২৬ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

শিশুশিল্পী থেকে স্বনামধন্য তারকা

  • এনামুল হক

ড্রিউ ব্যারিমোরের পরিচয় তো একটা নয়, একাধিক। একই সঙ্গে তিনি একজন অভিনেত্রী, চিত্রপরিচালক, ব্যবসায় উদ্যোক্তা, মডেল ও লেখিকা। এমন বহুমাত্রিক কর্মকা-ে সমৃদ্ধ জীবনের এই নারী আমেরিকার সুপরিচিত মঞ্চ ও চলচ্চিত্র শিল্পী পরিবার থেকে এসেছেন। বিজ্ঞাপনে তার প্রথম আবির্ভাব যখন তিনি ১১ মাসের শিশুমাত্র। ৭ বছর বয়সে একজন শিশুশিল্পী হিসেবে প্রথম সিনেমায় অভিনয় করেন। এর দুবছর পর স্পিলবার্গের ই,টি ছায়াছবিতে গার্লি চরিত্রে অভিনয়ের মধ্য দিয়ে আমেরিকার সবচেয়ে প্রতিভাবান শিশুশিল্পী হিসেবে স্বীকৃতি লাভ করেন। সম্প্রতি টাইম ম্যাগাজিনে এক সাক্ষাতকারে তিনি জীবনের বিভিন্ন দিক নিয়ে বলেছেন।

যেমন শিশুশিল্পী হিসেবে অভিনয় জীবন শুরু করার কারণেই তার অভিনয় রীতিতে ভিন্ন বৈশিষ্ট্য এসেছিল কিনা এ প্রসঙ্গে ব্যারিমোরের বক্তব্য হলো স্রেফ অভিনয়ের খাতিরে আমি অভিনয় করতে পারি না। কোন কিছু নকল করতে পারি না। এদিক দিয়ে আমার অবস্থা ভয়াবহ। চার্লিস এঞ্জেল-এ অভিনয়ের কাজটা দারুণ কঠিন ছিল। ভালবাসার ক্ষেত্রে আপনি আকর্ষিত হওয়ার দৃষ্টিতে তাকাতে পারেন। ভান করতে পারেন যে কারোর কোন কিছুর প্রতি আকর্ষিত বোধ করছেন। কিন্তু বন্ধুত্বের রসায়নে ভেজাল দেয়া বা নকল করা সম্ভব নয়।

স্যাটারডে নাইট লাইভ শোতে এ পর্যন্ত যে দুজন নারী পাঁচবার হোস্ট হওয়ার কৃতিত্ব অর্জন করেছেন তার একজন ব্যারিমোর। তিনি বলেন, সর্বাধিকবার হোস্ট হওয়ার রেকর্ডটি ছাড়াও সবচেয়ে কম বয়সে হোস্ট হওয়ার রেকর্ডটিও এখনও তার দখলে। এই এসএনএল রেকর্ডগুলো তার খুবই ভাল লাগে বলে জানান।

ব্যারিমোর মায়ের থেকে আলাদা হয়ে গিয়েছিলেন। দীর্ঘদিন পর আবার তাদের সম্পর্ক মিটমাট হয়ে গেছে। কিভাবে মিটমাট হলো তা নিয়ে বলতে গিয়ে ব্যারিমোর বলেন, জীবনের চল্লিশটা বছর ইতোমধ্যে পার হয়ে গেছে। তারপরও মনে হয় এই তো সেদিনের ঘটনা। এভাবে ভাবতে ভালও লাগে। আসলেই তো লম্বা একটা সময় চলে গেছে। বয়স বেড়েছে। সন্তানের মা হয়েছি। কিছু কিছু অপরাধবোধ, দুঃখ-বেদনা-যন্ত্রণা ভুলে গেছি। আমাদের মা-মেয়ের সম্পর্কটা কখনই গতানুগতিক ধারার সম্পর্ক ছিল না। তবে ছিল না বলেই আমরা মা-মেয়ে যে মন্দ হয়ে গেছি এমন নয়।

লেখিকা ব্যারিমোরের ‘ওয়াইল্ড ফ্লাওয়ার’ নামে একটা গল্পের বই আছে সেখানে বিভিন্ন গল্পের মধ্য দিয়ে তিনি নিজের জীবনকে ফুটিয়ে তুলেছেন। তবে বইটিকে তিনি নিজের স্মৃতিকথা বলতে নারাজ। কারণ কথাটা শুনতে তার কাছে ভারি ভারি লাগে। তাছাড়া নিজের জীবনের কিছু কিছু অধ্যায়ের ছেদ হওয়াও প্রয়োজন।

বই পড়ার আগে যে স্বাদ পেতেন তাতে পরিবর্তন এসেছে বলে জানিয়েছেন ব্যারিমোর। তিনি বলেন, এখন নিশ্চয়ই মোটা মোটা ক্লাসিক নিয়ে পড়তে বসে যাব না। এখন বরং বলব ‘উহ্্ বাবা ৮শ’ পৃষ্ঠার বই!’ অথচ ২৫ বছর যাবৎ এসব পড়ে কত যে আনন্দ পেয়েছি বলার নয়। মাতৃত্বের অধ্যায়টাই হয়ত এমন।

দুই মেয়ের জন্য সময় দিতে চান বলে অভিনয় থেকে সরে আসছেন ব্যারিমোর। তার স্বামীও নিজের কাজ সম্পর্কে একই রকম ভাবেন কিনা সে প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘আমরা দুজনেই বাড়িতে বসে প্রচুর কাজ করতে পারি। আমাদের, অন্তত আমার কাজের ধারায় যথেষ্ট পরিবর্তন এসেছে। তবে আমরা সন্তানদের স্বার্থকে সবার আগে স্থান দেই। আমরা হলাম স্বামী-স্ত্রী। কিন্তু তার চেয়েও বড় কথা আমরা বাবা-মা। আমি প্রায় চল্লিশ বছর- প্রথম কন্যা জন্ম নেয়ার আগে ৩৭টি বয়স নিজের জীবন নিজের করে কাটিয়েছি। সেটাই আমার জন্য যথেষ্ট।

এমন কোন চরিত্র কি আছে যা তাকে আবার পর্দায় ফিরিয়ে আনতে পারে? ব্যারিমোরের জবাব : ‘কোন কিছু যদি তীব্র আবেগমথিত হয় তাহলে তার উপর একটা স্বত্ব¡ চলে আসে। সেই আগুন ভিতরে ভিতরে ধিকি ধিকি জ্বলতে থাকে। কিন্তু আমার ভিতরে কোন ধরনের আগুনই জ্বলছে না। আমি যেখানে এসে থেমেছি সেখানে থাকতেই বরং ভাল লাগছে।

সুযোগ যখন ফুরিয়ে আসার লক্ষণ দেখা যাচ্ছে এমন একটা বয়সে ব্যারিমোর কম পরিশ্রমে করতে চাইছেন। তিনি ফিল্ম কোম্পানি গড়ে তুলেছেন, ফিল্ম বানিয়েছেন। তার জন্য কঠোর পরিশ্রমও করেছেন। সমস্ত দায়িত্ব পালন করেছেন। অথচ কখনও এমন ভাব পেয়ে বসেনি যে তিনি একজন কেউকেটা বনে গেছেন। তার সর্বদা মনে হয়েছে তিনি এক অবিশ্বাস্য সুযোগ পেয়ে গেছেন। সেই সুযোগের সদ্ব্যবহার করা ও লক্ষ্য পূরণ করা তার দায়িত্ব। মেকআপ, আইউইয়্যার ও ওয়াইনের সেই ব্রান্ডই ব্যারিমোরের পছন্দের যেটা ভালভাবে তৈরি। তিনি তেমন জিনিসই ভালবাসেন যা আনন্দদায়ক ও নেতিবাচক বৈশিষ্ট্য বিবর্জিত।

সূত্র : টাইম