২৪ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

দরকার আরও একটু ভাল ব্যাটিং

মিথুন আশরাফ ॥ জিম্বাবুইয়ের বিপক্ষে দ্বিতীয় ওয়ানডেতে বাংলাদেশ ইনিংসটি ভাল মন্দের মধ্য দিয়েই গেল। বড় সংগ্রহ গড়তে পারেনি বাংলাদেশ। প্রথম ওয়ানডেতে ২৭৩ রান করলেও দ্বিতীয় ওয়ানডেতে ৫০ ওভারে ৯ উইকেট হারিয়ে ২৪১ রান করল। ইমরুল কায়েস শুরুতে হাল না ধরলে এ রানও হয়ত হতো না। ইমরুল ছাড়া আর কেউই অর্ধশতকও করতে পারেননি।

শুরুটা দুর্দান্ত হলো। কিন্তু যেই ৩২ রানে তামিম ইকবাল (১৯) আউট হয়ে গেলেন এরপর ৭৯ রানের মধ্যে ৩ উইকেট হারিয়ে বসল বাংলাদেশ। ৪৭ রানে লিটন কুমার দাস (৭) আউট হলেন। আর ৭৯ রানে গিয়ে মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ (৪) সাজঘরে ফিরলেন। লিটন ও মাহমুদুল্লাহ-দুইজনই টানা দুই ম্যাচেই ব্যর্থ হলেন। লিটন তো তার খেলা শেষ ১০ ম্যাচ ধরেই বিপত্তিতে আছেন। জিম্বাবুইয়ের বিপক্ষে প্রথম ওয়ানডেতে রানের খাতা খোলার আগেই আউট হয়ে গেছেন। এরও আগে বিসিবি একাদশ, দক্ষিণ আফ্রিকা সফরে গিয়ে, এমনকি ভারত ‘এ’ দলের বিপক্ষেও ভাল খেলতে পারেননি। শেষ ১০ ম্যাচে তার ব্যাট থেকে মাত্র দুটি অর্ধশতক এসেছে। এরপরও লিটন একাদশেই থাকছেন। মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ অপরিহার্যই। এরপরও জিম্বাবুইয়ের মতো দলের বিপক্ষে একটি বড় ইনিংস তার কাছ থেকে প্রাপ্যই। তিন উইকেট পড়ে যাওয়ার পর বাংলাদেশও বিপাকেই পড়ে যায়। ঠিক প্রথম ওয়ানডের মতো। আবার ব্যাট হাতে নামেন মুশফিকুর রহীম। সবার ভেতর ভরসাও থাকে। মুশফিক আবারও দলের হাল ধরবেন। ইমরুলকে সঙ্গে নিয়ে অনেকটা দূর এগিয়েও যান মুশফিক। কিন্তু খুব বেশিদূর এদিন যেতে পারেননি। ১২৭ রানে গিয়ে মুশফিক (২১) আউট হয়ে যান। প্রথম ওয়ানডের মতো সোমবারও মনে হচ্ছিল, ২০০ রানও করতে পারবে না বাংলাদেশ। আবার হাল ধরার চেষ্টা করেন সাব্বির রহমান রুম্মন। ১৫১ রান পর্যন্ত দুইজন এগিয়ে চলেন। এর মধ্যে ইমরুল ক্যারিয়ারের ১১তম অর্ধশতকও করেন। প্রথম ওয়ানডেতে সুযোগ পাননি খেলার। সাকিব আল হাসান যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়ায় ইমরুলের খেলার সুযোগ হয়। সুযোগটি পেয়েই কাজে লাগান। ওপেনিংয়ে নামেন। নেমেই ৮৯ বলে ৬ চার ও ৪ ছক্কায় ৭৬ রানের ইনিংস খেলেন। শতকও হয়ত করতে পারতেন, যদি আরেকটু বুঝে খেলতে পারতেন। কিন্তু উইলিয়ামসের ফুলটস বলটি খেলতে গিয়েই বিপত্তিতে পড়েন। আউট হয়ে যান। তবে আউট হওয়ার আগে দলকে ভাল স্কোরই উপহার দিয়ে যান। তা না হলে দল আরও বিপদে পড়তে পারত।

ইমরুল আউট হতেই ব্যাট হাতে নামেন নাসির। সাব্বিরের সঙ্গে এবার নাসির এগিয়ে চলতে থাকেন। ভরসা যা থাকে এ দুইজনের উপরই। এ দুইজনই যে ব্যাটসম্যান থাকেন। অন্যদের মধ্যে মাশরাফি বিন মর্তুজা, আরাফাত সানি, আল আমিন হোসেন ও মুস্তাফিজুর রহমানের উপর সেই ভরসা থাকে না, যা থাকে উপরের সাড়ির ব্যাটসম্যানদের উপর। তাই সাব্বির-নাসিরই ভরসা হয়ে থাকেন। সেই ভরসার প্রতিদানও দেন দুইজন। দুইজন মিলে ধীরে ধীরে এগিয়ে যেতে থাকেন। দলকে ২০০ রানের কাছাকাছিও নিয়ে যান। ১৯৩ রানে গিয়ে ৩৩ রান করা সাব্বির সাজঘরে ফেরেন। এরপরও নাসির হাল ছাড়েননি। প্রথম ওয়ানডেতে রানের খাতা খোলার আগে আউট হয়ে গেছেন। দ্বিতীয় ওয়ানডেতে দল যখন খাদের কিনারায় পড়ে গেছে, এমন সময়ে তার উপরই সবচেয়ে বেশি ভরসা থাকে। এমন সময়ে ভাল কিছু করে দেখাতে না পারলে কখন পারবেন। নাসির পেরে দেখালেন। অভিজ্ঞতা যে কি জিনিস তা বুঝিয়ে দিলেন। নিচের সাড়ির ব্যাটসম্যানদের নিয়েই এগিয়ে যেতে থাকেন নাসির। সাব্বির আউটের পর মাশরাফিকে নিয়ে ২৩১ রান পর্যন্ত এগিয়ে যান। এমন সময়ে ১৩ রান করা মাশরাফি আউট হন। আর ৩ রান যোগ হতেই নাসির নিজেই সাজঘরে ফেরেন। আউটের আগে ৪১ রানের ইনিংস খেলেন। যেটি দলকে অনেক এগিয়ে নিয়ে গেছে। শেষে গিয়ে আরাফাত সানি (৩) ২৩৬ রানে আউটের পর আল আমিন (১*) ও মুস্তাফিজ (৫*) দলকে ২৪১ রান পর্যন্ত নিয়ে যান।

এখনকার সময়ে ওয়ানডেতে ৫০ ওভারে এটা অল্প পুঁজিই। এরপরও যেহেতু খেলাটি বাংলাদেশের মাটিতেই হচ্ছে আর প্রথম ওয়ানডেতে ১২৮ রানেই গুটিয়ে গেছে জিম্বাবুইয়ে; ভরসা করাই যায়। আবার এখন পর্যন্ত জিম্বাবুইয়ের বিপক্ষে দেশের মাটিতে প্রথম ইনিংসে ব্যাট করে ২৪০ রানের বেশি করে মাত্র একবার হেরেছে বাংলাদেশ। ৯ বার ২৪০ রানের বেশি করে একবার হার হয়েছে ১৯৯৯ সালে, বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়ামে। মিরপুর স্টেডিয়ামে একবারও হারেনি বাংলাদেশ। এমনকি প্রথম ইনিংসে ২২০ রানের বেশি করেও হারতে হয়নি বাংলাদেশকে।

জিম্বাবুইয়ে টস জিতে যখন ফিল্ডিং নেয় এবং খেলা শুরু হয়, তখন কারওই মন আসলে ম্যাচের দিকে তেমন একটা ছিল না। সবার আলোচনায় ছিল একটি নামই, সাকিব আল হাসান। যিনি প্রথম ওয়ানডে খেলেই সন্তানসম্ভবা স্ত্রীর পাশে থাকতে যুক্তরাষ্ট্রে যান। প্রথম কন্যা সন্তানও হয়ে যায় সাকিব-শিশির জুটির। সাকিবের কন্যা কখন হয়েছে, সুস্থ আছে কিনা; এসব আলোচনা নিয়েই সবাই ব্যস্ত ছিল। তবে যখন দ্রুতই বাংলাদেশের ৩ উইকেট পড়ে গেল, তখন সবার নজরই ম্যাচের দিকে চলে যায়। সেখানেও সাকিবের অভাববোধের বিষয়টিই চলে আসে। ইমরুল অসাধারণ ইনিংস খেললেন। এরপর সাব্বির, নাসিরও দলকে এগিয়ে নিয়ে গেলেন। শেষে এ আলোচনাগুলো প্রাধান্য পেতে থাকে। বাংলাদেশ যে বড় সংগ্রহ গড়তে পারল না।