২০ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

দুর্যোগকালীন গবাদি পশুর ২৩ আশ্রয় কেন্দ্র মাটির কিল্লা দখলে

  • ৫০ বছর সংস্কার না হওয়ায় অধিকাংশ মাটির সঙ্গে মিশে গেছে

নিজস্ব সংবাদদাতা, কলাপাড়া, ৯ নবেম্বর ॥ পর্যটন এলাকা সাগরপারের কলাপাড়ায় দুর্যোগকালীন গবাদিপশু নিরাপদে আশ্রয় রাখার অধিকাংশ মাটির কিল্লা ব্যবহার অনুপযোগী হয়ে গেছে। এসব মাটির কিল্লার ওপরে সবজিসহ রবিশস্য আবাদের কারণে মাটি ধুয়ে গেছে। উচ্চতা অর্ধেকটাও নেই। কিল্লার চারদিকের কুয়া প্রভাবশালী লোকজন দখল করে মাছের ঘের করেছে। ফলে ঝড়-জলোচ্ছ্বাসকালীন গবাদিপশু নিরাপদে রাখার কোন সুযোগ থাকছে না। সিডর-আইলার মতো ভয়াল ঘূর্ণিঝড় কিংবা জলোচ্ছ্বাস ফের আঘাত হানলে কৃষকের গবাদিপশুর ব্যাপক প্রাণহানির আশঙ্কা রয়েছে। শুধু গবাদিপশু নয়, দুর্যোগকালে মানুষ তাদের জীবন ও সম্পদ রক্ষায় আশ্রয় নিতে পারে এসব কিল্লায়।

ষাটের দশকের প্রথম দিকে উপকূলীয় জনপদে দুর্যোগকালীন মানুষের আশ্রয়ের জন্য সাইক্লোন শেল্টার নির্মাণের পাশাপাশি মাটির কিল্লা করা হয়। কেউ কেউ আবার এগুলোকে টিলা বলে থাকে। কলাপাড়ায় মোট ২৩টি মাটির কিল্লা করা হয়। প্রায় ত্রিশ ফুট উঁচু একেকটি মাটির কিল্লার ওপরে দুর্যোগকালে অন্তত ছয় শ’ গবাদিপশু আশ্রয় নেয়ার সুযোগ ছিল। কিন্তু নির্মাণের পরে যথাযথ রক্ষণাবেক্ষণ না থাকার কারণে এসব মাটির কিল্লার চারদিকের মাটি কেটে নেয় এলাকার প্রভাবশালী মানুষ। অধিকাংশ কিল্লার মাটি কেটে রবিশস্য ও সবজির আবাদ করা হচ্ছে। ফলে এসব কিল্লার উচ্চতা এখন পাঁচ থেকে ১০ ফুটে নেমেছে। অধিকাংশ মাটির সঙ্গে মিশে গেছে। মিঠাগঞ্জ ইউনিয়নের সাফাখালী গ্রাম সংলগ্ন বিলের মাটির কিল্লাটির এমন দশা দেখা গেছে। একই দৃশ্য খাপড়াভাঙ্গা, চাকামইয়া, নীলগঞ্জ, লালুয়া, ধুলাসার, বালিয়াতলী, ডালবুগঞ্জ ও লতাচাপলীর।

কলাপাড়া লোন্দা সড়ক সংলগ্ন টিয়াখালীর কৃষকরা জানায়, গত সিডরে প্রায় ৬০০ গবাদিপশু কিল্লাতে রেখেছিলেন। তারা কিল্লাটি সংস্কার করার দাবি জানিয়েছেন। রেডক্রিসেন্ট সোসাইটির সহকারী পরিচালক আসাদুজ্জামান খান বলেন, খাজুরা গ্রামে একটি মাটির কিল্লা সংস্কার করা হয়েছে। তিনি আরও জানান, একটি মাটির কিল্লা করতে সাড়ে তিন একর জমির প্রয়োজন। জমিদাতা সঙ্কটে নতুন মাটির কিল্লা করা সম্ভব হচ্ছে না। পুরনো মাটির কিল্লাগুলোর সংস্কার পর্যায়ক্রমে করা হবে বলে তিনি জানান। এলাকার ইউপি চেয়ারম্যান ফোরাম নেতৃবৃন্দ জানান, সিডর পরবর্তী প্রত্যেকটি ইউনিয়নে ৫-৬টি মাটির কিল্লা নির্মাণ করা প্রয়োজন। পাশাপাশি পুরনো মাটির কিল্লা সংস্কার এবং কিল্লার সংযোগ সড়ক নির্মাণ করা জরুরী। উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডাঃ ইমরুল ইসলাম জানান, কলাপাড়ায় গরু মোষ ছাগল রয়েছে দুই লক্ষাধিক। তাই দুর্যোগকালীন মাটির কিল্লা নির্মাণ জরুরী। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ জাহাঙ্গীর হোসেন জানান, সরকারী এবং বেসরকারী সংস্থার উদ্যোগে কয়েকটি নতুন মাটির কিল্লা নির্মাণ এবং পুরনোগুলো সংস্কার করা হয়েছে।