২২ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

টেস্ট ক্রিকেটে ১৫ বছর পূর্তি বাংলাদেশের

  • ভারতের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে ২০০০ সালের এই দিন টেস্ট ক্রিকেটে যাত্রা শুরু

স্পোর্টস রিপোর্টার ॥ ঐতিহাসিক একটা দিন আজ বাংলাদেশ ক্রিকেটের জন্য। গৌরবের দিন বাংলাদেশের মানুষের জন্য। কারণ ১৫ বছর আগে আজকের এই দিনে বিশ্ব ক্রিকেটে একটা স্বীকৃত দল হিসেবে যাত্রা শুরু করেছিল বাংলাদেশ ক্রিকেট দল। প্রথমবারের মতো মর্যাদার টেস্ট ক্রিকেট খেলতে নেমেছিল বাংলাদেশ। ইতিহাসের পাতায় বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়াম। কারণ সেখানেই ২০০০ সালের ১০ নবেম্বর ভারতের বিপক্ষে নিজেদের প্রথম টেস্ট খেলতে নামে বাংলাদেশ। আজ সেই দিন। ১৫ বছর পেরিয়ে গেছে। এই ১৫ বছরে মোট ৯৩ টেস্ট খেলে মাত্র ৭ জয়, ৭১ পরাজয় ও ড্র ১৫টি বাংলাদেশের। এই পরিসংখ্যানই বলে দিচ্ছে টেস্ট ক্রিকেটে তেমন এগোতে পারেনি দল। ঐতিহাসিক সেই প্রথম টেস্টে বাংলাদেশকে নেতৃত্ব দেয়া গর্বিত অধিনায়ক নাঈমুর রহমান দুর্জয় নিজেও এমনটাই বললেন। তবে টেস্ট ক্রিকেট উন্নতির জন্য বেশি বেশি লঙ্গারভার্সন ক্রিকেট খেলার প্রতি গুরুত্ব দিয়েছেন বর্তমানে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) ক্রিকেট পরিচালনা বিভাগের চেয়ারম্যান দুর্জয়। ওয়ানডে ও টি২০ ক্রিকেটে বিশ্বের অন্যতম শক্তিধর দলে পরিণত হয়েছে বাংলাদেশ। বর্তমানে আইসিসির ওয়ানডে র‌্যাঙ্কিংয়ে ৭ নম্বরে অবস্থান করছে টাইগাররা। কিন্তু টেস্ট ক্রিকেটে যেন সেই আগের অবস্থানেই আছে দল। এর কারণ কম টেস্ট খেলা, এমনটাই মনে করেন অনেকে। ১৫ বছরে মাত্র ৯৩ টেস্ট খেলেছে বাংলাদেশ দল, অর্থাৎ বছরে গড়ে ৬ টেস্ট। এর মধ্যে জিম্বাবুইয়ে ও ওয়েস্ট ইন্ডিজ ছাড়া কোন দলের বিপক্ষেই জয় তুলে নিতে পারেনি। মাত্র ৭ জয়ের বিপরীতে হার দেখতে হয়েছে ৭১ টেস্টে, ১৫টি আছে ড্র। উন্নতির গ্রাফটা তেমন উর্ধগামী নয়। আর এ বিষয়ে প্রথম টেস্টে বাংলাদেশের গর্বিত অধিনায়ক দুর্জয় বলেন, ‘একটা টেস্ট খেলুড়ে দলের যে কালচার থাকে, সেটা আমরা এখনও করতে পারি নাই। ফলাফলের দিক দিয়ে, বিশেষ করে আমরা যদি ওয়ানডের রেজাল্ট বিবেচনা করি, সেক্ষেত্রে আমি বলব, অন্যান্য অনেক দেশের চেয়ে আমরা অনেক দ্রুতগতিতে এগিয়েছি। কিন্তু টেস্ট বা লঙ্গারভার্সনে সে রকম নির্দিষ্ট কোন উন্নতি হয়েছে বলব না। গত ১২ বছর (১৫ হবে) আমরা কিছু টেস্টে হয়তো ভাল রেজাল্ট করেছি। কিন্তু অবকাঠামো, যেগুলোতে উন্নতি হওয়া উচিত ছিল সেটা হয়নি। আমি মনে করি, আমাদের আরও উন্নতি করা দরকার। কারণ আমি বিশ্বাস করি, যারা লঙ্গারভার্সনে ভাল খেলবে, তারা সব ফরমেটে ভাল খেলবে। কিন্তু আমরা এখন শুধু টি২০ বা ওয়ানডে, বিশেষ করে ওয়ানডের রেজাল্টের ওপর ভিত্তি করে একটু সন্তুষ্ট হতে চাই। যেটা দীর্ঘমেয়াদের জন্য ভালকিছু না।

আমরা যদি লম্বা সময় চিন্তা করি, তাহলে আমাদের লঙ্গারভার্সন বা টেস্ট ক্রিকেটের প্রতি আরও নজর দিতে হবে। ১৯৯৭ সালে আইসিসি ট্রফি জয়ের মাধ্যমেই বাংলাদেশ ক্রিকেট জাতি হিসেবে নিজেদের পরিচয়টা দেয়ার সূত্রপাত করেছিল। সেটাই উন্নতির পথে এগিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে অনেক বড় একটি ভূমিকা রেখেছিল। আর এরই ফলশ্রুতিতে ২০০০ সালের ২৬ জুন টেস্ট মর্যাদা পায় বাংলাদেশ। ভারতের বিপক্ষে প্রথম খেলা টেস্টের সেই স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে দুর্জয় বলেন, ‘অভিষেক টেস্টে যে ক্যাপ্টেন থাকব, এটা তো আসলেই আগে থেকে ভাবিনি। যেহেতু প্রথম টেস্ট, টসটাই সবচেয়ে স্মরণীয়। মাঠে প্রধানমন্ত্রী উপস্থিত ছিলেন। সবকিছুই বিশেষ একেকটা মুহূর্ত ছিল। আসলে ওই সময়টা একটু বেশি নতুন ছিল, বেশি আবেগী ছিল।’ এবার টেস্ট দলকে সমৃদ্ধ করার পদক্ষেপ নেয়া জরুরী। এ বিষয়ে দুর্জয় বলেন, ‘একটা টেস্ট খেলুড়ে দেশে ফার্স্ট ক্লাস ক্রিকেটকে যেভাবে মূল্যায়ন করা হয়, , সেই জায়গায় আমরা যেতে পারিনি। হয় তো আমরা এখনও ওই মানের না।