২২ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

বিশ্বের জন্য বিপজ্জনক পাকিস্তান পাকিস্তান

  • ইসলামাবাদের পরমাণু অস্ত্র অভিলাষ ঠেকান ॥ বড় শক্তিকে নিউইয়র্ক টাইমস

পাকিস্তানকে এর পরমাণু অস্ত্র কর্মসূচীর রাশ টেনে ধরার জন্য রাজি করতে বিশ্ব শক্তিগুলোর প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন নিউইয়র্ক টাইমসের সম্পাদকীয় বোর্ড। রবিবার প্রকাশিত এক সম্পাদকীয়তে মার্কিন পত্রকাটির পাকিস্তান সমগ্র বিশ্বের প্রতি এক বিপদের কারণ হয়ে পড়েছে বলে মন্তব্য করা হয়। খবর ডন ও নিউইয়র্ক টাইমস অনলাইনের।

সম্পাদকীয়তে বলা হয়, পাকিস্তান অনেকগুলো চরমপন্থী দলের আস্তানাও বটে এবং এদের কোন কোনটি ভারতকে নিয়ে উদভ্রান্ত এক সিকিউরিটি এস্টাবলিশমেন্টের সমর্থনপুষ্ট। এ সত্যতা দক্ষিণ এশিয়া এবং বাস্তবিক পক্ষে সমগ্র বিশ্বের প্রতি পাকিস্তান যে বিপদের সৃষ্টি করছে, তার মাত্রা কেবল বাড়িয়েই দেয়। এতে উল্লেখ করা হয়, পাকিস্তানের হাতে থাকা ১২০টি পরমাণু বোমা নিয়ে দেশটি এক দর্শকের মধ্যে মার্কিন পত্রিকাটির বিশ্বের তৃতীয় বৃহত্তম পরমাণু শক্তিতে পরিণত হবে। দেশটি পরমাণু অস্ত্রের সংখ্যার দিক দিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়ার পিছনে থাকলেও চীন, ফ্রান্স ও ব্রিটেনের চেয়ে এগিয়ে থাকবে। পাকিস্তানের অস্ত্রভা-ার অন্য যে কোন দেশের তুলনায় দ্রুততর গতিতে বিস্তৃত হচ্ছে। সম্প্রতি এ অস্ত্রভা-ারে ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র ট্যাক্টিকাল পরমাণু অস্ত্র এবং দূরপাল্লার পরমাণু ক্ষেপণাস্ত্র যুক্ত করার এটি আরও প্রাণঘাতী হয়ে উঠেছে। এসব অস্ত্র ভারতে আঘাত আনতে সক্ষম এবং ক্ষেপণাস্ত্রগুলো আরও দূর পৌঁছতে পারে। এসব কিছুই অস্বস্তিকর সত্য। এতে আরও বলা হয়, পাকিস্তানকে এর পরমাণু অস্ত্র কর্মসূচীর রাশ টেনে ধরতে রাজি করাতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের অগ্রাধিকার দেয়া উচিত। বড় বড় বিশ্ব শক্তি ইরানের পরমাণু অস্ত্র তৈরির অভিলাষ নিবৃত করার লক্ষ্যে আলোচনার মাধ্যমে এক চুক্তিতে পৌঁছতে দু’বছর ব্যয় করেছে, অথচ দেশটির একটিও পরমাণু অস্ত্র নেই। কিন্তু পাকিস্তানের ক্ষেত্রে অনুরূপ চেষ্টা চালানো হয়নি। পাকিস্তান ও ভারত এ পর্যন্ত পরমাণু অস্ত্র তৈরির ক্ষেত্রে আদৌ কোন সীমার কথা বিবেচনা করতে অস্বীকার করে এসেছে। ওবামা প্রশাসন অধিকতর গুরুত্ব ও ভাবনার সঙ্গে এ জটিল ইস্যুটির নিরসন করার কাজ শুরু করলেও প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরীফের সাম্প্রতিক ওয়াশিংটন সফরের সময় ঐ লক্ষ্যে কোন অগ্রগতি হয়নি বলে উল্লেখ করে সম্পাদকীয়তে সাফল্যের সম্ভাবনা দৃশ্যত কম বলে মন্তব্য করা হয়। এতে আরও বলা হয়, কিন্তু চেষ্টা চালিয়ে না যাওয়া ভুলই হবে বিশেষত যখন কাশ্মীর ও সন্ত্রাসবাদ নিয়ে পাকিস্তান ও ভারতের মধ্যে উত্তেজনা বৃদ্ধি পেয়েছে। পাকিস্তানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের কোন পরমাণুু চুক্তি স্বাক্ষরের বিষয়ে সম্পাদকীয় বোর্ড বলেছে, প্রশাসনের দৃষ্টিভঙ্গির নতুনত্ব এই যে, পরিস্থিতিকে মূলত নৈরাজ্যজনক বলে গণ্য করার পরিবর্তে প্রশাসন এখন এমন একটি চুক্তির সম্ভাবনা নিয়ে ভেবে দেখছে, যাতে প্রত্যেক পক্ষই এর চাহিদামতো কিছু পেতে পারে। বোর্ড আরও বলেছে, পাশ্চাত্যের জন্য সেটির অর্থ হলো পাকিস্তান সংযমের পরিচয় দেবে এবং পরমাণু প্রযুক্তির বিস্তার রোধের আন্তর্জাতিক নিয়মকানুন আরও বেশি মাত্রায় মেনে চলবে। আর পাকিস্তানের জন্য এর অর্থ হলো পাকিস্তানকে পরমাণু শক্তিগুলোর দলে নেয়া এবং প্রযুক্তি লাভের সুযোগ দেয়া হবে।

যুক্তরাষ্ট্র পাকিস্তানকে ভারতের মতো পরমাণু সহযোগিতা চুক্তির প্রস্তাব দিচ্ছে না বলে সম্পাদকীয়তে দাবি করা হয়। এ চুক্তি নয়াদিল্লীকে আমেরিকার পরমাণু জ্বালানি প্রযুক্তি কেনার অনুমতি দেয়। পত্রিকাটিতে মার্কিন কর্মকর্তাদের উদ্ধৃতি দিয়ে বলা হয়, ৪৮ জাতি নিউক্লিয়ার সাপ্লায়ারস গ্রুপের সদস্য পদে পাকিস্তানকে যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থন দেয়ার বিনিময়ে পাকিস্তানের কি করা প্রয়োজন তা নিয়ে তারা আলোচনা করছেন। এ গ্রুপটি পরমাণু জ্বালানি ও প্রযুক্তির বাণিজ্য নিয়ন্ত্রণ করে থাকে। এক মার্কিন কর্মকর্তা বলেন, প্রথম পদক্ষেপ হিসেবে পাকিস্তানকে ট্যাক্টিকাল পরমাণু অস্ত্র তৈরি বন্ধ করতে হবে। এসব অস্ত্র ভারতের সঙ্গে কোন সংঘর্ষকালে ব্যবহৃত হতে পারে এবং ও সন্ত্রাসীদের হাতে আরও সহজেই পড়তে পারে। পাকিস্তানকে দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র তৈরিও বন্ধ করতে হবে। দেশটিকে পরমাণু অস্ত্র পরীক্ষা নিষিদ্ধকরণ চুক্তিও সই করা উচিত। সম্পাদকীয়তে একথা বলা হয়।