি দেয়া হয়েছে। আসামি মোঃ এহসানের সঙ্গে মফিজুল ইসলামের মোবাইলে ২২ বার কথোপকথন এবং ঠিক একই সময়ে আসামি মোঃ এহসান ও তার পিতা আসামি মইনউদ্দিন হোসেন টুনুকে আইনবহির্ভূতভাবে অব্যাহতি প্রদান- এ দুয়ের মধ্যে একটি যোগসূত্র রয়েছে, যা সংশ্লিষ্ট বিচারকের বিচারসুলভ আচরণ, সততা ও নিরপেক্ষতাকে প্রশ্নবিদ্ধ করে।

ওই প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, ১৭ মার্চ থেকে ১৫ এপ্রিলের মধ্যে জেলা জজ মোঃ মফিজুল ইসলামের মোবাইল নম্বর-০১৮১৯-৪৪৯৬০২ এবং আসামি মোঃ এহসানের মোবাইল ফোন নম্বর ০১৮১৯-২২২৯৫৭-এ ২২ বার কথা হয়েছে। দুই আসামিকে অব্যাহতি দেয়া হয় ৮ এপ্রিল। এর আগের দিন বিকেল ৫টা ২২ মিনিট, রাত ১০টা ২০ মিনিট, রাত ১০টা ৩২ মিনিট এবং রাত ১০টা ৩৭ মিনিটে তাদের মধ্যে ৪ বার ফোনালাপ হয়। নিজ আদালতে বিচারাধীন খুনের মামলার আসামির সঙ্গে মোবাইলে কথোপকথন বিচারকসুলভ আচরণের পরিপন্থী- যা নিঃসন্দেহে অসদাচরণের শামিল।

জানা গেছে, ২০১২ সালের ১০ মে রাত আনুমানিক সাড়ে ৯টায় চাঁদপুর মতলব উত্তর থানাধীন এনায়েতগঞ্জ সাহেব বাজারে আবদুল মান্নানের চায়ের দোকানে পূর্ব শত্রুতার জের ধরে লিয়াকত উল্লাহ সরকারকে খুন করা হয়। এ সময় তার সঙ্গী মমিন দেওয়ানকে গুরুতর আহত করা হয়। পরদিন মইনউদ্দিন হোসেন টুনু এবং তার ছেলে মোঃ এহসানের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়। এতে জ্ঞাত ১৬ এবং অজ্ঞাত আরও ৭-৮ জনকে আসামি করা হয়। মামলার বাদী লিয়াকতের ভাইয়ের ছেলে তৌফিক আজিম মিশু। তদন্ত শেষে ২০১৩ সালের ৬ মার্চ অভিযোগপত্র দাখিল করে পুলিশ। অভিযোগ গঠনের শুনানিকালে আসামি মইনউদ্দিন হোসেন টুনু ও মোঃ এহসান, নুরুল আমিন সরকার, কিষাণ সরকার, সাইফুল ও মনিরুজ্জামান মোহন অব্যাহতির আবেদন করেন। এই আবেদনের শুনানির আগে জেলা জজের সঙ্গে এহসানের মোবাইল ফোনে কথোপকথনের অভিযোগ ওঠে। সে সময় আসামি এহসান জামিনে ছিলেন। কথোপকথনের পরই তাদের দু’জনকে মামলা থেকে অব্যাহতি দেয়া হয়। অন্য চার আসামির অব্যাহতির আবেদন নামঞ্জুর করে অভিযোগ গঠন করেন বিচারক।

তদন্ত প্রতিবেদন পেয়ে সুপ্রীমকোর্ট প্রশাসন চাঁদপুরের জেলা জজ মফিজুল ইসলামের বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলার সুপারিশ করে আইন মন্ত্রণালয়ে পাঠায়। একই সঙ্গে বিভাগীয় মামলা তদন্তের জন্য চট্টগ্রামের জেলা ও দায়রা জজ মুহাম্মদ নুরুল হুদাকে তদন্তকারী কর্মকর্তা নিয়োগ করেন সুপ্রীমকোর্ট প্রশাসন।