১১ ডিসেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

পুঁজিবাজারে সূচকের সঙ্গে লেনদেন কমেছে

অর্থনৈতিক রিপোর্টার ॥ দেশের উভয় পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) ও চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই) মঙ্গলবার মিশ্র প্রবণতায় লেনদেন শেষ হয়েছে। তবে বেশিরভাগ কোম্পানির দর কমার কারণে উভয় বাজারেই লেনদেনের পরিমাণ আগের দিনের তুলনায় কমেছে। দিনটিতে জেড ক্যাটাগরির তিনটি কোম্পানি চাহিদার শীর্ষে চলে এসেছে। এছাড়া বেশ কিছু মৌলভিত্তি সম্পন্ন কোম্পানিরও মঙ্গলবারে দর বাড়তে দেখা গেছে। বিশেষ করে গত কিছুদিন ধরে যে কোম্পানিগুলোর দর বেশি কমেছে, সেগুলোরই চাহিদা বেশি ছিল।

বাজার পর্যালোচনায় দেখা যায়, সূচকের ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা দিয়ে দিনের লেনদেন শুরু“ হলেও ১৫ মিনিটের ব্যবধানে বিক্রয় চাপে সূচক হারাতে থাকে বাজার। তবে এরপর ঘুরে দাঁড়াতে শুরু করলে ঊর্ধ্বমুখী ধারায় ফিরে আসে বাজার। বেলা পৌনে একটা পর্যন্ত ঊর্ধ্বমুখী ধারা বজায় থাকলেও এরপর বড় ধরনের বিক্রয় চাপ তৈরি হয়। লেনদেনের শেষ অবধি বিক্রয় চাপ বজায় থাকায় অধিকাংশ কোম্পানির শেয়ারের দর কমে যায়। ফলে সোমবারের তুলনায় মূল্য সূচকের পতন দিয়ে শেষ হয় দিনের লেনদেন।

বাজার বিশ্লেষকরা জানান, ক্রমাগত দরপতনের কারণে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে হতাশা তৈরি হয়েছে। হতাশাগ্রস্ত বিনিয়োগকারীরা আরও লোকসানের ভয়ে হাতে থাকা শেয়ার ছেড়ে দিচ্ছেন। এতে বিক্রয় চাপ তৈরি হচ্ছে। কিন্তু ক্রেতা সংকটের কারণে দর হারাচ্ছে কোম্পানিগুলো। ফলে বাজারে দরপতনের ঘটনা ঘটছে।

ডিএসইর তথ্য অনুযায়ী, মঙ্গলবার ডিএসইতে ২৯৪ কোটি টাকার শেয়ার লেনদেন হয়েছে; যা আগের দিনের তুলনায় ২৭ কোটি টাকা কম লেনদেন। আগের দিন এ বাজারে ৩২১ কোটি ৯৩ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেন হয়েছে।ডিএসইতে লেনদেনে অংশ নেয় ৩১২টি কোম্পানি ও মিউচুয়াল ফান্ড। এর মধ্যে দর বেড়েছে ১০৩টির, কমেছে ১৬৪টির এবং অপরিবর্তিত রয়েছে ৪৫ টির শেয়ার দর।

সকালে বেশিরভাগ কোম্পানির দরবৃদ্ধির প্রবণতা দিয়ে শুরুর পরে ডিএসইএক্স বা প্রধান মূল্য সূচক ৬ পয়েন্ট কমে ৪ হাজার ৪১০ পয়েন্টে অবস্থান করছে। ডিএসইএস বা শরীয়াহ সূচক ২ পয়েন্ট কমে অবস্থান করছে এক হাজার ৬৬ পয়েন্টে। ডিএস৩০ সূচক ১ পয়েন্ট বেড়ে দাঁড়িয়েছে এক হাজার ৬৮১ পয়েন্টে।

ডিএসইতে লেনদেনের শীর্ষে থাকা দশ কোম্পানি হলো - তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন, ইফাদ অটোস, স্কয়ার ফার্মা, কাশেম ড্রাইসেলস, বেক্সিমকো ফার্মা, লাফার্জ সুরমা সিমেন্ট লিমিটেড, ইউনাইটেড পাওয়ার জেনারেশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেড, কেডিএস এক্সেসরিজ, এমারেল্ড অয়েল এবং সাইফ পাওয়ারটেক।

ডিএসইর দরবৃদ্ধির সেরা কোম্পানিগুলো হলো : নদার্ন জুটস, লিগ্যাসি ফুটওয়ার, জেমিনি সী ফুড, আইপিডিসি, মিথুন নিটিং, বিডি ওয়েল্ডিং, ইস্টল্যান্ড ইন্স্যুরেন্স, এএফি অ্যাগ্রো, ফারইস্ট ফাইনান্স ও ইউনাইটেড ইন্স্যুরেন্স।

দর হারানোর সেরা কোম্পানিগুলো হলো : আইসিবি, মোজাফফর হোসেন স্পিনিং, জাহিন স্পিনিং, এমারেল্ড ওয়েল, শ্যামপুর সুগার মিল, মিরাকল ইন্ড্রাস্টিজ, ফার্মা এইড, আমান ফিড, পদ্মা লাইফ ও স্ট্যান্ডার্ড সিরামিক।

মঙ্গলবার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই) ১৯ কোটি টাকার শেয়ার লেনদেন হয়েছে। এদিন সিএসই সার্বিক সূচক ৩৪ পয়েন্ট কমে দাঁড়িয়েছে ১৩ হাজার ৪৬৮ পয়েন্টে। সিএসইতে মোট লেনদেন হয়েছে ২৩৮ টি কোম্পানি ও মিউচুয়াল ফান্ডের শেয়ার। এর মধ্যে দর বেড়েছে ৮৩টি কোম্পানির, দর কমেছে ১২০টির এবং অপরিবর্তিত রয়েছে ৩৫টি কোম্পানির।

সিএসইর লেনদেনের সেরা কোম্পানিগুলো হলো : ইফাদ অটোস, কেডিএস এক্সেসরিজ, ইউনাইটেড পাওয়ার, বে´িমকো, স্কয়ার ফার্মা, তিতাস গ্যাস, লাফার্জ সুরমা সিমেন্ট, বিএসআরএম লিমিটেড, বিকন ফার্মা ও বাংলাদেশ সাবমেরিন ক্যাবল কোম্পানি লিমিটেড।