১৯ ডিসেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

ধর্মীয় মেরুকরণই বিজেপির ভরাডুবির কারণ

  • বিহার নির্বাচন

ভারতের ক্ষমতাসীন দল বিজেপি ধর্মীয় মেরুকরণের চেষ্টায় মেতেছিল বলে জিতেছে মহাজোট। বিহার বিধানসভা ভোটের ফলাফল খতিয়ে দেখে এমনটাই মনে করছেন বিহার রাজ্য রাজনীতির বিশেষজ্ঞরা। তাদের মতে, বরাবরের মতো এবারেও বিহারের বিধানসভা নির্বাচনে জাতপাতের সমীকরণ কাজ করেছে। প্রার্থী তালিকা ঘোষণার দিনই মহাজোটের নেতারা সাংবাদিক সম্মেলনে জানিয়ে দিয়েছিলেন সমাজের কোন কোন অংশ থেকে দলীয় প্রার্থীদের বাছা হয়েছে। পরে প্রচারের অনেকটাই জুড়ে ছিল ১৯৯০ সালের উচ্চবর্ণ-নিম্নবর্ণের লড়াইয়ের বর্ণনা। এরই মাঝে এসে পরে দুটি গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা। উত্তর প্রদেশের দাদরিতে গো-মাংসের গুজবে মুসলিম সম্প্রদায়ের মানুষকে খুনের অভিযোগ এবং হরিয়ানার দুই দলিত শিশুর অগ্নিদগ্ধ হয়ে মৃত্যুর ঘটনা। ভোটের প্রচারে ওই দুটি ঘটনা গুরুত্ব পাওয়ায় মেরুকরণ আরও স্পষ্ট হয়ে যায়। বিহারের প্রায় ১১ কোটি মানুষের মধ্যে ১৬ দশমিক ৯ শতাংশ মুসলমান সম্প্রদায়ের। বিহারে মোট ভোটার প্রায় ৬ কোটি ৬৮ লাখ। তার মধ্যে মুসলিম সম্প্রদায়ের ভোটার রয়েছে প্রায় ১৩ শতাংশ। মেরুকরণের জেরে গোটা ভোটটাই গিয়েছে মহাজোটের দিকে। রাজ্য রাজনীতির বিশেষজ্ঞদের অনুমান, কোনভাবেই বিজেপি জোট এই ভোটের ভাগ পায়নি। যদি ১০ থেকে ১৫ শতাংশ মুসলিম ভোটও বিজেপি জোটের দিকে যেত, তা হলে নির্বাচনের ফল একেবারেই উল্টে যেত। একইভাবে দলিত এবং মহাদলিত সম্প্রদায়ের ভোটও বিজেপি জোটের পকেটে যায়নি। তবে লালুপ্রসাদ যাদব এই জোটের গুরুত্বপূর্ণ নেতা হওয়ার ফলে যে যাদব সম্প্রদায় লোকসভা ভোটে নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে গিয়েছিল, তাদের বড় অংশটাই মহাজোটের দিকে ফিরে এসেছে। বাকি সব সম্প্রদায়ের ভোটে দুই জোটই প্রায় সমান সমান অংশীদারিত্ব রেখেছে। সে কারণেই গত লোকসভা নির্বাচনে বিজেপি প্রায় এক কোটি পাঁচ লাখ ভোট পেয়েছিল। কিন্তু এবারে তা কমে প্রায় ৯৩ লাখ ভোটে পৌঁছেছে। লালুপ্রসাদের দলে আরজেডির ভোটও কমে প্রায় ৭২ লাখ থেকে প্রায় ৭০ লাখে পৌঁছে গিয়েছে। ভোট কমেছে কংগ্রেসেরও। -আনন্দবাজার পত্রিকা।