২৫ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

রাজন-রাকিব হত্যা মামলা ॥ ছয়জনের ডেথ রেফারেন্স হাইকোর্টে

অনলাইন ডেস্ক ॥ সিলেট ও খুলনায় নিহত শিশু শেখ সামিউল আলম রাজন (১৪) ও রাকিব (১২) হত্যা মামলায় মৃত্যুদণ্ডাদেশ অনুমোদন বিষয়ক (ডেথ রেফারেন্স) নথিপত্র এখন সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্টে।

মঙ্গলবার এই নথিপত্র এসে পৌঁছায় বলে সাংবাদিকদের জানিয়েছেন হাইকোর্ট বিভাগের অতিরিক্ত রেজিস্ট্রার সাব্বির ফয়েজ।

গত রবিবার রাজন ও রাকিব হত্যা মামলার পৃথক রায়ে ছয়জনের ফাঁসির আদেশ দিয়েছেন আদালত।

বহুল আলোচিত এই হত্যাকাণ্ড দুটির দণ্ডাদেশকে দেশের ইতিহাসে দ্রুততম সময়ের মধ্যে রায় ঘোষণার নজির বলে অভিহিত করা হচ্ছে। হত্যা মামলা দুটির রায় যথাক্রমে ১৭ বিচারিক কার্যদিবস ও ১০ বিচারিক কার্যদিবস শেষে ঘোষণা করা হয়।

রাজন হত্যা মামলা ॥ সিলেটের সামিউল আলম রাজন হত্যা মামলার ১৩ আসামির মধ্যে প্রধান আসামি কামরুল ইসলামসহ চারজনের ফাঁসির আদেশ দিয়েছেন আদালত। এ ছাড়া একজনের যাবজ্জীবন, তিনজনের সাত বছর করে এবং দুজনের এক বছর করে কারাদণ্ডাদেশ দেওয়া হয়েছে। ফাঁসির সাজা পাওয়া অন্য তিন আসামি হলেন চৌকিদার সাদেক আহমদ ওরফে বড় ময়না (৩৫), তাজউদ্দিন আহমদ ওরফে বাদল (২৪) ও জাকির হোসেন ওরফে পাভেল ওরফে রাজু মিয়া (২০)। জাকির হোসেন পলাতক রয়েছেন। সিলেট মহানগর দায়রা জজ আদালতের বিচারক মোঃ আকবর হোসেন মৃধা ওই রায় দেন।

এই মামলায় যাবজ্জীবন দণ্ডাদেশ পাওয়া ব্যক্তি হলেন ঘটনার ভিডিওচিত্র ধারণকারী নূর আহমদ ওরফে নূর মিয়া (২০)। তাঁকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে দুই মাসের সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

সাত বছর কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে কামরুলের তিন ভাই মুহিত আলম, আলী হায়দার ওরফে আলী ও শামীম আহমদকে। শামীমও পলাতক রয়েছেন।

এ ছাড়া নির্যাতনের প্রত্যক্ষদর্শী দুলাল আহমদ ও আয়াজ আলীকে এক বছরের সশ্রম কারাদণ্ড এবং এক হাজার টাকা করে জরিমানা করা হয়েছে। প্রত্যক্ষদর্শী ফিরোজ আলী, আজমত উল্লাহ ও রুহুল আমিনের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় তাঁদের বেকসুর খালাস দেওয়া হয়েছে।

চলতি বছরের ৮ জুলাই চুরির অপবাদ দিয়ে কুমারগাঁও বাসস্ট্যান্ড-সংলগ্ন শেখপাড়ায় পিটিয়ে হত্যা করা হয় জালালাবাদ থানার বাদেয়ালি গ্রামের শিশু রাজনকে। এই ঘটনায় পুলিশ বাদী হয়ে জালালাবাদ থানায় মামলা করে। ১৬ আগস্ট ১৩ জনকে অভিযুক্ত করে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়। ঘটনার পরপরই সৌদি আরবে পালিয়ে যাওয়া আসামি কামরুলকে সৌদি কর্তৃপক্ষের সহায়তায় গত ১৫ অক্টোবর ফিরিয়ে আনা হয়।

আদালত সূত্র জানায়, চলতি বছরের ৭ সেপ্টেম্বর মামলাটি বিচারের জন্য মুখ্য হাকিম আদালত থেকে মহানগর দায়রা জজ আদালতে স্থানান্তরিত হয়েছিল। ১ থেকে ২৭ অক্টোবর পর্যন্ত মোট ১৭ কার্যদিবসে মামলার বিচার-প্রক্রিয়া শেষ হয়।

রাকিব হত্যা মামলা ॥ খুলনার রাকিব হত্যার ঘটনায় প্রধান দুই আসামি মোঃ শরীফ ও মিন্টু খানের ফাঁসির আদেশ দিয়েছেন খুলনা মহানগর দায়রা জজ আদালত। অপর আসামি বিউটি বেগমকে বেকসুর খালাস দেওয়া হয়েছে।

১০ কার্যদিবসে বিচার-প্রক্রিয়া শেষ করে আলোচিত এ মামলার রায় ঘোষণা করেন বিচারক দিলরুবা সুলতানা।

খুলনার টুটপাড়ায় শরীফ মোটরস নামের গ্যারেজে চলতি বছরের ৩ আগস্ট বিকেলে মোটরসাইকেলের চাকায় হাওয়া দেওয়ার কাজে ব্যবহৃত কমপ্রেসর মেশিনের নল রাকিবের মলদ্বারে ঢুকিয়ে শরীরের ভেতরে ঢোকানো হয়। এতে সে গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়ে এবং ওই দিন রাত ১০টার দিকে মারা যায়।