১৬ ডিসেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

অবৈধ রাষ্ট্রপতিরা অবসর ভাতা পাবেন না

  • সংসদে বিল উত্থাপন

সংসদ রিপোর্টার ॥ অবসরে যাওয়া রাষ্ট্রপতিদের ভাতা বৃদ্ধির জন্য নতুন বিল উত্থাপন করা হয়েছে সংসদে। তবে সর্বোচ্চ আদালত ঘোষিত অবৈধ রাষ্ট্রপতিরা এই অবসর ভাতা প্রাপ্তির সুবিধা থেকে বঞ্চিত হবেন। সোমবার জাতীয় সংসদে স্পীকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে শুরু হওয়া সংসদ অধিবেশনে ‘রাষ্ট্রপতির অবসর ভাতা, আনুতোষিক ও অন্যান্য সুবিধা আইন-২০১৫’ নামে নতুন এই বিল উত্থাপন করা হয়েছে। প্রস্তাবিত আইনের বিধান অনুযায়ী বর্তমান রাষ্ট্রপতি অবসরে গেলে ৪৫ হাজার ৯০০ টাকা ভাতাসহ অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা পাবেন।

অধিবেশনে বিলটি উত্থাপন করেন কৃষিমন্ত্রী বেগম মতিয়া চৌধুরী। পরে বিলটি ৭ কার্যদিবসের মধ্যে অধিকতর পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটিতে পাঠানো হয়। গত ৩ আগস্ট মন্ত্রিসভার বৈঠকে বিলটি অনুমোদন দেয়া হয়। এর আগে রাষ্ট্রপতিদের অবসর সুবিধার জন্য ১৯৭৯ সালে প্রেসিডেন্ট পেনশন অর্ডিন্যান্স করা হয়। পরে ১৯৮৮ সালে এটি সংশোধন করা হয়।

উত্থাপিত বিলে রাষ্ট্রপতির পেনশন ভাতা ধরা হয়েছে মূল বেতনের ৭৫ শতাংশ। বর্তমান রাষ্ট্রপতির ৬১ হাজার ২০০ টাকা বেতন হিসেবে অবসর ভাতা হয় ৪৫ হাজার ৯০০ টাকা। আনুতোষিকের পরিমাণ এক বছরের জন্য প্রদেয় অবসরভাতা তত গুণ হবে, যত বছর কোন ব্যক্তি রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করেছেন। আর অন্যান্য সুযোগ সুবিধার ক্ষেত্রে একজন ব্যক্তিগত সহকারী ও একজন এ্যাটেন্ডেন্ট এবং দাফতরিক ব্যয় পাবেন। এছাড়া একজন মন্ত্রীর প্রাপ্য চিকিৎসা সুবিধা, সরকারী অনুষ্ঠানে যোগদানের জন্য বিনামূল্যে যানবাহন ব্যবহার, টেলিফোন সংযোগ, কূটনৈতিক পাসপোর্ট এবং দেশের অভ্যন্তরে সার্কিট হাউস ও রেস্ট হাউস ব্যবহারের সুযোগ পাবেন।

বিলে বলা হয়েছে, কমপক্ষে ৬ মাস রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করেছেন এমন ব্যক্তি এই সুযোগ-সুবিধা পাবেন। আর অবসরভাতা গ্রহণ করে কোন রাষ্ট্রপতি মৃত্যুবরণ করলে তার বিধবা স্ত্রী বা ক্ষেত্র মতে বিপতœীক স্বামী মাসিক অবসরভাতা দুই-তৃতীয়াংশ হারে আমৃত্যু মাসিকভাতা পাবেন। তবে নৈতিক স্খলন বা অন্য কোন অপরাধে আদালতে দ-িত হলেও কোন রাষ্ট্রপতি অবসরভাতা পাবেন না। এছাড়া সুপ্রীমকোর্ট কর্তৃক অসাংবিধান পন্থায় অবৈধ উপায়ে রাষ্ট্রপতি পদে অধিষ্ঠিত হয়েছেন বা হয়েছিলেন মর্মে ঘোষিত কোন ব্যক্তি অবসরভাতা বা অন্যান্য সুবিধা লাভের অধিকারী হবেন না বলেও প্রস্তাবিত আইনে বিধান রাখা হয়েছে।

উল্লেখ্য, জিয়াউর রহমান ১৯৭৭ সালের ২১ এপ্রিল থেকে ১৯৮১ সালের ৩০ মে পর্যন্ত ও হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ ১৯৮৩ সালের ১১ ডিসেম্বর থেকে ১৯৯০ সালের ৬ ডিসেম্বর পর্যন্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করেন। এ দুই সাবেক সেনা কর্মকর্তার শাসনামলকে অবৈধ ঘোষণা করেছেন সর্বোচ্চ আদালত।

স্থায়ী কমিটির রিপোর্ট উত্থাপন ॥ গত সংসদ অধিবেশনে উত্থাপিত ৫টি বিল পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষ করে সংসদে প্রতিবেদন জমা দিয়েছে সংশ্লিষ্ট সংসদীয় স্থায়ী কমিটিগুলো। অর্থ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় কমিটির সভাপতি মোঃ আবদুর রাজ্জাক ‘উন্নয়ন সারচার্জ ও লেভী (আদায় ও আরোপ) বিল-২০১৫ ও ‘বাংলাদেশ কয়েনজ (এ্যামেন্ডমেন্ট) বিল-২০১৫’, শিল্প মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় কমিটির সভাপতি ওমর ফারুক চৌধুরী ‘ট্রেডমার্ক (সংশোধন) বিল-২০১৫’, নৌ পরিবহন মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় কমিটির সভাপতি মেজর (অব.) রফিকুল ইসলাম (বীর উত্তম) পক্ষে কমিটির সদস্য তালুকদার আব্দুল খালেক ‘পোর্টস (এ্যামেন্ডমেন্ট) বিল-২০১৫’ এবং জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় কমিটির সভাপতি এইচ এন আশিকুর রহমান এর পক্ষে কমিটির সদস্য র আ ম ওবায়দুর মোকতাদির চৌধুরী ‘গণকর্মচারী (বিদেশী নাগরিকের সহিত বিবাহ) বিল-২০১৫’ সম্পর্কে প্রতিবেদন জমা দেন।

নির্বাচিত সংবাদ