২৫ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

নেইমারের জোড়া গোলে জয় বার্সিলোনার, রিয়ালের হার

স্পোর্টস রিপোর্টার ॥ আবারও চমক দেখাল সেভিয়া। চ্যাম্পিয়ন বার্সিলোনা ‘বধ’ করার পর এবার আরেক পরাশক্তি রিয়াল মাদ্রিদকেও মাটিতে নামিয়েছে তারা। রবিবার রাতে স্প্যানিশ লা লিগার ম্যাচে পিছিয়ে পড়েও সেভিয়া ৩-২ গোলে পরাজিত করে অতিথি রিয়ালকে। এটি চলমান লীগে গ্যালাক্টিকোদের প্রথম হার।

এর আগে আরেকবার নেইমার ও লুইস সুয়ারেজের জাদুকরী পারফর্মেন্সে ভর করে বার্সিলোনা ৩-০ গোলে হারায় ভিয়ারিয়ালকে। লিওনেল মেসিকে ছাড়া এই জয়ে পয়েন্ট তালিকায় এককভাবে শীর্ষে পৌঁছে গেছে কাতালানরা। ম্যাচটির আগে শীর্ষস্থান ছিল রিয়ালের। কিন্তু তারা হার মানায় ও নিজেদের ম্যাচ জেতায় এখন ১১ ম্যাচ শেষে সর্বোচ্চ ২৭ পয়েন্ট বার্সার। আগের ২৪ পয়েন্ট নিয়ে দুইয়ে নেমে গেছে রিয়াল। ২৩ পয়েন্ট নিয়ে তিনে থাকা এ্যাটলেটিকো নিজেদের মাঠ ভিসেন্টে ক্যালডেরনে ১-০ গোলে হারিয়েছে স্পোর্টিং গিজনকে। আরেক ম্যাচে এ্যাথলেটিক বিলবাও ২-১ গোলে হারিয়েছে এস্পানিওলকে।

আগামী ২১ নবেম্বর বছরের প্রথম এল ক্ল্যাসিকোতে মুখোমুখি হবে দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী রিয়াল মাদ্রিদ ও বার্সিলোনা। গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচটির আগে মানসিকভাবে কিছুটা হলেও এগিয়ে গেল লুইস এনরিকের দল। ঊরুর ইনজুরি কাটিয়ে দীর্ঘ তিন সপ্তাহ পর দলে ফিরেছিলেন রিয়ালের ওয়েলস ফরোয়ার্ড গ্যারেথ বেল। কিন্তু রিয়ালের আক্রমণভাগে তিনি নিজেকে মেলে ধরতে ব্যর্থ হন। এল ক্ল্যাসিকোর আগে মেসিকে ছাড়াই দুর্দান্ত ফর্মে থাকা বার্সিলোনার বিপক্ষে তাই ক্রমশই রিয়ালের পারফর্মেন্স নিয়ে চিন্তিত হয়ে উঠছেন সংশ্লিষ্টরা। চ্যাম্পিয়ন্স লীগে প্যারিস সেইন্ট-জার্মেইনের বিপক্ষে নাচোর জয়সূচক গোল সকলকে বিস্মিত করেছিল। এই ফুলব্যাক পরশুও নিজেকে প্রমাণের চেষ্টা করেছেন। ম্যাচের ১১ মিনিটে তার আক্রমণ থেকেই রিয়াল প্রথম এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ পায়। সে যাত্রায় রক্ষা পেলেও ম্যাচের ২২ মিনিটে ইস্কোর কর্নার থেকে রামোসের দুর্দান্ত কিক সেভিয়ার গোলরক্ষক সার্জিও রিকোর রক্ষা করার কোন উপায় ছিল না।

এই গোলের কিছুক্ষণ পর কাঁধের পুরনো ইনজুরিতে মাঠ ছাড়তে বাধ্য হন রিয়াল অধিনায়ক রামোস। তার পরিবর্তে মাঠে নামেন রাফায়েল ভারানে। বিরতির ১০ মিনিট আগে ইয়েভেন কোনোপ্লানিয়ানকার কর্নার থেকে সেভিয়ার পক্ষে নিজের প্রথম গোল করে ইমোবিলে ম্যাচে সমতা ফেরান সেভিয়াকে। মিনিটখানেক পর এই ইতালিয়ান নিজের দ্বিতীয় গোল প্রায় পেয়েই গিয়েছিলেন। রিয়াল গোলরক্ষক কিকো ক্যাসিয়াকে এক পেয়েও ঠিকমতো বল ধরতে ব্যর্থ হন। প্রথমার্ধে আর কোন শক্ত প্রতিরোধ গড়তে পারেনি রিয়াল। বিরতির পর ৬১ মিনিটে কোনোপ্লানিয়ানকার লো ক্রস থেকে এভার বানেগা স্বাগতিকদের এগিয়ে দেন। এই গোলে অনেকটাই বিস্মিত হয়ে পড়েন রাফায়েল বেনিতেজ শিষ্যরা। পিছিয়ে পড়ার পর ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডো ও গ্যারেথ বেলের দুটি প্রচেষ্টা ব্যর্থ হয়। এরপর সার্জিও রিকো কাসেমিরোর হেড দুর্দান্তভাবে রুখে দিয়ে ফের রিয়ালকে বঞ্চিত করেন।

ম্যাচের ৭৫ মিনিটে আবারও রিয়ালের জালে বল। এবার মারিয়ানো ফেরেইরার ক্রস থেকে লোরেন্টে সেভিয়ার পক্ষে তৃতীয় গোল করলে রিয়ালের হার নিশ্চিত হয়ে যায়। দুই মাস পর ইস্কোর স্থানে বদলি হিসেবে প্রথম মাঠে নেমে কলম্বিয়ান তারকা জেমস রড্রিগুয়েজ ম্যাচের শেষ মুহূর্তে (৯২ মিনিট) এক গোল পরিশোধ করলেও তা দলের হার এড়াতে পারেনি। ম্যাচ শেষে দলের পারফর্মেন্সে হতাশা ব্যক্ত করেন রিয়াল কোচ রাফায়েল বেনিতেজ। আর উচ্ছ্বাসে মেতে ওঠেন সেভিয়ার ফুটবলাররা।

ভিয়ারিয়ালের বিপক্ষে ন্যুক্যাম্পে প্রথমার্ধে গোলের দেখা পায়নি স্বাগতিক বার্সিলোনা। বিরতির পর আক্রমণের ঢেউ বইয়ে দিয়ে সহজ জয় তুলে নেয় চ্যাম্পিয়নরা। ৬০ মিনিটে প্রথম গোল করেন নেইমার। ৭০ মিনিটে পেনাল্টি থেকে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন লুইস সুয়ারেজ। ৮৫ মিনিটে নেইমার নিজের দ্বিতীয় ও দলের হয়ে তৃতীয় গোল করেন। এই গোলটি ছিল অনিন্দ্য সুন্দর। রীতিমতো অবিশ্বাস্য ভঙ্গিতে গোলটি করেন ব্রাজিলিয়ান অধিনায়ক। মাঝ মাঠে বল পেয়ে নেইমার তা দিয়েছিলেন সতীর্থ সুয়ারেজকে। সুয়ারেজ বাঁদিকে এগিয়ে ক্রস বাড়ান ডি বক্সে। উড়ন্ত বল বুক দিয়ে থামিয়ে ডান পায়ে ফ্লিক করে কিছুটা ওপরে তুলে এক ডিফেন্ডারকে ফাঁকি দিয়ে ৩৬০ ডিগ্রী ঘুরে ডান পায়ের ভলিতে দর্শনীয়ভাবে লক্ষ্যভেদ করেন নেইমার। এটা নিয়ে চলমান মৌসুমে লা লিগায় ব্রাজিলিয়ান তারকার গোল হলো সর্বোচ্চ ১১টি।

ম্যাচ শেষে নেইমার বলে, এখন যা দিচ্ছি তাতে আমি খুব খুশি। তবে আমার বিশ্বাস, আমি আরও উন্নতি করতে পারি।