২০ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

প্রভাবশালী প্রযুক্তির আইকন

  • মুসান্না সাজ্জিল

ফোর্বস ম্যাগাজিন বছরের শেষ প্রান্তে প্রকাশ করল বিশ্বের প্রভাবশালী ব্যক্তিদের তালিকা। রাষ্ট্রপ্রধান, উদ্যোক্তা, মানবহিতৈষি অসংখ্য ব্যক্তির ভীড়ে এ তালিকায় স্থান করে নিয়েছেন বেশ কজন আইটি ব্যক্তিত্ব। যারা তাদের উদ্ভাবনে পাল্টে ফেলছেন বিশ্বের চালচিত্র ও হালহকিকত। রাজনীতি ও জনকল্যাণের বাইরে মানুষের জীবনযাত্রাকে আমূল পরিবর্তন করা এসব তরুণের প্রযুক্তি আজ একবিংশ শতাব্দীর এক বিস্ময়। ডি-প্রজন্মের তরুণ পাঠকদের আজ পরিচয় করিয়ে দেয়া হলো ফোর্বসে জায়গা করে নেয়া এমন প্রযুক্তিবিদদের গল্প। কিভাবে, কি উপায়ে তারা প্রভাব বিস্তার করে স্থান করে নিয়েছেন প্রভাবশালীদের তালিকায়। গুগল, মাইক্রোসফট, ডেল, ফেসবুক, এ্যাপলসহ তথ্য প্রযুক্তির মহারথীদের গল্প আমাদের এবারের আয়োজন।

বিল গেটস # ৬

মাইক্রোসফট কর্ণধার বিল গেটস বিশ্বের প্রভাবশালীদের মধ্যে ষষ্ঠ। যদিও এবারের তালিকায় তাঁর স্থান করে নেয়ার পেছনে যতটা না ছিল তার উদ্ভাবন তার চেয়ে বেশি ছিল তাঁর জনহিতৈষি কর্মকা-। বিল এবং মেলিন্ডা তাঁর স্ত্রী গেটস ফাউন্ডেশন বিশ্বের হতদরিদ্র রাষ্ট্রে কল্যাণমুখী কর্মকা-ের মাধ্যমে বহুদিন ধরে অবদান রাখছেন। বিল গেটসের এমন জনহিতকর কাজের স্বীকৃতি স্বরূপ প্রথম দশেই জায়গা করে নিলেন মাইক্রোসফটের কর্ণধার।

ল্যারি পেইজ # ১০

যুক্তরাষ্ট্রে জন্ম নেয়া কম্পিউটার বিজ্ঞানী ও ব্যবসায়িক উদ্যোক্তা ল্যারেন্স ল্যারি পেইজ। সার্চ ইঞ্জিন গুগলের সহপ্রতিষ্ঠাতা পেইজ এলফাবেট-এর বর্তমান নির্বাহী। ল্যারি পেইজ ও সার্জে ব্রিন-দুজনেই এবারের তালিকায় স্থান করে নিয়েছেন। নিত্যনতুন সব উদ্ভাবনে পৃথিবীর জীবনরথ আমূল পাল্টে দেয়া এমন প্রযুক্তিবিদের তাই প্রথম দশে স্থান পাওয়া স্বাভাবিক।

জেফ বেজস # ১৭

জেফ বেজস্ একজন মার্কিন উদ্যোক্তা ও বিনিয়োগকারী। বিশ্বের ই-কমার্সের প্রসার ঘটাতে এই প্রযুক্তিবিদের অবদান অবিস্মরণীয়। তার প্রতিষ্ঠিত আমাজনে রয়েছে বর্তমান বিশ্বের সবচেয়ে বড় অন-লাইন খুচরা ব্যবসা। ২০১৩ সালে বেজ্স বিখ্যাত ‘দি ওয়াশিংটন পোস্ট’ পত্রিকা কিনে নেন। তাঁর বর্তমান সম্পত্তির পরিমাণ ৬৭.৭ বিলিয়ন মার্কিন ডলার।

মার্ক জুকার বার্গ # ১৯

২০১০-এ টাইম ম্যাগাজিনের পার্সন অব দ্য ইয়ার নির্বাচিত হয়েছিলেন জুকার বার্গ। বিশ্বে ফেসবুকের ব্যবহার ও জনপ্রিয়তা প্রমাণ করে বিশ্বে তার প্রভাব ও পরিচিতি। এবারের ফোর্বস তালিকায় বয়সে সবচেয়ে তরুণ মার্ক জুকারবার্গ। ৩১ বছর বয়সী, এই বিলিওনিয়ার বর্তমানে আর্টিফিসিয়াল ইন্টেলিজেন্স নিয়ে কাজ করছেন। ভবিষ্যতে ফেসবুকের মতোই নয়া উদ্ভাবন নিয়ে পাল্টে দিতে চান বিশ্ব।

জ্যাক মা # ২২

সমাজতান্ত্রিক চীনের সবচেযে সম্পদশালী ব্যক্তি জ্যাক মা। ইন্টারভিত্তিক ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান আলি বাবার কর্ণধার জ্যাক। তিনি একমাত্র চীনা নাগরিক যিনি রাজনীতির বাইরে ফোর্বস ম্যাগাজিনে নিজের জায়গা করে নিয়েছেন।

টিম কুক # ২৯

স্টিভ জব্স-এর জায়গায় আসীন হওয়াটা যতটা না সহজ তার চেয়ে কঠিন হলো এমন স্বপ্নদ্রষ্টার স্বপ্ন বাস্তবায়ন। এমন অসাধ্য সাধন করেছেন টিম কুক। এ্যাপলে যোগ দেয়ার পূর্বে টিম কুক দীর্ঘ বারো বছর আইবিএম-এ চাকরি করেন। এ্যাপলের কর্ণধার স্টিভ জবসের প্রয়াণের পর প্রতিষ্ঠানটিতে যে শূন্যতা সৃষ্টি হয় কুক তার মেধা ও প্রজ্ঞা দিয়ে খুব ভালভাবেই সেই শূন্যস্থান পূরণ করেন।

সার্জে ব্রিন # ৩০

রাশিয়ান বংশোদ্ভূত আমেরিকান সার্জে ব্রিন একজন কম্পিউটার বিজ্ঞানী ও ইন্টারনেট উদ্যোক্তা। ল্যারি পেইজকে সঙ্গে নিয়ে সার্জে ব্রিন সার্চ ইঞ্জিন গুগল প্রতিষ্ঠা করেন। মাত্র ছয় বছর বয়সে রাশিয়া ছেড়ে যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি দেন ব্রিন ও তার পরিবার। গণিত ও কম্পিউটার বিজ্ঞানে স্নাতক করা ব্রিন স্টামফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে পিএইচডি অর্জন করেন।

সাত্যয়া নাদেলা # ৬১

সাত্যয়া নাদেলা একজন ভারতীয় আমেরিকান। ভারতের হায়দ্রাবাদ রাজ্যে তাঁর জন্ম। নাদেলা ইলেকট্রিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে স্নাতক শেষ করে যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি দেন। একই বিষয়ে আমেরিকায় এমএস করার পাশাপাশি এমবিএ করেন সাত্যয়া নাদেলা। ১৯৯২ সালে মাইক্রোসফটে যোগ দেন এবং ক্যারিয়ারের শুরুতেই মাইক্রোসফটের রিসার্চ এন্ড ডেভেলপন্টে কাজ করেন সাত্যয়া। ২০১৪ সালে মাইক্রোসফটের প্রধান নির্বাহী নির্বাচিত হন।